এডিস মশা খুঁজতে সব বাড়িতে অভিযান নয়: খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ২৩:৫৭ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৮, ১৬:৩৭

এডিস মশার ‘প্রজনন ক্ষেত্র’ খুঁজতে সব হোল্ডিংয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। বলেছেন, শুধু নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪ এ কাজী আলাউদ্দিন রোডের মশার বংশ বিস্তার রোধে ড্রেনে গাপ্পি মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মেয়র খোকন।

মেয়র বলেন,  ‘আমরা কোনো নাগরিককে হয়রানি করতে চাই না, তবে মশার বিস্তার রোধে এই কার্যক্রম শক্ত হাতে পরিচালনা করা হবে। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করব।’

এর আগে গতকাল সোমবার নগর ভবনে এক সেমিনারে বাসা-বাড়িতে এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে জেল ও জরিমানা করার কথা জানান মেয়র খোকন। বলেন, ‘বাসাবাড়িতে এডিস মশা ‘প্রজননের ক্ষেত্র’ থাকলে জেল-জরিমানা হবে মালিকের। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে মশার ‘প্রজনন ক্ষেত্রের’সন্ধানে বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।’

তার এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর মেয়র আজ জানালেন সব বাড়িতে অভিযান চালানো হবে না। 

কোন প্রক্রিয়ায় এডিস মশা শনাক্ত করার জন্য বাড়িতে অভিযান চালানো হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই অভিযান পরিচালনা করবেন ডিএসসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ‘স্বচ্ছ ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ড্রেনে ১০ হাজার গাপ্পি মাছ অবমুক্ত করা হয়। কিউলেক্স মশার ডিম ধ্বংসকারী এই গাপ্পি মাছ পাইলট প্রকল্প হিসেবে অবমুক্ত করা হয়, এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৪৫০ কিলোমিটার নালায় গাপ্পি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মশা নিধনে ব্যবহৃত হয় পোয়েসিলা রেটিকুলাটা প্রজাতির গাপ্পি মাছ। এই মাছ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে। সবধরনের আবহাওয়ায় এ মাছ দ্রুত মানিয়েও নিতে পারে।

মেয়র খোকন বলেন, ‘১০ হাজার গাপ্পি মাছ ডিএসসিসির অঞ্চল-৪ এর নালা-নর্দমা-ড্রেনে উন্মুক্ত করে ফলাফল দেখা হবে। যদি ইতিবাচক ফলাফল দেখি তাহলে সব অঞ্চলে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে এই প্রকল্প শুধু কিউলেক্স মশার জন্য, এডিস মশার জন্য নয়।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘ঢাকার প্রথম মেয়র মো. হানিফ দায়িত্বে থাকাকালীন এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন। তখন কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল। কারণ কিউলেক্স মশা নালা-নর্দমা ও ড্রেন বংশ বিস্তার করে। তাই আবারও এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হলো। তবে গাপ্পি মাছে চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা নিধন হবে না।’

ডিএসসিসির অধিকাংশ ড্রেন শুকিয়ে গেছে, কীভাবে গাপ্পি মাছের বাঁচবে এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘গত বছরে নভেম্বর থেকে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে এপ্রিলে। এ দিকে আমাদের নজর থাকবে। মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখার জন্য এডিস মশার উৎপত্তিস্থলে অভিযান চালানো হবে।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘এডিস মশা স্বচ্ছ পানিতে জন্ম নেয়। মূলত বাসা-বাড়ির বদ্ধ স্বচ্ছ পানিতে এই মশার বংশ বিস্তার করে। এজন্য বাসা-বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। নাগরিকদের মশাবাহিত রোগের হাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য আগামী ৮ এপ্রিল থেকে ডিএসসিসি এলাকায় নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

নাগরিকদের এই বিশেষ অভিযানকে নেতিবাচবভাবে না দেখার অনুরোধ জানিয়ে মেয়র খোকন বলেন, ‘আমরা সচেতনতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি চালু করছি। এক লাখ ৬০ হাজার বাড়ির মালিকদের লিফলেট বিতরণ করা হবে। আগামীকাল থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

মেয়র বলেন, ‘সব বাসা-বাড়ির মালিকদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য অনুরোধ করছি, না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এডিস মশার আবাস্থল দেখা গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গাপ্পি মাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/জিএম/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত