ফেসবুক-কাণ্ড ফাঁস করে বিপত্তিতে ওয়াইলি

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, ঢাকাটাইমস, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৮, ০৯:৪০

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। কারণ ফেসবুকের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে ক্যামব্রিজ অ্যানলাইটিকা নামের একটি সংস্থা। আর এ তথ্য তারা কাজে লাগিয়েছে গত মার্কিন নির্বাচনে।

এ তথ্য জানিয়ে এত বড় কেলেঙ্কারি সামনে এনেছেন যিনি এখন তিনিই বিপদে পড়েছেন। ক্রিস্টোফার ওয়াইলি নামের কানাডীয় এই তরুণ গবেষক ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার সাবেক কর্মী।

এ ঘটনার ফাঁস করার পর ওয়াইলির ভেবেছিলেন, মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা অন্তত ওই ‘যন্ত্রণাদায়ক সত্য’ উদ্ঘাটনে তার সঙ্গী হবে। হয়তোবা ফেসবুকের ‘গোপনীয়তা নীতি’তে কিছু পরিবর্তন ঘটানো হবে।

কিন্তু কোথায় কী? যৌথ বিবৃতি দেয়া দূরে থাক, গত শনিবার ওয়াইলি দেখলেন, ফেসবুকের ব্লগ পোস্টে তার, তার প্রাক্তন মালিক এবং আরও একজনের সাসপেন্ড হওয়ার কথা লেখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০১8-র এক ঘটনায় ফেসবুকের তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত সপ্তাহের ওই বিস্ফোরক ঘটনার পরে ২৮ বছরের ওয়াইলি জানান, ‘আমি ফেসবুককে আক্রমণ করতে নামিনি। ফেসবুক অবিশ্বাস্য রকমের অসহযোগিতা করেছে। ওরা না সংবাদমাধ্যমকে সম্মান করছে। না এই সমালোচনাকে ইতিবাচক চোখে দেখে নিজেদের উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।'

সম্প্রতি এক মার্কিন পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন কেমব্রিজ অ্যানালিটিকায় তথ্য বিশ্লেষণ কীভাবে হত। এছাড়া তিনি দেখলেন যে ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার সবচেয়ে বড় গ্রহিতা ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৫ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রচার ম্যানেজার কোরি লেওয়ান্ডোস্কির সঙ্গে ওয়াইলির সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে দাবি করেছেন। কিন্তু লেওয়ান্ডোস্কি তা অস্বীকার করেছেন।

এছাড়া ওয়াইলি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অ্যানালাইটিকার সংগৃহীত এবং ব্যবহৃত তথ্য রাশিয়ার হাতে গিয়ে থাকতে পারে। কারণ, মার্কিন ভোটারদের নিয়ে সংগৃহীত তথ্য রুশ তৈল সংস্থা লুকঅয়েল-কে জানাত অ্যানালাইটিকা।

এতদিন পরে কেনো তিনি এসব বললেন? এর জবাবে ওয়াইলি জবাব, ‘ভুলের পরে উচিত কাজ হল, তার দায় নেওয়া এবং সবাইকে জানানো। আমি প্রথম কাজটাই করছি।'

ওয়াইলি জানান, সিইও অ্যালেকজান্ডর নিক্সের নির্দেশে একটি অ্যাপের মাধ্যমে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। যা জানতেন ট্রাম্পের তৎকালীন পরামর্শদাতা স্টিভ ব্যানন।

তিনি আরও জানান, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ-মার্কিন মনোবিদ, আলেকজান্দার কোগান ওই অ্যাপ (দিসইসইওরডিজিটালঅ্যাপ) তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। নিয়মিত রাশিয়াও যেতেন। তবে কোগান ওয়াইলির একথা অস্বীকার করেছেন।

ঢাকাটাইমস/২৩মার্চ/একে/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত