‘বামপন্থী’ ফখরুলের আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস কম: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৩০ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৩৯

হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে- এমন বক্তব্যের সমালোচনা করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেই কড়া সমালোচনা করেছেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, তিনি সঠিক কথা বলেছেন, কিন্তু ‘আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস কম থাকায়’ ফখরুল এর সমালোচনা করেছেন।

স্বাধীনতাউত্তর ছাত্র থাকাকালে বিএনপি মহাসচিবের বামপন্থী সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ফখরুলকে ‘বামপন্থী’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

শনিবার বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কাদের।

গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীতে খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের চক্রান্তের বিষয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখুন বেগম জিয়ার বয়স হয়েছে, হায়াত তো জন্মের সময় নির্ধারণ হয়ে যায়। এটা পবিত্র কোরআন শরিফেই লেখা আছে।’

‘আওয়ামী লীগ কখনও এমন নোংরা রাজনীতি করেনি, করবেও না। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার কোনো রাজনীতি করছে না।’

আর শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার যে চক্রান্ত করে আসছে, সেটি ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

পরদিন করা সংবাদ সম্মেলনেও এই বক্তব্য দেয়ায় ওবায়দুল কাদেরের তীব্র সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবের এই বক্তব্য ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত।’

ফখরুলের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কাদের বলেন, ‘ঠিকই তো বলেছি। আমি এই রুম থেকে ওই রুমে যাওয়ার আগেও মারা যেতে পারি। উনি বামপন্থী রাজনীতি করেছেন, তাই আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস কম।'

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাত্রজীবনে দীক্ষা নিয়েছেন বাম রাজনীতিতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের একজন সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

স্বাধীনতার পর ১৪ বছর সরকারি চাকরি করার পর রাজনীতিতে ফিরে মির্জা ফখরুল আর বামপন্থায় বিশ্বাস রাখেননি। ১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষকতার চাকরি থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন তখন এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী।

১৯৮৮ সালে বাবা মির্জা রুহুল আমিন জাতীয় পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বছরেই ছেলে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হন। আর এরশাদ সরকারের পতনের শেষ দিকে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে।

কাদের তার সংবাদ সম্মেলনে ফখরুলের রাজনৈতিক দীক্ষার শুরুর দিকের পরিচয়টাকেই বড় করলেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/টিএ/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত