‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে বিলম্বিত করা দুঃখজনক’

মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:১০ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শামীম রেজা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটাপদ্ধতি বাতিল করেছেন। এখন গেজেটের বিষয়। গেজেট জারি দেরি নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। গেজেট জারি করা এটা সময়ের ব্যাপার। তবে সময় কতটুকু লাগবে সেটা একটা বিষয়। এটা সময় নিয়েও করা যায়, আবার তাড়াতড়িও করা যায়। কিন্তু কোনো কারণে যদি বিলম্বিত করা হয় বা করানো হয় তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক কিছু থাকবে না। তবে আমরা বিশ্বাস করতে চাই এটা একটা দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে। সেটার জন্য যতটুকু সময় লাগে সেটার মধ্যেই যেন হয়।’

বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল আইয়ে আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন মীর মাসরুর জামান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, এটার পরে একটা রূপরেখাও তিনি দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, যদি কোটা রাখতেও হয় সেটা কেবিনেট সেক্রেটারি নেতৃত্বে কমিটি দেখবে।’

শামীম রেজা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন, তারা ফিরে গেছেন। দায়িত্ব দিয়েছেন জনপ্রশাসনকে। দ্রুততম সময়ে যেন বিষয়টি শেষ হয়। এটা তিন মাসেও করা যায়, আবার অল্প সময়েও করা যায়।’

এই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলনকারীরে ফিরে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন। কিন্তু একটা বিষয় সবার মনে রাখার প্রয়োজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটা নিয়ে অনেকের মাথাব্যথা আছে কি না। কথাটি আমি অভিভাবক, শিক্ষক হিসেবে বলছি কোনোভাবে এই ইস্যুটি নিয়ে ছলচাতুরি করা ঠিক হবে না। কারণ চাপটা কিন্তু পড়ছে উচ্চশিক্ষার ওপর। সামনে পরীক্ষা আছে। পড়াশোনা আছে। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরে গেছেন। কিন্তু তারা স্বস্তিতে আছেন কি না। তারা নির্বিঘ্নে আছেন কি না সেটা কিন্তু দেখার বিষয় আছে।’

শামীম রেজা বলেন, ‘আমি মনে করি এমন কোনো পরিস্থিতি বা ঘটনা ঘটানো ঠিক হবে না যেটা তাদের মনস্তত্বের ওপর চাপ পড়ে। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি তাদের ক্লাস নষ্ট হয়েছে। সামনে তাদের পরীক্ষা। হলগুলোতে ঠিকমতো থাকতে পারছে কি না। নিরাপত্তার ধারণা নিয়ে তারা থাকতে পারছে কি না, এ ব্যাপারে প্রশাসন কতখানি ভূমিকা পালন করতে পারছেন, অভিভাবকদের আমরা সঠিক বার্তাটা দিতে পারছি কি না যে তাদের সন্তানরা এখানে ভালো আছে। সব মিলিয়ে অস্বাভাবিক একটা চাপ নিতে হয় এই আন্দোলন নিয়ে, এই আন্দোলন কিন্তু বিশেষ একটা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। কিন্তু চাপটা কিন্তু নিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োগ করতে পারে না। কিন্তু তাদের সেই সুযোগ নেই। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারে না।’

ঢাবির এই শিক্ষক বলেন, ‘তাই যারা আন্দোলন থেকে ফিরে গেছেন তাদের সামনে বিসিএস পরীক্ষা, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ। সুতরাং তাদের আস্থায় আনতে হবে। তাদেরকে আস্থা দিতে হবে তারা স্বাভাবিক জীবনে আছে।’

কোটা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান, তিনি বাতিলের ঘোষণা দিতে পারেন। তিনি দিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, অনগ্রসর যারা তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। সেজন্য তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বলেছেন। এটা নিয়ে কী করা যায় সেটা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। তার মানে সংস্কারের সুযোগ আছে। আর একটা বিষয় হচ্ছে একটা জিনিস তো আর সব সময় একই রকম থাকবে না। এটার পরিমার্জন হবে। সংস্কার হবে। এখন গেজেট হলে সেটা যে আবার পাঁচ বছর পরে পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন হবে না সেটা কিন্তু ঠিক নয়। এটাও আন্দোলনকারীদের বুঝতে হবে।’

শামীম রেজা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এটার সঙ্গে বেশ কিছু বিষয় সন্নিবেশিত করার বিষয় আছে। তবে সব মিলিয়ে গেজেট প্রকাশে কালক্ষেপণ করা বা অন্য কোনো বিষয় এর সঙ্গে জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ আমরা একটা খুব বড় খারাপ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। তাই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে বিষয়টিকে সহযোগিতা করা উচিত সংশ্লিষ্ট বিভাগের।’

(ঢাকাটাইমস/২০এপ্রিল/এমএম/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত