‘এত দুর্ঘটনা হচ্ছে তবুও রানা প্লাজা নিয়েই সমালোচনা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৫৪ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:০৪

বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, ‘পৃথিবীতে এত দুর্ঘটনা হচ্ছে অথচ রানা প্লাজা দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি হলেই এটা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। অথচ রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো শ্রমিক বলতে পারবে না যে তারা ক্ষতিপূরণ পায়নি।’ শনিবার বিকালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পাঁচ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিএমইএ ভবনের কনফারেন্স হলের এই সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমই এর সভাপতি জানান, যারা শিল্পায়নের মাধ্যমে আজকে উন্নয়নের এই পর্যায়ে পৌঁছেছে তাদেরকেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ হাজার ১৩ জন। আর চীনে একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ হাজার ১১৮ জন। জাপানে তিন হাজার ৭৮২ জন। ১৯৪২ সালের ২৬ এপ্রিল চীনের বেনঝু কয়লা খনি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক হাজার ৫৪৯ জন।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে এই দুর্ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছি। দেখা যায় এই দুর্ঘটনা নিয়ে কিন্তু এত এতো বেশি প্রোপাগান্ডা হয়নি। যেভাবে রানা প্লাজা নিয়ে এখনও হচ্ছে। অথচ আমাদের এই শিল্পে গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে। বাংলাদেশ এখন সবুজ শিল্পায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। লিড সার্টিফাইড ১০টি কারখানার মধ্যে সাতটি কারখানাই বাংলাদেশি।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আমাদের কারখানাগুলো অনেক সংস্কারের কাজ করেছি। এখন বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কারখানাগুলো নিরাপদ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখছে। এর ফলে এই খাতে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। গত বছর দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল এবছর সেটা ১১ শতাংশ হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো শ্রমিক বলতে পারবে না যে, তারা ক্ষতিপূরণ পায়নি। রানা প্লাজা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছিল। এ ফান্ড থেকে আমরা এই পর্যন্ত ২৪০ কোটি টাকা রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হয়েছে। এখন টাকা রয়েছে কিন্তু কেউ নিতে আসে না।’

সিদ্দিকুর রহমান লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১১৩৮ জন মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ২০০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। প্রায় ২৪০০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত প্রায় ৮৫০ জনকে বিজিএনইএর উদ্যেগে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর নিরাপদ কর্মপরিবেশ রক্ষায় বিদেশি ক্রেতাদের জোট অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স কাজ করেছে। তাদের পাঁচ বছর শেষ হবে আগামী মে মাসে। সরকার, ক্রেতাজোট, বিজিএমইএর ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন হবে। তারা পরবর্তী ছয় মাস কাজ করবে।

পোশাক শিল্প নিয়ে এখনও বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করছে জানিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা মনে করি সবার সহোযোগিতা পেলে আগামী পাঁচ বছরে এ শিল্পে দুই কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। বিশ্ব পোশাক বাজারে বাংলাদেশের শেয়ার মাত্র ৬ শতাংশ। এই মেয়ার আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে। এজন্য সরকার, শ্রমিক সংগঠন, এনজিও সুশীল সমাজ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সরকার আমাদের বিদ্যুৎব্যবস্থা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আশা করি দুই-এক মাসের মধ্যে গ্যাসও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

এসময় বিজিএমইএর সভাপতি রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তার কথা তুলে ধরেন। বলেন, আমরা তাদের কর্মসংস্থানসহ অর্থিক সহায়তা করেছি। গত আড়াই বছরে আমার কাছে কেউ সহায়তার জন্য আসেনি।

সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় গুরুহত আহত এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারদের ২৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই তহবিল থেকে গুরুতর আহত ৩৮ জনের প্রত্যেককে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাক দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির, পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন, এনামুল হক খান বাবলু।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত