নগরজুড়ে বৈশাখের উৎসব

কাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:০২ | প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:২১

বছর বছর বড় হচ্ছে বাংলা বর্ষবরণের উৎসব। কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা নয়, পাড়া মহল্লাতেও ছড়িয়ে গেছে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার আয়োজন।

নগরীর পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে, হোটেল-রেস্টুরেন্ট সর্বত্র চলছে নানা আয়োজন। উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা আছে বিকাল পাঁচটার মধ্যে। তবে ঘরোয়া পরিবেশে উৎসব চলবে রাত অবধি।

শেষ বিকালের বৃষ্টিতে মানুষের ঘরে ফেরা একটু বিলম্বিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। তবে বৃষ্টি আসার আগ অবধি মানুষ প্রাণ ভরে উপভোগ করেছে মেলা, গান, পুতুল নাচ, দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোসহ নানা আয়োজন। দেদারসে কেনাকাটা চলেছে বৈশাখী মেলায়।

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় পথ শিশুদের জন্যও দেখা গেছে একটি আয়োজন, যেখানে ছিল খানাপিনার ব্যবস্থা। শিশুরা মন ভরে খেয়ে প্রাণ ভরে উপভোগ করেছে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান।

রাজধানীতেই শতাধিক স্থানে বর্ষ বরণের অনুষ্ঠান চলার খবর পাওয়া গেছে। ভোরে রমনা বটমূলে সুরের মূর্চ্ছনায় নতুন সূর্যকে আবাহনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর এসকঙ্গে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হওয়া মঙ্গল শোভযাত্রা। এতে কত লোক অংশ নিয়েছে, সেটা গুণে শেষ করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে শুরু করে রূপসী বাংলা হোটেল অবধি সড়কের দুই পাশে লোকে লোকারণ্য ছিল শোভাযাত্রা।

এই ধরনের শোভযাত্রা রাজধানীতে বের হয়েছে মোহাম্মদপুরেও। সেখানকার গ্রাফিক্স আর্ট ইনিস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রায় যোগ দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা।

‘বাংলার শোভাযাত্রা’ নামে আরও একটি পদযাত্রা বের হয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ -ইউডার চারুকলা অনুষদ থেকে।

স্কুল অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-সোডা, কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-কোডা, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-ইউডা) ও সমতার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে হয় এই আয়োজন যাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মঙ্গল শোভাযাত্রা বলছে আয়োজকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বিবিএ অনুষদের শিক্ষার্থী শামিম মীর্জা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রতিবছরই অনুষ্ঠান হয়। পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রধান উৎসব। তাই আমরা যতটা সম্ভব বৃহৎ আকারে এটাকে আয়োজন ও পালনের চেষ্টা করি।’

সকালে শোভাযাত্রার পর সেখানে হয় গানের উৎসব। ছাত্ররা ছাড়াও স্থানীয় জনতা গ্রাম বাংলার গান উপভোগ করে।

পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছে সাধারণ মানুষের ঢল। বাসন্তী সাজে রমনীদের হাস্যজ্বল আনাগোনা ধানমন্ডি লেকে। স্বজনকসহ এসেছেন এমন দলের সংখ্যাও অনেক। উদ্দেশ্য নববর্ষকে বরণ করে নেয়া।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে বৈশাখী অনুষ্ঠান দেখতে আসা ইব্রাহীম হামিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, “ছেলে মেয়েদের নিয়ে বের হলাম। বৈশাখ বলে কথা। ভালোই লাগছে। আয়োজনগুলো বেশ চমৎকার।’

ধানমন্ডি লেক জুড়ে চলছে চারটি কনসার্ট। ধানমন্ডি ১২/এ তে কনসার্ট চলছে ইউডার চারুকলা অনুষদের আয়োজনে। ‘পুতুল’ স্কুলের পথশিশুদের সাথে বৈশাখী আনন্দ ভাগাভাগি করতে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে।

কুড়কুড়ে চিপস এর সহযোগিতায় ৭/এ কুটুমবাড়ির বিপরীতে বসেছে কনসার্ট । জমকালো আয়োজন করা হয়েছে রবীন্দ্র সরোবরে। বিকালে সেখানে গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেমসসহ অনেকে।

জমে উঠেছে ঢাকার আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোও। কেরানীগঞ্জের আটিবাজার মেরিন শিশুপার্কটি সারা বছর জনশূন্য থাকলেও বৈশাখে বেশ জমজমাট। বিকেল হতেই নেমেছে জনস্রোত।

‘শ্যামল বাংলা রিসোর্ট’ এর বেশ জনপ্রিয়তা আছে আগে থেকেই। উপলক্ষ্য যখন বৈশাখ, তখন ভিড়টাও একটু বেশি। রিসোর্টের বিপণণ বিভাগের ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বৈশাখ বাঙালি জাতির পরিচয়। আর সেটাকে উপলক্ষ্য করে আমরা একটি মেলা আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। যদিও স্থানীয় থানা থেকে অনুমতি না পাওয়ায় আমরা তা করতে পারিনি। তবে, সাধারণ দিনের চেয়ে আজ লোকসমাগম বেশ ভালো।’

‘অনেকেই মেলা আশা করেছিলেন। আমাদের জাতিস্বত্বার পরিচয় তুলে ধরতে মেলা আয়োজন বেশ জরুরি ছিল।’

রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল পুরান ঢাকা, গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ প্রতিটি এলাকাতেই আলাদা আলাদা আয়োজকে বরণ করে নেয়া হয় বাংলা নববর্ষকে।

ঢাকাটাইমস/১৪এপ্রিল/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত