মনিব নয় ভৃত্যের মানসিকতায় জনসেবা করব: দোলন

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০৮ | প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল ২০১৮, ২২:১৬

একজন জনপ্রতিনিধি কখনো মনিব হতে পারে না, তাকে জনগণের ভৃত্য হিসেবে কাজ করতে হয় বলে  মনে করেন কৃষক লীগের সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফুর রহমান দোলন। তিনি বলেছেন, জনগণ তাকে সাংসদ নির্বাচিত করলে তিনি মনিব নয় ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে জনসেবা করবেন।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের মহিশালা গ্রামের কামাল উদ্দিন শেখের বাড়িতে এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে দোলন তার সঙ্গে এই এলাকার অনেকের ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং তাকে সেখানে সমাবেশের আমন্ত্রণ জানানোর কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানান।

আজকের বৈঠকের আগে থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। এই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সভাস্থলে সমবেত হয় শত শত জনতা।

অধীর আগ্রহে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দোলন তার রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে এসেছি মানুষের সেবা করার জন্য। আপনাদের সেবা করার জন্য। আমি মনে করি, জনগণ হলো মনিব। আর আমরা যারা জনপ্রতিনিধি হতে চাই, আমরা হলাম ভৃত্য। এই মানসিকতা নিয়ে যদি কাজ করি, তাহলে জনসেবা করা সম্ভব।’

এ সময় তিনি একজন এমপির বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এ সুবিধা কেন দেয়া হয়? মনিব জনগণের ভৃত্য হিসেবে তাদের সেবা করার জন্য সরকার জনপ্রিতিনিদের এই সুবিধা দেয়।’ 

কিন্তু কোনো কোনো জনপ্রতিনিধির মধ্যে জনগণকে উল্টাভাবে ভাবতে চাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা উপেক্ষিত থেকে যায়। ফরিদপুর-১ আসনের ক্ষেত্রে বর্তমানে এমনটাই মনে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন-প্রত্যাশী দোলন সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে এই জনপদের মানুষ উপেক্ষিত, অবহেলিত- এ রকম মনে হচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনা আপনাদের বঞ্চিত রাখতে চান না। বঙ্গবন্ধু-কন্যা সারা দেশের উন্নয়ন করছেন। এ জনপদের উন্নয়ন আরও বেশি করে হোক সেটি চাচ্ছেন। তবে সরকারের কাছে গিয়ে সেই সুবিধা ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ আনতে হবে এলাকার জনপ্রতিনিধিকে। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধি যখন নিজেকে ভৃত্যের পরিবর্তে মনিব ভাবে, তখন তো আর জনগণের জন্য কাজ করার মানসিকতা থাকে না।’

কৃষক লীগের অন্যতম সহসভাপতি বলেন, ‘আমি মনে করি, যিনি আগামীতে জনপ্রতিনিধি হবেন, যিনি এমপি হবে, উপজেলা চেয়ারম্যান হবেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবে, মেম্বার হবেন, তাকে অবশ্যই এই শপথ করতে হবে- তিনি জনগণের সেবা করবেন। আর জনগণের সেবা করতে হলে তাকে অবশ্যই ভৃত্যের মতো ভূমিকা পালন করতে হবে।’

নিজেদের বংশপরম্পরায় জনসেবার কথা উল্লেখ করে কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দোলন বলেন, ‘আমার পারিবারিক ইতিহাস, মানুষের সেবা করার শত বছরের ইতিহাস। আমার কোনো দ্বিধা নেই বলতে, আমরা ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে মানুষের সেবা করে আসছি।’

জনগণ যদি ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করে তাহলে ভৃত্য হিসেবে জনসেবা করে যাবেন বলে জানান ক্ষমতাসীন দলের এই মনোনয়ন-প্রত্যাশী। দোলন বলেন, ‘নিজেকে মনিব নয়, জনগণের একজন ভৃত্য ভাবি। আমি মনে করি আপনারা মনিব। আপনারা যদি সুযোগ দেন, সেই হিসেবেই কাজ করব।’

জনপ্রতিনিধিরা যাতে নিজেদের মনিবের আচরণ করে জনগণকে ভৃত্য বানাতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকারও তাগিদ দেন ঢাকাটাইমস ও এই সময়ের সম্পাদক। তিনি বেলন, ‘আপনাকে আমাকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে জনগণের সম্পদ লুট করতে না পারে, জনগণের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের নয় ছয় করতে না পারে। তাহলেই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।’

এ সময় দোলন এলাকার একটি রাস্তার উন্নয়নের জন্য তার প্রচেষ্টা চালানোর ঘোষণা দেন। বলেন, ‘রাস্তার সমস্যা নিয়ে একটি দাবি এসেছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে যেভাবেই হোক, এই রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেব।’ এ সময় জনতার করতালিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।

দোলন বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নে বিশ্বাস করে। ফরিদপুর থেকে এলজিআরডি মন্ত্রী দিয়েছেন, যিনি সারা দেশে উন্নয়ন করছেন। শেখ হাসিনা সরকার আমাদের কতটা ভালোবাসেন, স্নেহ করেন, এটা তার প্রমাণ। আমরা যদি আনতে না পারি, সেই ব্যর্থতা আমাদের।’

এক-দুজন জনপ্রতিনিধির ভুলের কারণে জনগণকে অসম্মানিত ও ব্যর্থ হতে দেয়া যায় না বলে মন্তব্য করে দোলন বলেন, ‘এই অঞ্চল ভবিষ্যতে আর পিছিয়ে থাকতে পারে না। কোনো জনপ্রতিনিধির ব্যর্থতায়, দুর্ব্যবহারে, খারাপ আচরণে আমরা পিছিয়ে থাকব না। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, অবশ্যই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব। নিজেদের সম্মান নিজেরা নিশ্চিত করতে পারব।’

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের এই কার্যনির্বাহী সদস্য আবারও বলেন, জনগণই হচ্ছে মনিব। যারা জনপ্রতিনিধি, যারা ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধি হতে চান, তাদের ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

দোলন অঙ্গীকার করে বলেন, ‘মহান রাব্বুল আলামিন সৃষ্টিকর্তা যদি আমাকে কোনোদিন আপনাদের জনপ্রতিধি করেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন, আজীবন ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে আপনাদের সেবা করে যাব।’

এ সময় শত জনতার করতালিতে সভাস্থল আবার মুখরিত হয়ে ওঠে।

এর আগে দোলন সমাজে নারীদের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশে এখনো মায়েদের, মেয়েদের উপেক্ষা করার প্রবণতা আছে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, মায়ের জাতকে উপেক্ষা করে কোনো দেশ কোনো সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না।’

একসময় মেয়েদের অবহেলার চোখে দেখা হতো- এ কথা উল্লেখ করে ঢাকাটাইমস সম্পাদক বলেন, ‘কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার মেয়েদের মায়েদের মূল্যায়ন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পিতার নামের সঙ্গে মায়ের নাম যোগ করার ব্যবস্থা করেছে। আপনার আমার জন্ম যে মায়ের গর্ভে. সেই মাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করেছে।’

তরুণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও আরও বেশি সম্পৃক্ত করছে আওয়ামী লীগ সরকার। এভাবেই দেশ আরও এগিয়ে যাচ্ছে।’

সাতৈর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ লুৎফার রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. লতিফ শেখ প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/৫এপ্রিল/এমআইএন/ইএস/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত