‘ঢাবিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতন হয়েছে’

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:০৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রীদের হয়রানির ঘটনাকে দেশের শ্রেষ্ঠ এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক সমাজ। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন শিক্ষকরা।

রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে আয়োজিত এক মানবন্ধনের এসব কথা বলেন তারা।

মানবন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবসময় আছেন। তাদের যেকোনো ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা সবসময় একমত পোষণ করব। আর যদি কোনো শিক্ষার্থী তার ন্যায্য দাবি আদায়ের সংগ্রামে হয়রানির শিকার হয়, তাহলে শিক্ষকরা এর সমুচিত জবাব দেবে।’

সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষকরা বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের আটক করার আগে আমাদের আটক করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে মানববন্ধনে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘যেভাবে ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে সেটা আমার কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জার মনে হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে এই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতিত হলো। সেটা আবার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ এলাকা হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সুতরাং এটা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জার।’

খ্যাতিমান এই লেখক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক নারী নির্যাতনের ঘটনা এটাই যেন সর্বশেষ হয়, সেদিকে অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে।’ 

মানবন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ছয়টি লিখিত দাবি পেশ করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান।

দাবিগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে, তাদের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিধিসম্মতভাবে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

রাষ্ট্রীয় বাহিনী কিংবা বেসরকারি কোনো গোষ্ঠী দ্বারা কোনো ছাত্র-ছাত্রী যেন আক্রান্ত না হয় সেজন্য অবিলম্বে একটি বিশেষ সেল গঠন করতে হবে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নয়, আন্দোলন চলাকালে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর সঙ্গে যারা  সুনির্দিষ্টভাবে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে নারকীয় তাণ্ডবে যারা জড়িত তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনসহ সকল আাবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে এবং তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি হলো দুটি। একটি হলো আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চাই, দ্বিতীয়টিও নিরাপত্তার বিষয়, তবে তা শিক্ষকদের।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্র স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। আমরা জানি স্বায়ত্বশাসন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টরের অনুমতি ছাড়া পুলিশ ঢুকতে পারে না। সুতরাং ঢাবি স্বায়ত্বশাসন অনুযায়ী পুলিশ যখন তখন এখানে কিছু করতে পারবে না। তাকে পূর্বানুমতি নিতে হবে।’

বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের নির্বাচিত করেছি, নিশ্চিতভাবে বলতে পারি তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার এই নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।’ 

‘ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা’ শীর্ষক এই মানবন্ধনে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন ওয়াদুদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ব্যাপারী, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সংগীতা আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকীসহ অর্ধশত শিক্ষক।

(ঢাকাটাইমস/এসএইচ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত