ইউসিসিএ নির্বাচন: মির্জাপুরে বাধা পেরিয়ে উজ্জ্বলের মনোনয়ন সংগ্রহ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৫৩

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচনে দুর্বৃত্তদের বাধা উপেক্ষা করে সভাপতি প্রার্থী খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জ্বলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন তার বৃদ্ধ পিতা খন্দকার বেল্লাল হোসেন। সোমবার দুপুরে একজন আইনজীবী নিয়ে তিনি এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে উজ্জ্বলের প্রতিনিধি হিসেবে তিন আইনজীবী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসে ক্যাডারদের বাধার মুখে ফিরে যান।

আগামী ১২ মে মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নির্বাচন। সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রথম দিন।

১২ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সমিতির বর্তমান সহ-সভাপতি বিপ্লব মাহমুদ উজ্জ্বল নিজেকে সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা দিলে সমিতির বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার পর থেকে বিপ্লব মাহমুদ উজ্জ্বল ভয়ে মির্জাপুর সদরে আসছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে সোমবার মনোয়নপত্র বিক্রি শুরু হলে সকাল থেকে মীর শরীফ মাহমুদ ও তার মনোনীত সভাপতি প্রার্থী উপজেলা দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহিরের শতাধিক ক্যাডার উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নেন। সকাল সোয়া দশটার দিকে বিপ্লব মাহমুদ উজ্জ্বলের পক্ষে তিন আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ আসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান তালুকদার মনোনয়নপত্র কিনতে উপজেলা চত্বরে আসেন। তাদের দেখামাত্র মীর শরীফ মাহমুদ এবং জহিরুল ইসলাম জহিরের বাহিনী লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বাধা প্রদান করেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। পরে আইনজীবীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করে সেখান থেকে ফিরে আসেন।

পরে উজ্জ্বলের পক্ষে দুপুরে তার পিতা খন্দকার বেল্লাল হোসেন অপর আইনজীবী আব্দুর রউফের সহযোগিতায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে অটোবাইকযোগে বাড়ি ফেরার পথে মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে ওই বাহিনী খন্দকার বেল্লাল হোসেনের কাছে থাকা মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছবি তুলতে গেলে ঢাকাটাইমসের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনকে বাধা প্রদান করে এবং তার ব্যবহৃত ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বিপ্লব মাহমুদের পিতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বিপ্লব মাহমুদ উজ্জ্বলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে সরে যেতে গত ৯ এপ্রিল আমার উপর হামলা করে অফিস থেকে আমার চেয়ার টেবিল ভেঙে বের করে দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় যাতে আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে না পারি সে জন্য সোমবার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আমার আইনজীবী ও পিতার উপর হামলা করা হয়। মনোনয়নপত্র জমা দিতেও তারা বাধা প্রদান করবে বলে আশঙ্কা করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সভাপতি প্রার্থী জহিরুল ইসলামে সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে জহিরুল ইসলাম জহির ও আবিদ হোসেন শান্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী। মনোনয়নপত্র কিনতে কে বাধা দিয়েছেন তা তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

(ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত