আমাদের বাসায় বেড়াতে এসো, প্রধানমন্ত্রীকে শিশুর চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া সৈয়দা রওনক জাহান সেঁজুতির প্রয়াত দাদির মতো লাগে। দাদির মৃত্যুর পর শেখ হাসিনাকে টিভিতে দেখে সে কথাটি আরও বেশি মনে পড়ে শিশুটির। চিঠিতে সে কথা জানিয়েও দেয় সে। আর আমন্ত্রণ জানায় বাড়িতে আসার।

মেয়ের আবদার আর কান্নার কাছে হার মেনে বাবা চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোস্টও করেছিলেন। ভেবেছিলেন, ঘটনাটি এখানেই শেষ। কিন্তু তা হয়নি। চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয় সেঁজুতির বাবার সঙ্গে। বিস্মিত বাবা আরও হতবাক হয়ে পড়েন, যখন শেখ হাসিনার নিজের লেখা চিঠি এসে পৌঁছে তার বাড়িতে।

গত ২৫ মার্চ সেঁজুতি প্রধানমন্ত্রীকে করে চিঠি লেখে। আর সেটি পোস্ট করা হয় আরও চার দিন পর। আর সে ফিরতি চিঠিতে জবাব পায় গত ২২ এপ্রিল।যদিও প্রধানমন্ত্রী তারও ১০ দিন আগে চিঠিটি লিখেন।

সেঁজুতি সোনারগাঁয়ের প্রমিস চাইল্ড একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বাবা মোগড়াপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি বিদ্যায়তনের শিক্ষক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও মা সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নাজমা বেগম।

এই দম্পতির তৃতীয় সন্তানের মধ্যে সেঁজুতি ছোট। তার বড় ভাই সৈয়দ রাসেল মাহমুদ পেশায় একজন চিকিৎসক এবং আরেক ভাই সৈয়দ রাকিবুল ইসলাম এআইইউবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র।

সেঁজুতির বাবা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২৫ মার্চ রাতে টিভিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখে সেঁজুতি নিজেই চিঠিটি লিখে। খুব কান্নার কারণে ২৯ মার্চ আমি বাধ্য হয়ে সোনারগাঁও পোস্ট অফিসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকনায় পাঠাই। তবে বিশ্বাস ছিল না এসব চিঠির প্রধানমন্ত্রী এতো গুরুত্ব নিয়ে পড়বেন।’

‘কিন্তু চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন দিয়ে বলেন আপনি সেঁজুতির কী হন। সেঁজুতি প্রধানমন্ত্রীকে যে চিঠি লিখেছে সেটা প্রধানমন্ত্রী অনেক বার পড়েছেন। এর পরবর্তীতে চিঠিও দিয়েছেন যার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রয়োজন।’

‘পরেই আমি ঠিকনা ম্যাসেজ করে পাঠাই। আজ (২২ এপ্রিল) দুপুরে চিঠিটি হাতে পাই।’

‘প্রধানমন্ত্রী চিঠি ও বিশেষ করে ছবি পেয়ে আমার মেয়ে অনেক খুশি। সারাদিন ছবিটা হাতে নিয়ে রেখেছে। কাউকে ছবিটি দেখতেও দেয়নি। নিজেই সবাইকে দেখিয়েছে। আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। যাতে বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।

চিঠিতে সেঁজুতি যা লিখেছিল:

২৫-৩-২০১৮

মোগরাপাড়া

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,

আসসালামু আলাইকুম, তুমি কেমন আছ? দাদুকে হারিয়ে আমি ভালো নেই। তোমার মুখ আমার দাদুর মুখের মতো। বিশেষ করে তোমার নাক আমার দাদুর নাকের মতো। তাই আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমাকে টিভিতে দেখলে আমার দাদুর কথা মনে পড়ে। আমি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি। তুমি আমাদের বাসায় বেড়াতে এসো।’ 

ইতি

তোমার স্নেহের সেঁজুতি। 

প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে যা লেখা হয়

প্রিয় সেঁজুতি, তোমার লেখা চিঠি পেয়েছি। আমার স্নেহ এবং শুভেচ্ছা গ্রহণ কর। আশা করি তুমি বাবা, মা এবং বন্ধুদের নিয়ে খুব ভাল আছো। তোমার চিঠিটি আমি কয়েকবার পড়েছি। তোমার দাদুর জন্য দোয়া করেছি। তোমার দাদুকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন বেহেশত নসিব করুন। তুমি মনোযোগ দিয়ে লেখাপাড়া করবে এবং নিয়মিত স্কুলে যাবে। বাবা-মার কথা শুনবে এবং বড় হয়ে দেশের সেবা করবে। তোমার জন্য আমার একটি ছবি পাঠালাম। অনেক অনেক দোয়া আর আদর রইল। 

শেখ হাসিনা।

ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত