ছাত্রীদের পক্ষে প্রতিবাদ করে নিজেই ‘হলছাড়া’ ঢাবি ছাত্র

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৩৪ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হলের শয্যা হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত। 

ইয়াসিন স্যার এফ রহমান হলে ৪০৭ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সুফিয়া কামাল হল থেকে নিজের হলে ফেরার পর তাকে হল ছেড়ে চলে যেতে বলেন ছাত্রলীগের নেতারা।

এখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের একটি হলে পরিচিত এক ‘বড় ভাইয়ের’ কাছে আছেন ইয়াসিন। জানান, হল থেকে বের হয়ে এলেও তিনি তার জিনিসপত্র নিতে পারেননি। আর এখন বুয়েটের কোন হলে আছেন, নিরাপত্তার কারণে সেই হলের নাম জানাতে চাননি তিনি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হলত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অভিভাবকদের ডেকে পাঠিয়ে তাদের হাতেই তুলে দেয়া হয় ছাত্রীদের।

এর প্রতিবাদে রাত দেড়টার দিকে ইয়াসিন একাই প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের ফটকে অবস্থান নেন। পরে রাত দুইটার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর নেতারা ইয়াসিনের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁরাও সেখানে বিক্ষোভ করেন।

পরিষদের নেতারা শুক্রবার বিকাল চারটায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করলে রাতের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন আরাফাত। তারপর হলের দিকে ফেরত যান বিক্ষোভকারী সবাই।

কিন্তু এফ রহমান হলে ঢুকার সময় ফটকে হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানসহ অনেকে অবস্থান নিয়ে তাকে বাধা দেন।

ইয়াসিন আরাফাত ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের মাধ্যমেই হলে উঠেছিলাম। প্রতিবাদ করে ফেরার পর ছাত্রলীগের নেতারা আমাকে ডাকেন। বিক্ষোভে কেন গেলাম, তা জানতে চান। হলে উঠলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়িত্ব নেবেন না বলে জানিয়ে দেন।’

‘এছাড়া নানা হুমকি দেওয়া হয়। আমাকে চলে যেতে বলা হয়। আমাকে রুমে রাখার জন্য রুমমেটকে শাসানো হয়।’

তবে ইয়াসিনকে বের করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্ব চিন্তা চেতনা আছে এবং সে তা চর্চা করবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় হল সে চেতনা চর্চার কেন্দ্র্র। এইখানে আমি বাধা দেওয়ার কেউ না। তবে শিক্ষার্থীদের এই চিন্তা চেতনা যাতে স্বাধীনতাবিরোধী না হয় সেদিকে আমরা সবসময় খেয়াল রাখি।’

হল গেইটে ইয়াসিনের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল জানতে চাইলে হাফিজ বলেন, আমি তার রুম নাম্বার জিজ্ঞেস করেছিলাম। এবং জিজ্ঞেস করেছিলাম তাদের পরবর্তী প্রোগাম কখন।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার ইয়াসিনের বিষয়টিতে কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই নামে আমি তো কাউকে চিনিই না। হল থেকে বের করব কীভাবে?’।

তবে হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা ঢাকাটাইমসকে জানান, হলে ঢোকার সময় গেইটে ইয়াসিনের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেন হলের কয়েকজন নেতা। পরে তাকে হল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেন তারা।

ঢাকাটাইমস/২০এপ্রিল/এনএইচএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত