খালেদাকে নিয়ে বিএনপিতে নানা আলোচনা, গুঞ্জন

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:৫৪
ফাইল ছবি

কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘অসুস্থতা’কে ঘিরে রাজনীতিতে নতুন কিছু হচ্ছে কি না এ নিয়ে বিএনপিতে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কী হতে যাচ্ছে তা জানা বোঝার চেষ্টায় দুই দিন ধরে এখানে ওখানে যোগাযোগ করছেন নেতা-কর্মীরা।

গুঞ্জনের শুরু শুক্রবার। কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তাকে বিদেশে চিকিৎসার দাবি জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এই কথায় সায় দেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া হঠাৎ যেকোনো কারণে বিদেশে গেলে সেটার ভিন্ন একটি অর্থ তৈরি হতে পারে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আর সেটা বিএনপির জন্য সুখকর নয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এতদিন চেষ্টা করছেন তার জামিন করাতে। নেতারা ব্যস্ত ছিলেন তার মুক্তির আন্দোলন শক্তিশালী করতে।

বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, সরকার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার কথা বলে বিদেশে পাঠাতে চায়। গত ১২ মার্চ কারাগারে দেখা করে মির্জা ফখরুল স্বয়ং খালেদা জিয়াকে এই প্রস্তাব দিয়ে এসেছেন বলে একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। ওই পত্রিকার খবর অনুযায়ী, খালেদা জিয়া বিদেশে চলে যেতে রাজি হলে এবং তাকে ছাড়া বিএনপি ভোটে এলে তার জামিনে সরকার বাধা দেবে না।

যদিও পরদিন মির্জা ফখরুল এক অনুষ্ঠানে এমন প্রস্তাব দেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তারপরও তার পক্ষ থেকেই বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে নেয়ার দাবি উঠার পর সেই সংবাদ নিয়ে আবার আলোচনা তৈরি হয়েছে। নেতা-কর্মীরা জানতে চাইছেন বিএনপি সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে চাইছে কি না।

এই গুঞ্জনের মধ্যে শুক্রবার বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার কয়েকজন স্বজন। তারা হলেন: তার বোন সেলিনা ইসলাম, ভাই শামীম এস্কান্দার, শামীমের স্ত্রী, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তাঁর মেয়ে। তবে তারা কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

এদের একজন ঢাকাটাইমসকে জানান, সাক্ষাৎকালে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলেও তিনি (খালেদা জিয়া) তা নাকচ করে দেন। উল্টো এ নিয়ে কথা বলায় কিছুটা ক্ষুব্ধও হয়েছেন।

বিএনপিতে নানা সন্দেহ

বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, হঠাৎ অসুস্থতার কথা বলে ২৮ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির না করা, মহাসচিবের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাতের অনুমতি না দেয়া, আবার অসুস্থতার কথা অস্বীকার করা, সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে সহযোগিতা করার বক্তব্যকে তাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।  

বিএনপি নেতাদের ধারণা, বিএনপি যেন দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারে সেজন্য ফখরুলকে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

২০ দলীয় জোটের বাইরে কয়েকটি দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত ছিল অনেকদিন আগের। এই বিষয়টি ছাড়াও দলীয় বেশ কিছু পরিকল্পনার বিষয়ে খালেদা জিয়ার মতামত নিতে ফখরুলের সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার কথা ছিল।

এছাড়াও অসুস্থতার কথা বলে খালেদা জিয়াকে চাপ প্রয়োগ করে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার চক্রান্ত করছে এমন সন্দেহ করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

একইসঙ্গে দলের ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সাংগঠনিকভাবে দলকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র হতে পারে এমনটাও ভাবছেন নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার এবং কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে বিএনপি নেতাদের সন্দেহ আরও পাকাপোক্ত হয়েছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া বা ফখরুলের সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। খালেদা জিয়ার কয়েকজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করলেও এখনো অনুমতি মেলেনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বাইরে চিকিৎসা নিতে যাবেন না এটা সিউর ধরে রাখুন। দেখেননি মঈন-ফখরুদ্দিন কম চেষ্টা করছে পারে নাই।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন সুস্থ না অসুস্থ, সে বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য নেই। তবে তিনি বেশ কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। আমরা তার চিকিৎসা চাই। তবে সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষের আচারণে এক ধরনের ষড়যন্ত্র দেখা যাচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে।’

মুক্তি পেলে তিনি বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাবেন কি না – এমন প্রশ্নের খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) অনেকদিন ধরে বিদেশে চিকিৎসা হয়েছে। সেগুলোর ফলোআপের দরকার আছে। তারপরও মুক্তি পাওয়ার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় চিকিৎসা করাবেন। কিন্তু এখানে বিদেশ যাচ্ছেন বলে যা প্রচার করা হচ্ছে এটা ঠিক না। কারণ মহাসচিব গতকালকেই পরিষ্কার করেছেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।’

এদিকে শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাদের নেত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের তোলা দাবিটি বিকৃতভাবে এসেছে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর উঠা গুঞ্জনের বিষয়টিতে কান না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে রিজভী বলেন, ‘গুঞ্জন পরিবেশ নষ্ট করে।’

(ঢাকাটাইমস/০১এপ্রিল/বিইউ/ডব্লিউবি/জেবি)

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত