বাবার শূন্যতায় রাজধানীতে বেড়ে উঠছে একরামের সন্তানেরা

আরিফ আজম, ফেনী থেকে
| আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৮, ০৯:৩২ | প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৮, ০৮:২৮

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার রায় হয়েছে গত ১৩ মার্চ। দেশের ইতিহাসে একটি হত্যা মামলায় ৩৯ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম। প্রায় চার বছর আগে প্রতিপক্ষের নিষ্ঠুর পৈশাচিকতার শিকার হয়ে একরাম পরপারে পাড়ি দিলেও এখনো তাকে খুঁজে বেড়ায় তার তিন সন্তান। অন্য সহপাঠীদের যখন বাবার সঙ্গে দেখে তখন নিজের বাবার জন্য তাদের মন খারাপ হয়।

একরাম পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরেই একরামের সন্তানদের নিয়ে রাজধানীতে থাকছেন স্ত্রী তাসমিন আক্তার। বড় সন্তান আদনাইন তাজওয়ার হক তাহসিন রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণি এবং আফরা জারিন সুবা হক আরেকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। তার আরেক সন্তান নামিরা জারিন তাহা হকের বয়স সাড়ে তিন বছর।দুই সন্তান অবুঝ বয়সে বাবার আদর-স্নেহ পেলেও তা থেকে বঞ্চিত হয় নামিরা জারিন তাহা হক। ২০১৪ সালে তার বাবাকে যখন নির্মমভাবে খুন করা হয় তখন তার জন্ম হয়নি। মাত্র ছয় মাসের গর্ভে।

একরামের পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ার বাড়িতে একরাম বেড়ে উঠলেও শৈশব থেকেই তার সন্তানদের বসবাস শুরু হয় রাজধানীতে। যে বাড়িতে রাত-দিন অসংখ্য নেতাকর্মীর আনাগোনা ছিল সেই বাড়িটি এখন ফাঁকা। বাবা একরামের এমন বীভৎস ঘটনার টের না পেতে তাদের নিজ জেলা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়।

আপাদমস্তক রাজনীতিক একরামের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে উঠেন তাসমিন আক্তার। সন্তানদের আগলে রেখে সেই নৃশংসতা ভুলে থাকতে চান অকালে স্বামীহারা তিন সন্তানের এই জননী। মাঝেমধ্যে সন্তানদের নিয়ে ফেনী ও ফুলগাজীর বাড়ি ঘুরে যান। বহুল আলোচিত হত্যা মামলাটির রায়ের দিনও আদালতে তাসমিন আক্তারসহ একরামের স্বজনরা ছিলেন অনুপস্থিত।

রায়ের পর তাসমিন আক্তার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘একরাম হত্যার রায়টি ফেনীসহ দেশবাসী জেনেছে। এ রায় নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। রায় নিয়ে মন্তব্য করে আমার সন্তানদের হুমকির মুখে ফেলতে চাই না।’ রাজনীতির কারণে অন্যায়ভাবে কোনো স্ত্রী যেন স্বামীহারা কিংবা কোনো সন্তান যেন বাবাহারা না হয় সে প্রত্যাশা তার।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এক সময়ের সন্ত্রাস-সহিংসতার ভয়াল জনপদ ফেনীতে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও অতীতের সব বর্বরতাকে ছাড়িয়ে যায় এই হত্যাকাণ্ডটি।

গত ১৩ মার্চ এই মামলার রায়ে চার্জশিটভুক্ত ৫৬ আসামির ৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। অন্য আসামি রুটি সোহেল র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যান।

(ঢাকাটাইমস/২১মার্চ/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত