খালেদাকে বিদেশে নেয়ার প্রসঙ্গ উদ্দেশ্যমূলক: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:০২ | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:৫৪

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার দাবি তোলা বিএনপিই এখন এই প্রসঙ্গটিকে উদ্দেশ্যমূলক আখ্যা দিয়েছে।

রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান ও এম হাফিজউদ্দিন আহমেদ। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ যাওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে একে উদ্দেশ্যমূলক আখ্যা দেন নজরুল।

যারা বন্দী অবস্থায় থাকেন তাদের বিদেশ নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয় বলে নজির আছে-একজন গণমাধ্যম কর্মী এই বিষয়টি তুলেছিলেন। জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘এ প্রশ্ন আসে কেন আমি বুঝি না। তার চিকিৎসা এখানকার হাসপাতালেই করার কথা বলছি। এখানেই যদি চিকিৎসা হয়ে যায় তাহলে অন্য প্রশ্ন আসে কেন? কেউ কেউ এ প্রসঙ্গটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তুলছেন বলে আমরা মনে করি। বাইরে তাকে (খালেদা জিয়া) পাঠানোর প্রশ্ন আসছে না এখানে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী। আর ২৮ মার্চ অন্য একটি মামলায় তাকে কারাগারে হাজির না করার পর থেকেই তার অসুস্থতার গুঞ্জন ছড়ায়।

আর ৩০ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানান। একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলে তারা এতে রাজি।

এরপর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। বিএনপিরই কর্মী সমর্থকরা জানার চেষ্টা করতে থাকেন, সরকারের সঙ্গে বিএনপি কোনো সমঝোতায় যেতে চাইছে কি না।

তবে একদিন দাবি তোলার পর বিএনপি আর প্রসঙ্গটি নিয়ে কোনো কথা বলেনি। বিদেশে নেয়ার বদলে এখন তারা তাদের নেত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

এই দাবি জানাতেই সচিবালয়ে গিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নজরু ইসলাম খান বলেন, ‘রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানোর জন্য সরকারের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে একটা রাজনৈতিক মামলায় কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে। তিনি পরিত্যক্ত জায়গায় নির্জন অবস্থায় আছেন। এ নিয়ে আমরা অনেকবার কথা বলেছি। কিন্তু সম্প্রতি গুরুতর ঘটনা হল, উনি (খালেদা জিয়া) খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উনি চলতে পারেন না।’

‘কয়েক মাস আগে উনার চোখের অপারেশন হয়েছে লন্ডনে। একটা চোখ অনেক লাল হয়ে গেছে। উনার অর্থপেডিক সমস্যা আছে। তার দুই পায়ে রড বসানো। উনি হাঁটতে পারছেন না। অনেক বেশি দুর্বল বোধ করছেন। সব মিলিয়ে নানারকম সমস্যা আছে।’

‘আমরা দুই দিন আগে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম সরকারের অনুমতি ক্রমেই। কিন্তু জেলগেট থেকে আমাদেরকে ফেরত আসতে হয়েছে। এরপরের দিন তার আত্মীয়-স্বজনরা গিয়েছিলেন দেখা করতে, তারাও দেখা করতে পারেননি। ফিরে আসতে হয়েছে জেলগেট থেকে।’

‘প্রথম দিন জানানো হয়েছে অন্য কথা, পরদিন জানানো হলো, উনি হাঁটতে পারছেন না, দোতলা থেকে নিচতলায় নামতে পারছেন না। এজন্য দেখা হবে না।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা কয়েকটি অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানোর জন্য এসেছি। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, উনার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। এই চিকিৎসা যেহেতু পরীক্ষা-নিরীক্ষা নির্ভর, তাই উপর্যুক্ত স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করা হোক।’

‘উনার পিজিওথেরাপি দরকার। সেটাও জেলখানায় সম্ভব নয়, অন্য কেউ শিখিয়ে দিয়ে যাবে আর নার্সরা করবে সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ফিজিওথেরাপিতে কোনো ভুল হলে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

‘আমরা বলেছি, ইউনাইটেড হাসপাতালে উনার আগেও পরীক্ষা হয়েছে, এবং সেখানকার যারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তাদের প্রতি তার (খালেদা জিয়া) আস্থা আছে। তাই চাইলেই সেখানে করাতে পারেন।’

‘এতে অন্য কারও অনুমতির দরকার হয় না, জেল কর্তৃপক্ষ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি যথেষ্ট। কারণ, তারা নিজেরা কয়েকদিন আগে বেগম খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।’

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলকোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হবে। আর চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলে জেলকোডের বাইরে গিয়েও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা হবে।

মন্ত্রীর এই বক্তব্য ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আইজি প্রিজনকে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। উনার সামনেই কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, যেখানে ভালো চিকিৎসা করানো সম্ভব সেখানে করার ব্যাপারে উনি তার সম্মতির কথা জানিয়েছেন। ’

‘এখন আমরা অপেক্ষা করব, আইজি প্রিজন কী ব্যবস্থা নেন। আমরা আশা করছি, তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হবে, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’

নজরুল ইসলাম খান জানান, কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গেলে খালেদা জিয়াকে নিচ তলায় নেমে আসতে হয় বলে তার কষ্ট হয়। এ জন্য দোতলায় গিয়ে যেন তার নারী স্বজনরা যাতে দেখা করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করার অনুরোধও করেছেন তারা।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/এমএম/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত