কোন্দল মিটিয়ে খুলনায় মোকাবেলায় প্রস্তুত আ.লীগ-বিএনপি

শেখ আবু হাসান, খুলনা
 | প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:৫৭
আ.লীগ প্রার্থী আব্দুল খালেক এবং বিএনপি প্রার্থী মঞ্জু

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাইয়ের আগে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে ছিল কোন্দল আতঙ্ক। নিজ দলের নেতারাই হারের কারণ হয় কি না, এ নিয়ে ছিল নানা কথাবার্তা। তবে দুই দলের প্রার্থী বাছাইয়ে বুদ্ধিমত্তার কারণে দুই দলেই কোন্দল দূর হয়েছে। পরস্পরকে মোকাবেলার জন্য একাট্টা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

আগামী ১৫ মে যে দুই মহানগরে ভোট হবে তার একটি খুলনা। সেদিন দক্ষিণের এই শহর আর ঢাকা লাগোয়া গাজীপুরের ভোট আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে জনতার মাঝে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থানের একটি পরীক্ষা হবে। আর এই পরীক্ষায় পাস করতে দুই দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাপক।

২০১৩ সালে দেশের পাঁচ মহানগর খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট এবং গাজীপুরে জিতেছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এবার ভোট হবে সরাসরি দলীয় প্রতীকে।

খুলনায় তখন ২০০৮ সালের ভোটে বিজয়ী তালুকদার আবদুল খালেকের পরাজয়ের জন্য যেসব কারণ বিবেচনা করা হয় তার একটি ছিল দলের ভেতরে বিরোধ। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দৃশ্যমান উন্নয়নের সঙ্গে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজয় সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

ওই ভোটের আগে থেকেই জানা যাচ্ছিল স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা খালেকের বিরোধিতা করছেন। আর ভোটের পরে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রভাবিত এলাকায় খালেক ভোট পেয়েছেন অনেক কম।

পাঁচ বছর আগের এই অভিজ্ঞতার কারণেই খালেক এবার খুলনায় ভোটে লড়তে রাজি ছিলেন না। দলের মনোনয়ন ফরমও কেনেননি তিনি। আর ভোটে আগ্রহী নন জানিয়ে দেয়ার পর প্রার্থিতার দৌঁড়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের পাঁচ জনেরও বেশি নেতা। এদের কাউকে  মনোনয়ন দিলে পাঁচ বছর আগের মতোই পরিস্থিতি হয় কি না, এ নিয়ে তৈরি হয় শঙ্কা।

একেক নেতা একেক বলয় তৈরি করলেও এবার খালেকের পক্ষে একাট্টা খুলনা আওয়ামী লীগ। তাকে মনোনয়ন দিতে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাঠানো হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে। আর শেখ হাসিনা তাকেই বেছে নেন। এরপর খালেক বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে খুলনায় ভোটে দাঁড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা এস এম কামাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন না, এমন নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ রয়েছে। বর্তমানে খুলনার সকল নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ। এখন কোনো কোন্দল নেই। সকলে দলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার লক্ষ্যে একট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে খুলনা সিটি উপহার দিতে চাই। আমাদের মধ্যে কোন কোন্দল নেই। সকল ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীরা তালুকদার আব্দুল খালেককে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করছে।’

খালেকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তাকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করাটা অনেকটাই ছিল চমকের মতোই। যদিও এবারও ২০১৩ সালে জয়ী মনিরুজ্জামান মনি প্রার্থী হচ্ছেন, এটাই ছিল অনুমিত।

খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের মধ্যে গত সাত-আট বছর ধরেই কোন্দল ছিল  প্রকাশ্যে। এক পক্ষের সঙ্গে অন্য পক্ষের মুখ দেখাদেখিই ছিল বন্ধ।

২০১৩ সালে এই নগরে বিএনপির সমর্থন না পেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছিলেন মনিরুজ্জামান মনির। এবার মনিকে মনোনয়ন দিলে মানবেন না ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন মনা। তিনি আশা করেছিলেন, তার হাতেই উঠবে ধানের শীষ। তবে মনি দলের প্রতীক না পাওয়ায় মনা তার অপ্রাপ্তির বেদনা ভুলেছেন।

খুলনায় নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি একটি উপদলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাদের প্রতিপক্ষ নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা ও কোষাধ্যক্ষ আরিফুর রহমান মিঠুর অনুসারীরা।

এই দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, মিছিল-সমাবেশের মতো ঘটনা ঘটেছে খুলনায়। এবার ভোটে এর প্রভাব পড়ে কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল বিএনপির মধ্যে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফানে কথা বলেন খুলনা জেলা ও মহানগরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে। সেই থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কোন্দল ভুলে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ না করা তো দূরের কথা, যদি কেউ নির্বাচনে প্রকাশ্যে দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে না থাকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ রয়েছে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। আমরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করে দেশনেত্রীকে (খালেদা জিয়া) আবার খুলনা সিটি উপহার দেব।’

আগামী ১৫ মের ভোটে খালেক ও মঞ্জু ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মোজাম্মেল হক, সিপিবির মিজানুর রহমান এবং জাতীয় পার্টিও এস এম মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ আছে। খুলনায় জোর প্রচার আছে জাতীয় পার্টি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে।

ঢাকাটাইমস/১৯এপ্রিল/এসএএইচ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত