গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যায় স্বামী আটক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৫৬
ফাইল ছবি

যৌতুকের দাবিতে লক্ষ্মীপুরে পিয়ারাপুর এলাকায় গৃহবধূ জোসনা বেগমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও  লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে সুরমা বেগম, রহমত উল্যাহ, হালিমা ও রুনা বেগমকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার বিকালে সদর উপজেলার পিয়ারাপুর ও পাশের কামালপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। জোসনা হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। বিকালে নিহতের বাবা বাহার উদ্দিন ঘাতক স্বামী সুজনের নাম উল্লেখ করে আরো তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় এ হত্যা মামলা করেন।

অপরদিকে শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জোসনা বেগম হত্যার কান্ডের জের ধরে ররিবার বিকালে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে পিয়ারাপুর এলাকার সোহাগ পাটোয়ারীর বাড়ি, সুজন পাটোয়ারীর বাড়ি, হারুন ও পাশের কামালপুর এলাকার নুর হোসেনের বাড়িসহ ছয় বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় সুরমা বেগম, রহমত উল্যাহ, হামিলা বেগম রুনাসহ পাঁচজন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর নিহতের স্বামী সুজনকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পিয়ারাপুর ও কামালপুর কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিয়ের পর থেকে গৃহবধূ জোসনা বেগম ও তার পরিবারকে যৌতুকের জন্য চাপ দেয় স্বামী সুজনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ নিয়ে প্রায় জোসনা বেগমকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাত স্বামী সুজন। যৌতুকের জন্য ঘটনার আগের দিন শুক্রবার দিনে এবং রাতে স্বামী সুজনসহ অন্যরা একাধিকবার জোসনা বেগমকে নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে শনিবার রাতের কোন এক সময়ে জোসনা বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে জোসনা বেগম বিষ প্রাণে আত্মহত্যা করছে বলে এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালায় তারা। এ ঘটনা ধামা-চাপা দেয়ার জন্য শনিবার সকালে নিহতের লাশ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বামী সুজন ও পরিবারের অন্যরা। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জোসনার লাশ রেখে পালিয়ে যায় সুজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত