গাজীপুরে ১১৪ কাউন্সিলর প্রার্থী আসামি, শিক্ষায় পিছিয়ে নারীরা

আবুল হাসান, গাজীপুর
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ২০:০৫ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৫৭
ফাইল ছবি

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৮৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১৪ জনই বিভিন্ন মামলার আসামি। ১৯টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে অবশ্য মামলার আসামি নেই।

হলফনামা থেকে জানা গেছে, পাঁচটি ওয়ার্ডের ২০ জন প্রার্থীর কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তিনটি ওয়ার্ডের প্রত্যেক প্রার্থীদের নামেই মামলা রয়েছে।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের তিনজন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিনজন এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের চারজন প্রার্থীর সবাই বিভিন্ন মামলার আসামি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সচরাচর মেয়র পদে নির্বাচন নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। এর বাইরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে কারা নির্বাচিত হয়ে আসছেন সে বিষয়টি গণমাধ্যমে সেভাবে আসে না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কাউন্সিলর হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়ে আসেন, তাদের একটি বড় অংশই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী নন।

আগামী ১৫ মে এই প্রার্থীদের মধ্যেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন নগরবাসী। এ ক্ষেত্রে সুচিন্তিত মতামত দেয়ার অনুরোধ করেছেন গাজীপুর আদালতের সাবেক এপিপি আসাদুল্লাহ বাদল। তিনি বলেন, ‘যাদের নামে কোনো মামলা নেই এবং তারা যদি তুলনামূলক স্বচ্ছ প্রকৃতির লোক হন তবে তারা যে এলাকা থেকেই নির্বাচিত হন ওই এলাকায় অপরাধ প্রবণতাটা অনেকটা কম থাকবে।’

‘আর যেখানে সব প্রার্থীদের নামেই মামলা তাদের মধ্যে বোঝা গেছে সেখানে তুলনামূলক স্বচ্ছ বা অপরাধ প্রবণতা নাই এমন লোক হয়ত নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাননি। তাতে করে মন্দের ভালো থেকে যাকেই বেছে নেয়া হোক না কেন তার মধ্যে অপরাধ প্রবণতা থাকবে এবং ভবিষতে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।’

এক নম্বর ওয়ার্ডের ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন, দুই নম্বর ওয়ার্ডের আট প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন, তিন নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন, চার নম্বর ওয়ার্ডে চারজনের মধ্যে দুইজন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের তিনজনের মধ্যে একজন, ছয় নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন, সাত নম্বর ওয়ার্ডে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজন, আট নম্বর ওয়ার্ডের তিনজনের মধ্যে একজন মামলার আসামি।

নয় নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজনের মধ্যে একজন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় প্রার্থীর মধ্যে একজন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে একজন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় প্রার্থীর মধ্যে দুইজন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে আছে মামলা।

১৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আটজনের মধ্যে ছয়জন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাতজনের মধ্যে দুইজন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ জনের মধ্যে পাঁচজন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন, ২৬নং ওয়ার্ডে তিনজনের মধ্যে একজন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আটজনের মধ্যে চারজন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজন বিভিন্ন মামলার আসামি।

৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সাত প্রার্থীর মধ্যে একজন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জনের মধ্যে দুইজন, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে চারজনের মধ্যে একজন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জনের মধ্যে দুইজন, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে চারজনের মধ্যে দুইজন, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজনের মধ্যে দুইজন, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাতজনের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা আছে।

৪০ নম্বর ওয়ার্ডে চারজনের মধ্যে দুই জন, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জনের মধ্যে একজন, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে দুইজন, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজনের মধ্যে একজন, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজনের মধ্যে দুইজন, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে দুইজন, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন আসামি।

৫০ নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জনের মধ্যে দুইজন, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজনের মধ্যে দুইজন, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে আটজনের মধ্যে দুইজন, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজনের মধ্যে তিনজন, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজনের মধ্যে দুইজন, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজনের মধ্যে দুইজন এবং ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় প্রার্থীর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

হলফনামায় দেখা গেছে, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচ প্রার্থী, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছয় প্রার্থী, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিন প্রার্থী, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের চার প্রার্থী এবং ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুই প্রার্থীর কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

শিক্ষায় পিছিয়ে নারী প্রার্থীরা

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত ১৯ শতাংশ। বাকিরা স্বশিক্ষিত থেকে স্নাতক পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পড়ালেখা করেছেন।

প্রার্থীদের মধ্যে ২১ শতাংশ ব্যবসা করেন, চাকরি করেন ১৭ শতাংশ। আর ৪২ শতাংশ প্রার্থী গৃহিনী।

প্রার্থীদের মধ্যে ২৪ জন অষ্টম ও দুইজন দশম শ্রেণি, ১০ জন এসএসসি ও সাতজন এইচএসসি পাস করেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচজন স্নাতক ও ছয়জন স্নাতকোত্তর করেছেন। এর বাইরে ছয়জন প্রার্থীর এলএলবি ডিগ্রি রয়েছে। পাঁচজন প্রার্থীর অক্ষরজ্ঞান রয়েছে এবং আটজন বলেছেন তারা স্বশিক্ষিত।

এক নম্বর ওয়ার্ডে-পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন এইচএসসি পাস, দুইজন অষ্টম শ্রেণি, দুইজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের মধ্যে দুইজন ব্যবসায়ী ও দুইজন গৃহিণী।

দুই নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুইজন এইচএসসি, একজন অষ্টম শ্রেণি পাস। হলফনামায় দুইজন শিক্ষার ঘরে লিখেছেন অন্যান্য। তাদের তিনজন গৃহিণী ও দুইজন ব্যবসায়ী।

তিন নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন এসএসসি পাস, একজন দশম শ্রেণি এবং একজন অষ্টম শ্রেণি। তাদের একজন গৃহিণী, দুজন ব্যবসায়ী।

চার নম্বর ওয়ার্ড এর চার প্রার্থীর মধ্যে একজন এসএসসি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস, একজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন চাকরিজীবী, একজন গৃহিণী ও বাকিরা ব্যবসায়ী।

পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড ছয় প্রার্থীর মধ্যে একজন স্নাতক। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুইজন, তিনজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন ব্যবসায়ী বাকিরা গৃহিণী।

ছয় নম্বর ওয়ার্ডে সাত প্রার্থীর মধ্যে একজন মাস্টার্স পাস। দুইজন এইচএসসি, একজন এসএসসি এবং একজন পঞ্চম শ্রেণি পাস। আর দুইজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন চাকরিজীবী, একজন ব্যবসায়ী ও পাঁচজন গৃহিণী।

সাত নম্বর ওয়ার্ড এর তিন প্রার্থীর সবারই শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। তারা সবাই গৃহিণী।

আট নম্বর ওয়ার্ড এর সাতজনের মধ্যে দুইজন এলএলবি পাস, একজন এসএসসি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন। অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন দুইজন। তাদের দুইজন চাকরিজীবী, একজন ব্যবসায়ী ও চারজন গৃহিণী।

নয় নম্বর ওয়ার্ড এর পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন এলএলবি করেছেন। একজন সম্মান, একজন এইচএসসি, এবং বাকি দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস; আর একজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের মধ্যে একজন চাকরিজীবী, একজন ব্যবসায়ী এবং তিনজন গৃহিনী।

১০ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন এলএলবি পাস এবং দুইজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন চাকরিজীবী, দুইজন ব্যবসায়ী।

১১ নম্বর ওয়ার্ড এর চার প্রার্থীদের মধ্যে তিনজন অষ্টম শ্রেণি এবং একজন এসএসসি পাস করেছেন। তাদের একজন ব্যবসায়ী, তিনজন গৃহিণী।

১২ নম্বর ওয়ার্ড এর চার প্রার্থীর মধ্যে একজন এইচএসসি ও বাকি তিনজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বলে হলফনামায় জানিয়েছেন। তারা সবাই গৃহিণী।

১৩ নম্বর ওয়ার্ড তিন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন মাস্টার্স ও একজন এসএসসি পাস করেছেন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এর তিন জনের মধ্যে একজন এলএলবি পাস। একজন এইচএসসি ও একজন এসএসসি ।

১৫ নম্বর ওয়ার্ড এর ছয়জন জনের মধ্যে একজন মাস্টার্স, একজন স্নাতক, একজন অষ্টম শ্রেণি পড়েছেন। তিনজন স্বশিক্ষিত। তাদের মধ্যে একজন সাংবাদিক, একজন ব্যবসায়ী ও বাকিরা গৃহিনী।

১৬ নম্বর ওয়ার্ড এর পাঁচ জনের মধ্যে একজন এলএলবি পাস; একজন স্নাতক, একজন এসএসসি, ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি।

১৭ নম্বর ওয়ার্ড এর চার জনের মধ্যে স্নাতক একজন, একজন দশম শ্রেণি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস।

১৮ নম্বর ওয়ার্ড এর তিনজনের মধ্যে দুইজন মাস্টার্স ও একজন স্নাতক পাস।

১৯ নম্বর ওয়ার্ড এর চারজন জনের মধ্যে দুইজন এসএসসি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস। তাদের মধ্যে তিনজন গৃহিণী, একজনের পেশা ব্যবসা।

তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডের ভোটাররা মিলিয়ে একজন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীকে নির্বাচন করবেন। এ ক্ষেত্রেও তুলনামূলক যোগ্যদেরকে বেছে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন গাজীপুর আদালতের সাবেক এপিপি আসাদুল্লাহ বাদল।

আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ হবে এবং এরপর মোট ৫৭টি ওয়ার্ডের ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৬ জন ভোটারের মন জয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত