বর্ষবরণ: শহুরে জীবনে গ্রামীণ আবহ

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৫৭

শহরের মতো নাকি হতে চাইছে গ্রাম। কিন্তু বছরের একটি দিন গ্রামের আবহ আসে। সেটি শহরবাসীর ভালো লাগে, তারা ফিরে যায় শৈশবের বা কৈশোরের দিনে।

শহরের মেলায় অতীতের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর মতোই মিলে পুতুল থেকে শুরু করে হাতের কাজের পোশাক, শিশুদের খেলনা আর মুখরোচক খাবার।

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ এই আবহ তৈরি হয় খোদ রাজধানীতে। আর মানুষ দল বেঁধে যায় সে আনন্দ উপভোগে।

যাদের ছোটবেলা বা কৈশোর কেটেছে গ্রামে বা মফস্বলে তারা ফিরে যায় পুরনো দিনে, তার যাদের জন্ম, বেড়ে উঠা শহরে, তারাও পূর্ব পুরুষদের কাছে শুনেছে বা বইয়ে পড়েছে গ্রামীণ জনপদে বর্ষবরণের কাহিনি। তারাও সেই স্বাদ এখন নিতে পারছে শহরে বসেই।

পয়লা বৈশাখকে বরণ করে নিতে রাজধানী জু্ড়েই আছে নানা আয়োজন। কেন্দ্রীয়ভাবে এই আয়োজনটি হয়েছে রমনা উদ্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

ভোরে সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূলে সুরের মূর্চ্ছনায় বরণ করে নেয়া হয় ১৪২৫ সালকে। এরপর সকাল নয়টায় হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বের হয় মঙ্গল শোভযাত্রা। এসব আয়োজন শেষ হয়ে যায় সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই।

বর্ষবরণকে ঘিরে বাংলা একাডেমি ও সোহওয়ারার্দী উদ্যানে বৈশাখী মেলাও নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ।

শিশুদের খেলনা, হস্তশিল্পকর্ম ও দৈনন্দিন তৈজসপত্র থেকে মুখরোচক খাবারও মিলছে এসব মেলায়। আর মানুষ কিনছেও দেদারসে। বিশেষ করে ছোটদের হাতে হাতে উঠছে নানা মাটির পুতুল, নানা ধরনের খেলনা, ছোট ছোট একতারা, ঢোল, বাঁশি। বড়রাও এগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঘরের ছোটদের জন্য। আর যাওয়ার সময় বাজিয়ে যেতেও দেখা গেছে বহুজনকে।

গোটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই সকাল থেকেই বংশীবাদকদেরকে বাঁশির সুরে মোহিত করার চেষ্টা দেখা গেছে, কোথাও বা বাউলের সুরে মুগ্ধ করতে দেখা গেছে শহরবাসীকে। কোথাও কেউ বাজাচ্ছে একতারা, কেউ বাজাচ্ছে দোতরা। 

রমনার কালীমন্দিরের প্রবেশ গেটের পাশে সোহওয়ারার্দী উদ্যানে ছোট ছোট দোকান নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। সেখানে মিলছে মেয়েদের মাটির বা অন্য উপকরণ দিয়ে তৈরি অলঙ্কার, ঘর বাজানোর বাঁশ-বেতের জিনিসপত্র, হাতের কাজে পোশাক, নকশীকাঁথা।

তরুণীরা সেখানে ভিড় করছেন অলঙ্কার কিনতে। কেউ কিনছে ঘর শয্যার জিনিসপত্র।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে একাডেমি চত্বরে। বিকালে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

আয়োজকরা জানান, মেলায় প্রায় ২০০টি স্টলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হস্ত ও কুটির ও কারুশিল্পীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছেন।

এর মাঝে ১০টি স্টলে কারুশিল্পীগণ তাদের বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজ প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন।

এর বাইরে সেখানে বসানো হয়েছে একটি নাগরদোলা, আছে পুতুল নাচও। আর শিশু, কিশোররা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছে সেসব আয়োজন।

বাবার সঙ্গে মেলা দেখতে এসেছে ১০ বছর বয়সী শুভ। সে বলে, ‘অনেক মজা পেয়েছি। বাবার সাথে নাগরদোলায় উঠেছি, পুতুল খেলা দেখেছি।’

শুভর বাবা শাহেদ আলমের ছোটেবেলা কেটেছে মফস্বলে। গ্রামের মেলায় যেতেন নিয়মিতই। পুতুল নাচ, নাগরদোলার মতো আনন্দ তিনি উপভোগ করেছেন নিয়মিতই। কিন্তু এই শহুরে জীবনে তার ছেলেকে সেসব স্বাদ দেয়ার সুযোগ আসে কেবল এই পয়লা বৈশাখেই। তাই ছেলেকে নিয়ে এসেছেন তিনি।

মেলা চলাকালে প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে লোকসাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠান। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতসহ অন্যান্য গান পরিবেশিত হবে।

২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলা উম্মুক্ত থাকবে।

এছাড়া বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে বইয়ের আড়ং। একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ বৈশাখ পর্যন্ত চলবে বইয়ের এই আয়োজন।

(ঢাকাটাইমস/১৪এপ্রিল/জেআর/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত