শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর কয় দিন, জিজ্ঞাসা মওদুদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ২১:৫৯ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৮, ২১:৫৫

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আর কতদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে, তা জানতে চেয়েছেন দলেরই স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট দেশের উচ্চতর আদালত আমরা পছন্দ করি আর না করি তাদের রায় আমাদের মেনে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তার সাথে সাথে সময় আসছে, কতদিন আর আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব?’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মওদুদ আহমদ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আয় আসার পর থেকে বিএনপি যত কর্মসূচি দিয়েছে তার সবই শান্তিপূর্ণ। তবে ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে দলের সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল আর এ নিয়ে এখনও সমালোচনা করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

গত ২৫ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণার দিনই বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদার সাজা হলে দেশে আগুন জ্বালানোর ঘোষণা এসেছিল। তবে রায়ের দিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে হঠকারী কর্মসূচি না দিতে বলেছেন।

মওদুদ বলেন, ‘একটা পর্যায় আসবে দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর চাইবে না। তখন বাধ্য হয়ে আমাদেরকে তাদের সাথে থাকতে হবে।’

‘তাই এটুকু বলতে চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আবারও ফিরে আসবে।’

মওদুদ বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জোড় করে পদত্যাগে বাধ্য করায় দেশের কোনো বিচারপতির মুক্ত মনে বিচার করার সাহস নেই।’

‘এই সরকারের আমলে যদি বাংলাদেশের সব চাইতে বড় কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে- সেটা হল বিচার বিভাগের সমস্ত উচ্চতর আদালত বলেন, আর নিম্ন আদালত বলেন অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাটা এই সরকার ছিনিয়ে নিয়েছে নানা কলাকৌশলে। তাই ইতিহাসে তারা (সরকার) কলঙ্কিত হয়ে থাকবেন।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘সরকার জানে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলে অসম্ভব অবস্থা সৃষ্টি হবে বাংলাদেশে। তাই যতদিন যাবে সরকারই ততই চেষ্টা করবে তাকে কারাগারে রাখার জন্য।’

‘কিন্তু কারাগারে বেগম জিয়াকে বেশিদিন রাখা সম্ভব হবে না। রাজনীতিবিদ হিসাবে এটা তার (খালেদা) চ্যালেঞ্জ।’

বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি যতই বিলম্বিত হবে ততই তার জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ।

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি লাভে সরকারের কোনো ধরনের কৃতিত্ব নেই বলেও মনে করেন মওদুদ। বলেন, ‘বাংলাদেশ এই মাসে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তার মানে আমরা এতোদিন অনুন্নত দেশ ছিলাম। আমাদের সমপর্যায়ী দেশ থাইল্যান্ড, মিয়ানমার অনেক আগেই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে।’

‘এখানে সরকারের এমন একটা ভাব যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এটা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের বিজয়।’

 ‘যারা লুটপাট করেছে তারা উন্নয়নশীল স্বীকৃতিতে গর্ববোধ করছে। কিন্তু দেশের ১৬ কোটি মানুষের কোনো উন্নয়ন হইনি।’

‘এক লক্ষ নতুন বেকার তৈরি হয়েছে, এখনও দেশে তিন কোটি লোক দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এক কিলোমিটার পথ যেতে দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত