রাজধানীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৫১ | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৫১
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকায় ক্ষতি বেশি।

ঝড়ে গাছপালা উপড়ে রাস্তায় পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ ছিল। ঝড়ে বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গাছ পড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর একটি গাড়ির গ্লাসও ভেঙে গেছে।

দিনভরই রাজধানীর আবহাওয়া ছিল ভেজা। প্রায়ই ঘর কালো মেঘে ছেয়ে যাচ্ছিল চারপাশ। দিন শেষে সন্ধ্যায় শুরু হয় তীব্র বাতাস, সেই সঙ্গে বৃষ্টি।

ঘর ফেরার মুহূর্তে এই আবহাওয়া ভোগান্তি বাড়ায়। সোয়া ছয়টার দিকে ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস নিয়ে আঘাত হানে এই কালবৈশাখী। নিরাপদ অবস্থানে যেতে ছুটোছুটি করতে থাকে নগরবাসী।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ঢাকাটাইমস কে জানান, সন্ধ্যার পর ঝড়ে আবাহনী মাঠ ও শংকরে গাছ পরে চারজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে রাস্তার গাছ সরানো হয় এবং বিদ্যুতের খুঁটির উপরে যেসব গাছ পড়েছিল তা সরানো হয়েছে। এখন যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

ইউনির্ভাসিটি অফ ডেভলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা) শিক্ষার্থী শেখ আসাদুল্লাহ আল গালিব ঢাকাটাইমসকে জানান, ঝড়ের পর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের ২৭ নম্বরের সিএসই ভবনের কয়েকটি ফ্লোর ঝড়ের কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। বাতাসে জানালার কাঁচ ও রুমের দরজা এবং এসি উড়ে যায়। তবে ভার্সিটি বন্ধ থাকায় কেউ আহত হয়নি।

মোহাম্মদপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবু বক্কর জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ধানমন্ডির রাস্তার গাছ সরিয়ে এখন আমাদের টিম সংসদ ভবনের লেক রোডে কাজ করছে। এই রোডের প্রায় গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। সেগুলো সরানোর কাজ চলছে। তবে মিরপুর রোডের যানচলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, “বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ার খবর পেয়ে লোক পাঠিয়েছি আমরা। ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ বের হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও কাজে নেমেছেন।”

ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। গুলশান এলাকাতেও প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

ঝড়ের পর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পড়ে থাকা গাছ সরানোর কাজ চলায় রাত নয়টার সময়ও এক প্রকার বন্ধ ছিল বিভিন্ন সড়ক। এতে নগরবাসীর বাড়ি ফিরতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

কেবল সড়কে নয়, ঝড়ের কারণে ভোগান্তি হয়েছে রেলযাত্রীদেরকেও। মহাখালী এলাকায় রেল লাইনে গাছ পড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর প্রতিটি ট্রেনে বিলম্ব হয়েছে। গাছ সরিয়ে লাইন চালুর পর ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে ছাড়তে শুরু করে।

কিশোরগঞ্জগামী একারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস বিমানবন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল সন্ধ্যা সাতটায়। কিন্তু সেই ট্রেনটি এই স্টেশন ছেড়ে যায় রাত সোয়া নয়টার দিকে।

একইভাবে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় প্রতিটি ট্রেনেরই দুই ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হয়। আবার ঢাকায় পৌঁছতে না পেরে আগের স্টেশনগুলোতে আটকে থাকে নগরমুখি ট্রেনগুলো।

ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/এসএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত