ভারতের প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:০৬

সংসদীয় বিচারের মাধ্যমে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ চেয়ে রাজ্যসভায় একটি প্রস্তাব পেশ করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংসদের উচ্চ-কক্ষে দেওয়া এই পিটিশনে সাতটি রাজনৈতিক দলের ৬৪ জন এমপি স্বাক্ষর করেন। রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনতে গেলে নূন্যতম ৫০ জন এমপির সই লাগে, তবে লোকসভায় ওই একই প্রস্তাব আনতে হলে ১০০ জন সংসদ সদস্যকে সই করতে হয়।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এর আগে ভারতে কখনও ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়নি। সেদিক থেকে এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। যদিও অতীতে বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারা ওইসব প্রস্তাব পাশ হওয়ার আগেই ইস্তফা দিয়েছেন।

দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, কোন মামলা কোন বেঞ্চে যাবে সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাচার করেছেন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে বিচারপতি হওয়ার আগে তিনি যখন উড়িষ্যা হাইকোর্টে আইনজীবী ছিলেন, সেই সময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি জমি নিয়েছিলেন।

গত জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের চারজন প্রবীণতম বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণ করার অভিযোগ করেন। এরপর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভারতের বিচারপতিরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন না।

ওই চার বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যেকোনো মামলার বিচার কোন বেঞ্চে করা হবে সেটি ঠিক করতে গিয়ে তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

দীপক মিশ্র ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন গত আগস্ট মাসে। আগামী অক্টোবরে তার অবসরে যাওয়ার কথা। ভারতে প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৫ হলে তার অবসর নেওয়া বাধ্যতামূলক। ইমপিচমেন্টের ব্যাপারে তার অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে এবিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

যেসব এমপি পিটিশনে সই করেছেন তারা বিরোধী কংগ্রেস পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া এবং উত্তর প্রদেশের প্রভাবশালী দল সমাজবাদী পার্টিসহ আরো চারটি রাজনৈতিক দলের সদস্য।

এখন এই পিটিশনের উপর আলোচনা হবে কি না সে বিষয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু সিদ্ধান্ত নেবেন। যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন।

কংগ্রেস পার্টির একজন নেতা কপিল সিবাল বলেছেন, "আমরা আশা করছি বিচারপতিরা তাদের যেসব ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সেগুলো দেখা হবে। তাদের বিবৃতির তিন মাস পরেও প্রধান বিচারপতি যেহেতু বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেননি সেকারণে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এটা করা আমাদের দায়িত্ব।"

তিনি বলেন, "গণতন্ত্র ততক্ষণ কাজ করবে যতক্ষণ আমরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের হাত থেকে মুক্ত রাখতে পারবো।''

ভারতীয় সংবিধান অনুসারে সংসদের দুটো কক্ষে অনুমোদনের পরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে ইমপিচ করা সম্ভব। রাজ্যসভা ও লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন লাগবে। তবে অপসারণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন প্রেসিডেন্ট।

লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও উচ্চ-কক্ষে সেটা নেই।

সূত্র: বিবিসি

ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/একে/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত