ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে জনগণের সেবা করতে হবে: দোলন

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:৪১

জনপ্রতিনিধিদেরকে ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে সেবা করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফুর রহমান দোলন।

কৃষক লীগ নেতা বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি কখনও মনিব হতে পারে না, তারা জনগণের সেবক। তাদেরকে ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে জনগণের সেবা করতে হবে। জনগণ তাকে সাংসদ নির্বাচিত করলেও সেভাবেই জনসেবা করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

দোলন বলেন, ‘যিনি আগামীতে জনপ্রতিনিধি হবেন, যিনি এমপি হবে, উপজেলা চেয়ারম্যান হবেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন, মেম্বার হবেন, তাকে অবশ্যই এই শপথ করতে হবে যে তিনি জনগণের সেবা করবেন।’

শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড গোয়াইল গ্রামে ইউপি সদস্য ইউনুস মোল্লার বাড়িতে এক উঠান বৈঠকে এ সব কথা বলেন দোলন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মৃধা লিটন।

কৃষক লীগের সহসভাপতি বলেন, ‘আপনাদের কষ্টার্জিত টাকার ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে এ দেশ এ সরকার পরিচালিত হয়। আপনাদের টাকায় জনপ্রতিনিধিরা বেতন, ভাতা সম্মানী পান। তাহলে কারা মনিব? আপনারা নাকি জনপ্রতিনিধিরা?’

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বেতন ভাতা ও আর্থিক সুবিধা কখনও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কাজে ব্যবহার না করারও ঘোষণা দেন দোলন। এ সময় উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে এ বক্তব্যকে স্বাগত জানায়।

কৃষক লীগের সহসভাপতি বলেন, ‘এসব অর্থ আলফাডাঙ্গা, মধুখালী ও বোয়ালমারীর সাধারণ জনগণের কাজে ব্যবহার হবে। এ অঞ্চলের বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের উন্নয়নে ব্যবহার হবে। সরকার থেকে যে বরাদ্দ আসবে, সেসবেরও সুষম বণ্টন হবে।’

‘আমি ঘুরে ঘুরে দেখছি মানুষ অসহায়, তাদের চিকিৎসা করার টাকা নাই। ছেলে মেয়ে মেধাবী, কিন্তু লেখাপড়া চালানোর সামর্থ নেই।’

‘আমরা তো অনেক ভালো আছি, ব্যবসা বাণিজ্য করে সমৃদ্ধ হয়েছি। তাহলে সংসদ সদস্য হলে বেতন ভাতাদি কেন নিজের পকেটে ঢোকাতে হবে?’

এ সময় নির্বাচনী পোস্টারে ছাপানো ‘জনগণের সেবা করার সুযোগ দিন’ কথার উল্লেখ করে দোলন বলেন, ‘কে কার সেবা করে? ভৃত্য মনিবের সেবা করে। আপনারা হচ্ছেন সেই মনিব।’ ‘জনপ্রতিনিধিরা যদি মনে করেন, তারা মনিব। তাহলে কি তারা জনগণের সেবা করতে পারবে?-প্রশ্ন রাখেন তিনি।

দোলন বলেন, আপনারা আমাকে বলেন, আগে নির্বাচন করার কার্ড নিয়া আসেন। কিন্তু কার্ড তো আপনারাই। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমার জন্য কার্ড আনবেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হলো জনগণ আগে খাবে, নেতা পরে খাবে। এছাড়া দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে না এটাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

এ সময় এমপি নির্বাচিত হতে পারলে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি বিক্রি করে জনগণের সেবায় ব্যয় করবেন বলে ঘোষণা দেন।

কেন জনগণের জন্য কাজ করতে চান, সেটাও ব্যাখ্যা করেন কৃষকলীগ নেতা। বলেন, ‘এ অঞ্চলের উন্নয়ন করতে হলে এমপি হওয়ার প্রয়োজন আছে। এমপি হয়ে গাড়ি, বাড়ি সম্পদ করতে চাই না। এসবের আমার প্রয়োজন নেই। আমি ব্যবসা বাণিজ্য করে অর্থসম্পদ করতে পারি অথবা করতে পারব।’

‘আপনারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলবেন, মাননীয় নেত্রী। আমরা এমপি চাই না, দোলনকে সেবক হিসেবে চাই।’

রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্যও তুলে ধরেন দোলন। বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে এসেছি মানুষের সেবা করার জন্য। আপনাদের সেবা করার জন্য।’

বংশ পরম্পরায় জনসেবার কথা উল্লেখ করে কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দোলন বলেন, ‘আমার পারিবারিক ইতিহাস, মানুষের সেবা করার শত বছরের ইতিহাস।’

‘আমার কোনো দ্বিধা নেই বলতে, আমরা ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে মানুষের সেবা করে আসছি।’

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বক্তব্য দেন জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, ময়না ইউপি সদস্য মোহাম্মদ নান্নু শেখ প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/০৭এপ্রিল/প্রতিনিধি/ইএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত