গণতন্ত্র বিদায়ের চক্রান্তে সরকার: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২১

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ’৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যে চেতনা নিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন সেই চেতনা ক্ষমতাসীন সরকার অপহরণ করে নিয়ে গেছে। অবৈধ, অগণতান্ত্রিক সরকার যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে তারা নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে দেশ থেকে গণতন্ত্রকে বিদায় করার চক্রান্ত করছে।’

শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর)  যুব সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রাম' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘সারাদেশে সরকার একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বন্দুক দিয়ে সবকিছু দমন করতে চাইছে। বিরোধী দলকে কোথাও সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। গতকাল নড়াইলে জেলা বিএনপির সভাপতির বাসায় নেতাকর্মীরা বৈঠক করার সময় হঠাৎ পুলিশ এসে বিনা কারণে বাসা ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কোথাও বিরোধী দলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। দিনের পর দিন এমন চলছে। যেদিন থেকে এই সরকার ক্ষমতা দখল করেছে সেদিন থেকে।’

ব্রিটেনে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘খুবই ভালো খবর। পত্রিকায় দেখলাম দুজনের করমর্দনের ছবি। কিন্তু রানি কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশের রানি করমর্দন করছেন যে দেশে জনগণের স্বাধীনতা নেই।  যে দেশে একটি দলের ক্ষমতায় থাকার জন্য অন্যসব দলের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, যে দেশের গণতান্ত্রিক নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।’

সরকারের পররাষ্ট্রনীতি চরমভাবে ব্যর্থ দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘এসব করে লাভ কী? দশ লাখ রোহিঙ্গা এলো অথচ একজনও এখন পর্যন্ত ফেরত নেয়নি বার্মা। ভারতের সঙ্গে নাকি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু এখনো তো বর্ডারে আমাদের দেশের মানুষ মারা যাচ্ছে। তিস্তার পানির হিস্যা এখনও আদায় করতে পারেনি সরকার। এরা পারবেও না। কারণ এরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া নির্জন কারাগারে আছেন। তিনি তো সুখে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি কেন এমন করছেন? গণতন্ত্রের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। এখনো করে যাচ্ছেন। ৭২ বছর বয়সে তাকে নির্মন ও নির্দয় জীবন কাটাতে হচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘গত ১৮ তারিখ আমরা চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলাম, কিন্তু ফিরে আসছি। গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে গেছেন কিন্তু দেখা করতে দেয়া হয়নি। গত দশ দিন ধরে চেয়ারপারসনের সঙ্গে পরিবার এবং দলের কারো কোনো যোগাযোগ নেই।  কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তার জামিন প্রলম্বিত করছে। এখন তার চিকিৎসাও বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ জামিন তার প্রাপ্য।’

তিনি সরকারের কাছে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বলেন, তাকে নিজের ইচ্ছামত জায়গায় চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হোক।

সরকার উন্নয়নশীল দেশ বলে প্রচার করলেও সিপিডির বক্তব্য অনুযায়ী দেশে মানুষের প্রকৃত কোনো আয় বাড়েনি বলেও দাবি করেন ফখরুল।

সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, লুটপাট চলছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের চোর,ডাকাত, ধর্ষণকারীদের ধরার সময় কোথায়? তারা তো আছে বিরোধী দলতে ঠ্যাঙাতে।’
খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সরকার নির্বাচন করতে চায় এমন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘তাকে জেলে রেখে কোন নির্বাচন করবেন? যেখানে বিরোধী দলকে পোস্টার লাগাতে দেন না, সভা সমাবেশ করতে দেন না সেই দেশে নির্বাচনের কথা বলতে তো আপনাদের লজ্জা লাগা উচিত। তাহলে ঘোষণা দিয়ে দেন যে যতদিন বন্দুক আছে ততদিন আমরা ক্ষমতায় থাকবো। কিন্তু বাংলাদেশে এটা হবে না। কারণ অতীতেও কেউ পারেনি ক্ষমতায় থাকতে।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশে নির্বাচন তখনই হবে যখন পরিবেশ থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে আমাদের নেতৃত্ব দেবেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। তাই আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। অবিলম্বে কমপক্ষে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন।’
সংগঠনের আহ্বায়ক মহসিন সরকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত