জলকেলী উৎসবে মেতেছে রাখাইন সম্প্রদায়

বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার
| আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৩২ | প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৪৭
ফাইল ছবি

মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রে পোয়ে বা জলকেলী উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শেষ হয়েছে সকল প্রকার প্রস্তুতি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব দেখতে কক্সবাজারে এসেছে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক।

মঙ্গলবার থেকে সাংগ্রেই পোয়ে বা জলকেলী উৎসব শুরু হলেও পূজা পার্বনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

সোমবার দিনব্যাপী বৌদ্ধ মন্দিরে মন্দিরে রাখাইন নর-নারীরা নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান পালন করেছেন। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জলকেলী শুরু হলেও সোমবার বিকালে শহরের বিভিন্ন রাখাইন পল্লী ঘুরে দেখা গেছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ক্ষুদে নর-নারীরা মেতে উঠেছে জলকেলী উৎসবে। বাংলা নববর্ষ, চৈত্র সংক্রান্তি পালন শেষে রাখাইনদের জলকেলী উৎসব সবমিলিয়ে পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া জলকেলী উৎসব- পানি খেলা চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। পানি খেলাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে রাখাইন সম্প্রদায়ের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতারা মেতে উঠেছে উৎসবের আনন্দে।

জানা যায়, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত শহর কক্সবাজারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের নববর্ষ উৎসব প্রতিবছরের মত এবারও বেশ ঝাঁকঝমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। রাখাইনদের এ উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যথা-বেদনা, গ্লানি ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। রাখাইন তরুণ-তরুণরা নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করে সেজেগুজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং রাখাইন পল্লীতে তৈরি করা জলকেলী উৎসবের প্যান্ডেলে গিয়ে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করে আনন্দ প্রকাশ করবে। এসময় নাচ-গানসহ চলবে আনন্দঘন অনুষ্ঠান। সাথে ঢাক-ঢোল আর কাঁসার তালে তালে নেচে উঠবে রাখাইন আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাদের প্রাণ।

শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কস্থ ক্যাং পাড়ার উক্য মং রাখাইন জানান, জলকেলী উৎসব হচ্ছে রাখাইনদের সামাজিক একটি উৎসব। যে উৎসবের মধ্যদিয়ে অতীতের সকল ব্যথা-বেদনা ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া যায়। এবছরও নানা জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জলকেলী উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা করেন তারা।

জলকেলী উৎসবের আয়োজক সংস্থা আরডিএফের পরিচালক অধ্যক্ষ ক্যথিংঅং জানান, সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন বাকি জলকেলীতে মেতে উঠার।

গত ১৩ এপ্রিল রাখাইন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা বুদ্ধের মূর্তিকে স্নান করানোর মাধ্যমে শুরু করেছে তাদের সামাজিক এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

(ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত