‘যু্ক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন, একতরফা, মনগড়া ভিত্তিহীন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৪৯ | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৩৬

২০১৭ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে একে ‘একতরফা ও মনগড় ‘ বলেছে সরকার।

এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সরকারের ভাষ্য না নেয়াকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতও বলেছেন সরকারের মুখপাত্র তথ্যমন্ত্রী হানাসুল হক ইনু।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দিন বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ একতরফা, মনগড়া এবং ভিত্তিহীন। একটা দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ওই দেশের সরকারের ভাষ্য না নেয়াটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ। আমরা এ প্রতিবেদন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, গুমের অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অপরাধে জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পার পেয়ে গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত। গণমাধ্যমে স্বাধীনতা থাকলেও অনেক সাংবাদিক নিজে থেকেই সেন্সরশিপ আরোপ করে হয়রানির ভয়ে। নতুন গণমাধ্যম অনুমোদনের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পায়।

এ ছাড়াও নানা বিষয়ে সমালোচনা রয়েছে প্রতিবেদনে। আর এসব মন্তব্যের প্রতিটির বিষয়েই জবাব দেন তথ্যমন্ত্রী।

প্রতিবেদনে বহুল আলোচিত ‘বিচার বহির্ভূত হত্যার’ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অধিকার-এর তথ্যগত অমিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তথ্যমন্ত্রী।

‘অধিকার’ এর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা হেফাজতের তাণ্ডবের সময় মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

‘অধিকার সংগঠনটি রিপোর্ট দিয়েছিল, শাপলা চত্বরে হেফাজতের হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। পরে  সরকার থেকে তাদের কাছে মৃত ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়ার পরেও তারা তালিকা দিতে পারেনি। পরবর্তীতে দেখা গেছে যাদের মৃত বলা হয়েছিল তারা বেঁচে আছে। অধিকার সংগঠন যে কোনও ভালো রিপোর্ট দেয় না তার প্রমাণ এটাই।’

ইনু বলেন, ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলেছে, গত বছর বাংলাদেশে ১৬২ জন বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। অপরদিকে ‘অধিকার’ বলেছে গত বছর বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ১১৮ জন। এই দুইটি সংস্থার নিজেদের প্রতিবেদনের মধ্যেই অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এই দুটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই গত ২০ এপ্রিল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই রিপোর্ট দেয়।  আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি।’

বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনায় কাউকে দায়মুক্তি দেয়ার বিষয় বাংলাদেশের আইনে নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কোন ধরনের বিচারবর্হিভুত হত্যার অনুমতি দেয়া হয় না। গুম-খুনের কিছু ঘটনা ঘটেছে, যার বিচার চলছে।’

‘সরকার কোনওভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করে না। কাজেই বিচার বহির্ভূত হত্যায় যারা জড়িত তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার কোনও এখতিয়ার কারও নাই।’

সভা সমাবেশ করতে গেলে অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে বাংলাদেশে-যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনে থাকা এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সভা সমাবেশ করতে হলে অনুমতির প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আছে। ফলে সভা সমাবেশ করা যাচ্ছে না এটা বলা যাবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে সংবিদানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের পর পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে সরকারের টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সম্পর্কে রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা সঠিক নয়। বিচারপতি এসকে সিনহা নিজেই নিজেকে নানাবিধ বিতর্কে বিতর্কিত করে রিজাইন দিয়ে চলে গেছেন।’

‘বাংলাদেশের বিচারকরা ঘুষ খান’ বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে করা মন্তব্যকে ‘একটি হালকা মন্তব্য’ বলে অভিহিত করেন তথ্যমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতকে এনজিও হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে ইনু বলেন, ‘জামায়াত কোনও এনজিও নয়। জামায়াত ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন হারিয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে ক্রিয়াশীল রয়েছে।’

বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যম ও এনজিও কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হচ্ছে—প্রতিবেদনের এমন মন্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন, দুই হাজারের বেশি এনজিও ও স্বাধীন গণমাধ্যম কাজ করছে। বাংলাদেশের অনলাইন গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের কোনও বিরোধ সৃষ্টির ঘটনা ঘটেনি।’

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আছে। এ প্রসঙ্গে ইনু বলেন, বাংলাদেশে ১৮ বছরের কমবয়সী বালিকাদের বিবাহ নিষিদ্ধ করে আইন চলমান আছে।’

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/এমএম/ডবিলউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত