মামলা প্রত্যাহার না হলে রাকায়েতের বাড়ি ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৮, ২৩:০১ | প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৮, ২২:১০

সংগীতা ঘোষের বিরুদ্ধে করা মামলা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করলে নাট্যকার ও পরিচালক গাজী রাকায়েতের বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেয়া শাহবাগের এক মানববন্ধনে।

বুধবার বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘হ্যাসট্যাগ সংহতিসংগীতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

ফেসবুক আইডি থেকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথোপকথনের' স্ক্রিনশট প্রকাশ করার অভিযোগে সংগীতা ঘোষের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন নাট্যকার ও পরিচালক গাজী রাকায়েত। এর প্রতিবাদে আজ বুধবার ওই মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধন থেকে আরও কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়: #সংহতিসঙ্গীতা হ্যাশট্যাগে শত অ্যাক্টিভিস্টের আইডি থেকে আলোচিত সেই স্ক্রিনশটগুলো প্রচার করে একসঙ্গে গাজী রাকায়েতের মামলা খাওয়া। গাজী রাকায়েতের স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশ ও সেগুলো বর্জন। ৩১ মার্চ বিকালে শাহবাগে বৃহত্তর সমাবেশ।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গাজী রাকায়েত এক নারীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে আপত্তিকর মেসেজ দেন। তা প্রকাশ হওয়ার পর এর জন্য দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো ৫৭ ধারায় মামলা করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে রাকায়েত আরও একটি অপরাধ করেছেন বলে বক্তারা বলেন।

 তারা বলেন, গাজী রাকায়েত যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার ও ক্ষমা না চান তাহলে তার বাড়ি ঘেরাও করা হবে। এ সময় তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মানবাধিকারকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট সংগীতা ফেসবুক মেসেঞ্জারে গাজী রাকায়েতের সঙ্গে এক নারীর কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। সংগীতা জানান, তার এক ফেসবুক বন্ধুর কথোপকথন এটি। ওই নারী বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যায় এই স্ক্রিনশট প্রকাশ না করায় তিনি সেটি প্রকাশ করেন।

এরপর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গাজী রাকায়েত প্রথমে দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি পরিচিত আরও কয়েকজন ব্যবহার করেন, তাদেরই কেউ এই কাজ করে থাকতে পারেন। পরবর্তী সময়ে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথোপকথনের' স্ক্রিনশট প্রকাশ করার অভিযোগে গত ১৬ মার্চ ওই তরুণীর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন নাট্যকার ও পরিচালক গাজী রাকায়েত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইকেল বনিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১৬ তারিখ রাতে নাট্যকার গাজী রাকায়েত ৫৭(২) ধারায় একটি ফেসবুক লিংকের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখছি আমরা।’

রাকায়েত অভিযোগ করেন, ‘গত ৯ মার্চ দুপুরে এক তরুণী ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অশ্লীল, ইঙ্গিতপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কয়েকটি কথোপকথনের সংলাপ ছবি আকারে প্রকাশ করে।’

এজাহারে গাজী রাকায়েত উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, ‘এই সংলাপের ছবিসংবলিত অ্যালবাম অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আমার অর্জিত সম্মানকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এ ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।’

গাজী রাকায়েতের মামলার প্রতিবাদে আজ শাহবাগে  মানবন্ধন ও সমাবেশ হয়। 

গাজী রাকায়েতকে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সমাবেশে সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক অঞ্জন রায় বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে গাজী রাকায়েতকে। তা না হলে আমরা তার বাড়ি ঘেরাও করব।’

অনলাইন নিউজপোর্টাল বিবার্তা২৪ডটনেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি বলেন, ‘গাজী রাকায়েতের কুরুচিপূর্ণ কথা প্রকাশ পেলে তিনি একসময় বলেন তার ফেসবুক কাজের ছেলে চালায়, আর এক সময় বলেন হ্যাক হয়েছে। আমাদের সময় হয়েছে গাজী রাকায়েতের মতো ভদ্রলোকের লেবাস পরা মুখোশধারী মানুষের মুখোশ উন্মোচন করা। গাজী রাকায়েত অপরাধ করে আবার মামলাও করেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম বলেন, ‘আমরা ৫৭ ধারা বাতিলে আন্দোলন করছি। আর সেই ৫৭ ধারাতেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হলো একজন নারীর বিরুদ্ধে। যিনি মামলা দিলেন তিনি একজন শিল্পী। এটা সত্যিই লজ্জ্বাকর।

গাজী রাকায়েতকে ক্ষমা চাওয়ার তাগিদ দিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও গণজাগরণ আন্দোলনের নেত্রী লাকী আক্তার বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি গাজী রাকায়েত মামলা প্রত্যাহার না করে তাহলে তিনি পালানোর জায়গা পাবেন না।’

অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইউম ভিকটিম মেয়েটির সঙ্গে তার দেখা ও আলাপ হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে তার যমজ দুই সন্তান মারা গেছে। গাজী রাকায়াত তার কাছে সেলিব্রেটি, সেই সেলিব্রেটি যখন তাকে কুপ্রস্তাব দেয় এমনিতেই মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এ ঘটনার পর গাজী রাকায়েতের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

রাকায়েতের উদ্দেশে হাসনাত কাইউম বলেন, ‘এখনো সময় আছে, অবশিষ্ট সম্মান নিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার। তা না হলে এটুকুও থাকবে না। আমরাও আপনার বিরুদ্ধে মামলা করব।’

(ঢাকাটাইমস/২১মার্চ/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত