কারাগারে মাদক রুখতে কঠোর হতে বললেন রাষ্ট্রপতি

গাজীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৬ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৮, ১৬:৪৯

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘কারাগারে আগত বন্দিদের বড় একটি অংশ মাদক মামলায় আটক। এ সকল মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে কারাগারে থেকে মাদক সেবন বা মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে তার জন্য আপনাদের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারা সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কারা প্রশাসনের কেউ যাতে এসব অনৈতিক কাজে জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারেও কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, একজন বন্দি যখন কারাগারে প্রবেশ করে তখন তার সব দায়দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের।

কারাসপ্তাহ উপলক্ষ্যে গত রবিবার (১৮ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেছিলেন, কারাগারে বন্দী তিন জনের এক জনই মাদকে আসক্ত। আর কারাগারে এসব মাদক পাচারের সঙ্গে কারারক্ষীরাও জড়িত। এ পর্যন্ত অন্তত ২০ কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইফতেখার উদ্দীন আরও জানিয়েছিলেন, কারাগারে পেঁয়াজ, রশুনের বস্তার ভেতরে পাচারের সময় মাদক ধরা পড়েছে। এর বাইরেও নানা অভিনবভাবে মাদক নিয়ে যাওয়া হয়। শুকনা মরিচের ভেতরে, সাবানের ভেতরে, পেঁয়াজের ভেতরে, টুথপেস্টের ভেতরে ইয়াবা নিয়ে আসে। এসব প্রতিরোধে বেশ কিছু কারাগারে লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো বডি স্ক্যানারও বসানো হচ্ছে কারাগারেই।’

তার এ বক্তব্যের দুদিন পরই আজ রাষ্ট্রপতি কারাগারে মাদক পাচার রুখতে কঠোর হতে বললেন।

দীর্ঘদিন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের মুক্তির পূর্বে পুনঃসামাজিকীকরণ এবং মুক্তির পর নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশ বিশেষ করে পার্শ¦বর্তী দেশের অনুসরণে ‘উন্মুক্ত কারাগার’ নির্মাণের পরিকল্পনাকে একটি সময়োপয়োগী পদক্ষেপ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে বন্দিদের প্রাকমুক্তি পারিবারিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে এবং তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে যা পুনঃঅপরাধ রোধে সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আব্দুল হামিদ বলেন, কারাগারে কেবল অপরাধী নয়, রাজবন্দি হিসেবে অনেক নেতাকর্মীকে জেলে কাটাতে হয়। আমাদের জাতির পিতাকেও রাজনৈতিক কারণে ১৪ বছরের অধিক সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা তার জীবনের ২৯ বছর নির্জন কারাগারে কাটাতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, জাতির দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতায় আমাদের জাতীয় চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে প্রাণ দিতে হয়। রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময়ে আমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আমি ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলাম। তাই কারাগারের জীবন সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতাও কম নয়।
কারা সপ্তাহ ২০১৮ এর উপজীব্য ‘সংশোধন ও প্রশিক্ষণ, বন্দির হবে পুনর্বাসন’ এ ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের কারা ব্যবস্থপনা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে কারা সপ্তাহের উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে বেলুন উড়িয়ে কারা সপ্তাহে সূচনা করেন এবং কারারক্ষীদের প্রদর্শিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম প্রহণ করেন। পরে কারাগারকে নিরাপদ রাখার কাজে সাফল্যজনক কর্মকা-ের জন্য শ্রেষ্ঠ সাত কারা কর্মকর্তাকে ক্রেস্ট প্রদান করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা ও সুরক্ষা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কারামহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনসহ কারা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/প্রতিনিধি/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত