কাঠমান্ডু ট্র্যাজেডি: স্ত্রীর পাশে সমাহিত হবেন মুক্তিযোদ্ধা নজরুল

রিমন রহমান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৮, ২০:৪৪

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম তার স্ত্রীর কবরের পাশেই সমাহিত হবেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজশাহী মহানগরীর গোরহাঙ্গা কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।

নিহত নজরুল ইসলাম নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা। বিমান দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী আক্তারা বেগমও নিহত হয়েছেন। মরদেহ দেশে আসার পর গত মঙ্গলবার দাফন করা হয় তাকে। তবে মরদেহ শনাক্তে জটিলতার কারণে নেপাল থেকে নজরুল ইসলামের মরদেহ এলো পরে।

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ গত সোমবার দেশে আসে। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে নিহত নজরুল ইসলাম, অলিফউজ্জামান ও পিয়াস রায়ের মরদেহ দেশে আসে। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করে স্বজনরা বাড়ির পথে রওনা হন।

সন্ধ্যায় নিহত নজরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, নজরুল ইসলামের দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন। এই বাড়িটিতে শুধু নজরুল-আক্তারা দম্পতিই থাকতেন। গত মঙ্গলবার আক্তারা বেগমকে দাফনের দিন দুই মেয়ে বাড়িটিতে এসেছিলেন। পরে তারা আবার ঢাকায় চলে গেছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নিহত নজরুল ইসলামের জামাতা অ্যাডভোকেট ইমরান আলী জানান, দুই মেয়ে ও তারা কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ঢাকা থেকে নজরুল ইসলামের মরদেহ নিয়ে আসছেন। রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত তারা গাজীপুর এসেছেন।

ইমরান আলী জানান, মরদেহ প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় নিহত নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। শুক্রবার সকাল ১০টায় সেখানে নিহতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ রাজশাহী এনে জুমার নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা হবে। পরে গোরহাঙ্গা কবরস্থানে নজরুল ইসলামকে তার স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হবে।

নিহত মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম ছিলেন রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হাসান ইমাম ও নজরুল ইসলাম দুই বন্ধু ছিলেন।

এই দুই বন্ধু তাদের স্ত্রীদের নিয়ে যাচ্ছিলেন নেপাল বেড়াতে। কিন্তু নেপালের মাটিতে পা রাখার আগেই বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন তারা। হাসান ইমামের স্ত্রীর নাম বেগম হুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু। এই দম্পতি নগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার ওই বিমানে রাজশাহীর তিন দম্পতিসহ মোট সাতজন ছিলেন। অন্য তিনজন হলেন- রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরানা কবির হাসি, তার স্বামী রকিবুল হাসান ও নগরীর নওদাপাড়া এলাকার গোলাম কিবরিয়ার নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু।

রাজশাহীর এই সাতজনের মধ্যে বেঁচে আছেন শুধু হাসি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলছে তার। হাসির হাতের কয়েকটি আঙ্গুল কেটে ফেলতে হয়েছে বলে জানা গেছে। আর নিহত হাসান, তার স্ত্রী বিলকিস ও মিতুকে দাফন করা হয়েছে ঢাকায়। রকিবুলের মরদেহ দাফন করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে।

গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭১ জন যাত্রী নিয়ে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন বিমানের পাইলট ও কো-পাইলটসহ ৫১ জন। এদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। তাদের স্মরণে ১৫ মার্চ দেশে পালিত হয় রাষ্ট্রীয় শোক।

(ঢাকাটাইমস/২২মার্চ/আরআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত