আমাকে কোণঠাসা করার চেষ্টায় লাভ নেই: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৫৬ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৩৩

নিজেকে লড়াকু মানুষ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাকে কোণঠাসা করা যাবে না। সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, সমালোচনায় তিনি নিজেকে শুদ্ধ করেন।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্য করে কাদের বলেন, ‘আমাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে লাভ নেই। আমার সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু আমি লড়াকু মানুষ। আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। আমি কিন্তু হতাশ হব না।’

‘দুর্ঘটনা আমি অস্বীকার করি না, এটা হচ্ছে। আমার মধ্যেও অসহায়ত্ব কাজ করে, আমি কি মানুষ নই? আমি মন্ত্রী, আমি কি দায় এড়াতে পারব? কত চেষ্টা করছি। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। কেউ রাস্তার শৃঙ্খলা মানে না। ছোট ছোট ব্যাটারিচালিত গাড়ি, যাত্রীরাও জানে এগুলোতে উঠলে বিপদ আছে। একটু টোকা লাগলে একজনও মানুষ বাঁচে না। তারপরও এ গাড়িগুলো রাস্তায়। এগুলো কি করব বলেন?’

কাদের বলেন, ‘চালকারাও কার আগে কে যাবে, কত ট্রিপ নিলে কত লাভ হবে। এ বিষয়টাই মাথায় থাকে। মানুষের জীবন নিয়ে আমরা খুব কম লোকই ভাবনা চিন্তা করি। জীবনের চেয়েও টাকা, আমি কত লাভ করলাম, এটা যখন প্রধান্য পায় তখন আমাদের অনেক ভুগতে হয়।’

যৌক্তিক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনা আমাকে শুদ্ধ করে। আপনারা যারা বিরূপ সমালোচনা করেন, তারা একদিন বুঝবেন। এ সমালোচনা সঠিক কি না। সমালোচনায় যদি বাস্তবতা ও রিজন (কারণ) থাকে তাকে আমি অবশ্যই মেনে নেব। এ মানসিকতা আমার রয়েছে।’

বিভিন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি হচ্ছে স্বীকার করে কাদের বলেন, ‘বাচ্চা জন্ম দিতে মায়ের তো যন্ত্রণা হয়, এখন রাস্তা হচ্ছে, ব্রিজ হচ্ছে তাঁর বার্থ পেইন আছে না? সেটা মানবেন না কেন? দেশের মিড়িয়ার একটা বড় অংশ এটাকে রাজনীতিতে নিয়ে যায়। এখানে বেশি কাজ হচ্ছে, একে অ্যাটাক করে।’

বিএনপি সেনাবাহিনীকে উস্কানি দিচ্ছে

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে আবারও বিএনপির দাবির বিপরীতে নিজের অবস্থানের কথা জানান কাদের। প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা কখনও সেনা মোতায়েন না করে এখন কেন এই দাবি তুলছে।

কাদের বলেন, ‘আপনি নিজে যা করেননি, সেটা দাবি করেন কেন? এটা অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কি সে রকম পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে? তাহলে অযোক্তিক দাবি, এই দাবিটা করে সেনা বাহিনীকে কেন বিতর্কিত করতে চাইছেন? এটা হলো আমার প্রশ্ন।’

‘আমি জিজ্ঞেস করতে চাই বিএনপি নেতাদের তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন কোনো নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করেছিল? একটা নির্বাচনেও না। সিটি করপোরেশন থেকে জাতীয় নির্বাচনে, অনেক ইলেকশন তো হয়ে গেছে তখন। আপনারা তো সেনাবাহিনী নিয়োগ করেননি।’

‘সেনাবাহিনী নিয়োগের যৌক্তিকতা কতটুকু? সে রকম পরিস্থিতি হলে সেনাবাহিনী নিয়োগ করবে কি না- সেটা ইলেকশন কমিশন সরকারের সঙ্গে আলাপ করবে। ইলেকশন কমিশন ডিমান্ড দেবে। কারণ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা নির্বাচনের সময় ইসির অধীনে গেলেও সেনাবাহিনী কিন্তু যাবে না। সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হলে সরকারকে ইসি অনুরোধ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পরিস্থিতি যদি সেনাবাহিনী নিয়োগের মতো হয় তাহলে সরকারও সায় দিতে পারবে। কিন্তু সে রকম পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে শুধু শুধু সেনাবাহিনী নিয়োগ কর, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনী বলে। আমি রাষ্ট্রীয় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতায় থাকাকালে যারা (বিএনপি) অভিযোগ করছেন, আমি তাদের (বিএনপি) অনুরোধ করব, এই প্রতিষ্ঠানটাকে (সেনাবাহিনী) বিতর্কিত করবেন না।’

আওয়ামী লীগের দাবির পর নির্বাচনী আইন সংশোধন করে সিটি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারের সুযোগ দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘আচরণবিধি পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে, বিশেষ করে পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি (সংসদীয় গণতন্ত্র) যে সমস্ত দেশে আছে, যেকোনো নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সব নির্বাচনে ক্যাম্পেইন (প্রচার) করতে পারে।’

‘ভারতে দেখুন, এই যে কয়েকদিন আগে আমাদের পাশের রাজ্যে ত্রিপুরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি বিধান সভার নির্বাচন বিধান সভার নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছেন।’

‘আমাদের দেশে মন্ত্রীও পারবে না, এমপিও পারবে না। সব দেশে যেটা হচ্ছে, আমাদের দেশে সেই সুযোগ কেন থাকবে না?’

‘আমরা কিন্তু মন্ত্রীর জন্য চাই নাই। আমরা নির্বাচন কমিশনকে একটা প্রপোজাল (প্রস্তাব) দিয়েছি, এটা প্রপোজাল। নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করতেও পারে, নাও করতে পারে। প্রপোজাল দিয়ে এসেছি, যে এমপিরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বা স্থানীয় নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করার সুযোগ তারা (এমপি) দাবি করতে পারে এবং এই সুযোগটি তাদের দেওয়া উচিত।’

‘আপনি দেখুন, মন্ত্রী হওয়াটা কি আমার অপরাধ? ফখরুল সাহেব রংপুর ‍সিটি নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করলেন। আমি সেখানে যেতে পারলাম না। তিনি মহাসচিব, আমিও মহাসচিব। এটা কি লেভেল প্লেইং ফিল্ড? বেগম জিয়া করতে পারবেন, শেখ হাসিনা পারবেন না। এটা কি লেভেল প্লেইন ফিল্ড? আমি যুক্তির ভাষায় কথা বলতেছি, এখানে জোড়াজুড়ির করে তো কিছু হবে না।’

ঢাকাটাইমস/২০এপ্রিল/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত