ভিডিও কনফারেন্সে খালেদার বিচারে আপত্তি

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:০৬ | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:০৩
ফাইল ছবি

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা অবশিষ্ট বিচার কার্যক্রম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপত্তি জানিয়েছেন।

রবিবার সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এ আপত্তি জানান।

এর আগে এদিন দুদকের প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে এ আবেদন আদালতে মৌখিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচার পরিচালনার আবেদন করেন।

এদিন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এজলাসে উঠলে দুদকের প্রসিকিউটর কাজল বলেন, আজ  (রবিবার) যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য আছে। মামলার প্রধান আসামি হয় তিনি কারাগার থেকে আসেননি, না হয় তাকে হাজির করা হয়নি। কারাগার থেকে আদালতে তার (খালেদা জিয়া) কাস্টরি এসেছে, সেখালে লেখা আছে তিনি ফিজিক্যালি আনফিট ফর টুডে। আমরা হতাশ হচ্ছি। তিনটি ধার্য তারিখে একই অবস্থা। আমি এর আগে আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের কথা বলেছিলাম। আমরা উভয়পক্ষ যদি একমত হই তবে বিচার এগিয়ে যেতে পারে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অবশিষ্ট বিচার এগিয়ে নিতে পারি। এজন্য আসামি পক্ষের সহায়তা প্রয়োজন। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচার চলছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতা লালু প্রসাদের মামলা ভিডিও কনফারেন্সে হয়েছে। আমাদের দেশে এখনো হয়নি। তবে হতে দোষ নেই।

দুদকের পক্ষের বক্তব্যের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সারাউল্লাহ মিয়া বলেন, প্রসিকিউটর সাহেব বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ, কিন্তু কী কারণে অসুস্থ তা বলেননি। আমরা ম্যাডামের অসুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অসুস্থতার কারণও জানতে পারছি না। তাকে আদালতেও হাজির করা হচ্ছে না। ভিডিও কানফারেন্সের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করতে পারেন, কিন্তু বিচার করতে পারেন না। আইনে যে বিধান নেই তাতে আমাদের ঘোরতর আপত্তি আছে। আমরা ম্যাডামের জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করছি।

এ সময় প্রসিকিউটর কাজল জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, কাস্টরিতে থাকা আসামির জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি হয় না। উত্তরে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এটাই আমাদের প্র্যাকটিস।

শুনানি শেষে বিচারক আগামী ১০ মে পর্যন্ত জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধিসহ ওইদিন যুক্তিতর্ক শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন। তবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধমে বিচারের বিষয়ে বিচারক কোনো আদেশ দেননি।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন একই আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি অব্যাহত রয়েছে এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি আছে। একই বিচারক অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠান।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত