প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
| আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১২:১৭ | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ২১:১৮

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তরিকুল ইসলাম নামে ওই প্রধান শিক্ষক উপজেলার চাঁন্দলাই পরগনা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে ওই স্কুলেরই একজন সহকারী শিক্ষক জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলামের নানা অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সনিতা বমনি নামে এক আদিবাসী শিক্ষার্থী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিল। সুনিতার অভিযোগ, তারসহ মোট তিন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত করেছিলেন প্রধান শিক্ষক। তবে এ নিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

নতুন করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, এখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে টাকা আদায় করছেন প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে এ বছর স্বাধীনতা দিবসে খেলাধুলার নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি ৫০ টাকা করে আদায় করেছেন। কিন্তু খেলাধুলার আয়োজন করা হয়নি। এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক।

অন্যদিকে শিক্ষাবোর্ডের রেজিস্ট্রেশনের নামে তিনি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০০ এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে আদায় করেছেন। অথচ বোর্ডের চিঠিতে এতো টাকা নেয়ার নির্দেশনা নেই। এছাড়া শিক্ষাসফর আয়োজনে তিনি প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে আদায় করেন। হিসাব করে দেখা যায় মাথাপিছু ৮৫ টাকা করে অতিরিক্ত তুলেছিলেন প্রধান শিক্ষক। এই টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে স্কুলের জমি কেনা, শিক্ষার্থীদের সোয়েটার ও টুপি কেনা, ব্যাজ ও পরিচয়পত্র তৈরিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত ভর্তি ফি, পাঠাগার ফি এবং স্কাউট ফি আদায়েরও অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে স্কুল শেষে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের তিনি প্রাইভেট পড়ান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কুলের স্বার্থে এসব তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খেলাধুলার নামে যে টাকা নেয়া হয়েছে- তা জমি কেনার টাকায় যোগ করা হয়েছে। আর স্কুলের উন্নয়নের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সময় অতিরিক্ত কিছু টাকা নেয়া হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলো সঠিক নয়। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এ অভিযোগ করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/আরআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত