চবিতে সাদা দলে ভাঙন

রায়হান উদ্দিন, চবি
 | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ২০:০৪

আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বাম সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘হলুদ দল’ এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানারে প্যানেল ঘোষণা করেছে। তবে প্রথমবারের মত বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল সাদা দল ভেঙে স্বতন্ত্র প্যানেলের আবির্ভাব হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা উভয় প্যানেলে চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করেছে।

এতে করে ৩২ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্ষদে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করা এ সংগঠনটির ভাঙন স্পষ্ট হলো। তবে আওয়ামী লীগ ও বাম সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘হলুদ দল’ সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত বিএনপি-জাময়াতপন্থী শিক্ষকরা ‘সাদা দল’ গঠন করেন। যেখানে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা ছাড়াও এ সংগঠনে কিছু সাধারণ শিক্ষক রয়েছেন। সাদা দলের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে ১৫ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি রয়েছে। বর্তমানে স্টিয়ারিং কমিটির ১৫ সদস্যের প্রায় সকলেই জামায়াতপন্থী।

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অভিযোগ, তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক আধিপত্য ও স্বেচ্ছাচারিতা বজায় রাখে। ফলে বিএনপিপন্থী শিক্ষরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম গঠন’ করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের শেষের দিকে এই ফোরামটি গঠিত হয়। বর্তমানে এর সদস্যা সংখ্যা ৭০ জন।

আগামী ২৫ এপ্রিল সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতির চূড়ান্ত নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে লড়বেন মোট ৩৩ জন শিক্ষক। এছাড়া ১৮ ও ২৩ এপ্রিল শিক্ষক সমিতি কার্যালয়ে অগ্রিম ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫৭ জন শিক্ষক তাদের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ গফুর।

সাদা দল থেকে বেরিয়ে আসা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সদস্য ও নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী প্রফেসর ড. এস এম নসরুল কাদির বলেন, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার পাইনি। বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকরাও জামায়াতের সাথে থাকতে আগ্রহী না। তাই এবার শিক্ষক সমিতির নির্বচনে আমরা আলাদা প্যানেলে নির্বাচন করছি।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে সাদা দলের যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, জামায়াত-বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে কোনো বিভাজন হয়নি। স্টিয়ারিং কমিটিতে আসতে না পেরে বিএনপির একটি ছোট্ট একটা ক্ষুদ্র অংশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে আলাদাভাবে মনোনয়ন নিয়েছে। তবে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বেশিরভাগই সাদা দলে আছেন। বিএনপি-জামায়াত মিলেই সাদা দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।

এদিকে সাদা দলে বিচ্ছেদকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আওয়ামী ও প্রগতিশীল বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'হলুদ দল'।

দলটির স্টিয়ারিং কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ বলেন, প্রতিবারই আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ছিলাম এবং জয়লাভও করেছি। এবার তাদের বিচ্ছেদ বা ভাঙনে আমাদের জয় দুই শতভাগ নিশ্চিত। সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধ।

নির্বাচনে সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল আমীন (জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম), একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রফেসর ড. আহমদ সালাউদ্দিন (হলুদ দল) ও মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শওকতুল মেহের (সাদা দল)।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. অলক পাল (হলুদ দল), ফাইন্যান্স বিভাগের প্রফেসর এস এম নছরুল কদির (জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম) ও মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন (সাদা দল)। সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী (জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম), ফাইন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. বেগম ইসমত আরা হক (সাদা দল) ও মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. রাশেদ উন নবী।

অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এন এম সাজ্জাদুল হক সুমন (সাদা দল), অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তারিকুল হাসান চৌধুরী (হলুদ দল) ও ফাইন্যান্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর (জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম)।

যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ (জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম), আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মঞ্জরুল আলম (হলুদ দল) ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শের মাহমুদ (সাদা দল)।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত