রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৪৪ | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ২০:০৫

মিয়ানমারে সেনা নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে বিশ্ব নেতাদের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশকে অনুদানও দেবে সংস্থাটি। তারা ছাড়াও আরও ছয়টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই সহায়তা দেবে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির সদরদপ্তরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউনএইচসিআরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগীদের একটি বৈঠকের আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক। এই বৈঠকেই বাংলাদেশকে অর্থ, ত্রাণ সহযোগিতা এবং সর্বোপরি মিয়ানমারের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোহিঙ্গা পুনর্বাসন এবং তাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, ইইউ বাংলাদেশকে দ্রুত অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

চীন ও জাপান ছাড়া অংশগ্রহণকারী সব দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানান।

বৈঠকে অংশ নেয়া দেশগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অর্থ ও ত্রাণ সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর নানামুখি চাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা হয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশকে প্রদেয় অর্থের পুরোটাই অনুদান হিসেবে দিবে সংস্থাটি। তবে কবে নাগাদ এ অর্থ প্রদান করা হবে তা বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার সরকার। আর সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে চার দশক ধরে পার্শবর্তী বাংলাদেশে ছুটে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের নৃশংসতার মধ্যে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এদের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলায় আশ্রয় শিবিরে।

রোহিঙ্গাদের স্রোত শুরু হওয়ার পর বিষয়টি বাংলাদেশ তোলে জাতিসংঘে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও প্রথমে রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা স্বীকার না করলেও পরে ‘কিছু হত্যার’ বিষয়টি স্বীকার করেন দেশটির সেনা প্রধান।

আর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে দিতে দেশটির সঙ্গে প্রথমে সমঝোতা স্মারক এবং পরে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট নামে চুক্তিও হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান সীমান্তে দুই দেশের শূন্য রেখায় অবস্থানকারী আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকাও দেয়া হয় মিয়ানমারকে। যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাই বাছাইয়ের নামে সেখান থেকে মাত্র তিনশ মতো রোহিঙ্গাকে তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে।

এরই মধ্যে শনিবার (২১ এপ্রিল) রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মিথ্যাচার করে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ইয়াঙ্গুনে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে তারা বাংলাদেশকে একটি যাচাই ফরম বিতরণ করতে বলেছিল। অথচ বাংলাদেশ সে কাজে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে না নিয়ে তালবাহানা করছে-এ কথা জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদের জন্য মানসম্পন্ন আশ্রয় প্রকল্প নির্মাণে সরকারকে বিপুল টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/ডিএম/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত