নাচের যুদ্ধে জয়ী হতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেব

অনলাইন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৮:০১

আকাশ সরকার। নৃত্যসংগঠন নাট্যমের সাধারণ সম্পাদক। একজন প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্য প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। নাচ নিয়ে অনেক বড় বড় কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। সম্প্রতি কথা হয় এই তরুণ নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে। ঢাকাটাইমসের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বলেছেন নাচ নিয়ে তার স্বপ্নের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ সাইফ  

শুরুতেই আপনার নাচের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাই।

আকাশ: নাট্যমের মূল পরিকল্পনাকারী আমি নিজে। সেই সঙ্গে যোগ দেন লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তারেক রেজা ও সিকদার জুলকার নাইন স্যার। তারা বর্তমানে সংগঠনের সম্মানীত উপদেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী নাচ শিখতে চায়, কিন্তু সুযোগ না থাকায় অনেকে পিছিয়ে পড়ে। এই দিকটি লক্ষ রেখেই মূলত গড়ে ওঠে আমাদের সংগঠনটি।

আপনার নাচের শুরুর দিকের কথা বলুন।

আকাশ: সিলেটে ‘নৃত্যাশ্রম’ আমার প্রথম নাচের শিক্ষালয়। শ্রদ্ধেয় স্যার পার্থ প্রতিম দাসের হাতে কত্থক নৃত্যের মাধ্যমে যাত্রা শুরু। পরে শুধু কত্থক নৃত্যের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে শুরু করি লোকনৃত্য ও সৃজনশীল নৃত্য। বর্তমানে নজরুল ইনস্টিটিউটে মণিপুরি নৃত্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। তাছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম নৃত্যসংগঠন নৃত্যাঞ্চলের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।

নাচের ক্ষেত্রে আপনার অর্জন...

আকাশ: ২০১২ সালে লোকনৃত্যে অর্জন করি বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু-কিশোর পুরস্কার। তাছাড়া রয়েছে আরও  জাতীয়, জেলা ও বিভাগীয় পুরস্কার। পেয়েছি নানা সম্মাননা। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করি। দেশে ও দেশের বাইরে পরিবেশনা করি আমাদের দেশীয় বা লোকনৃত্য।

কোন কোন দেশে নাচ পরিবেশন করেছেন?

আকাশ: প্রথমে ভারত। তারপর নেপাল, থাইল্যান্ড, মালশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে নাচ পরিবেশন করি।

সেসব দেশের নৃত্যশিল্পীদের সাহচর‌্য পেয়েছেন কখনো?

আকাশ: ২০১২ সালে নৃত্যগুরু বীর্যু মহারাজ এসেছিলেন বাংলাদেশে নৃত্যাঞ্চলের ওয়ার্কশপ করাতে। তখন আমার সৌভাগ্য হয় সেই নৃত্য কর্মশালায় অংশ নেয়ার। তারপর ২০১৭ সালে নৃত্যগুরু ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায়ের গৌড়ীয় নৃত্য কর্মশালায় অংশগ্রহণ করি। এটি আয়োজন করে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি।

আপনার ‘নাট্যম জাবি’ সংগঠন সম্পর্কে বলুন।

আকাশ:  ‘নাট্যম জাবি’ একটি প্রযোজনামূলক নৃত্যসংগঠন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তিনজন সদস্য নিয়ে এর অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। ২০১৭ সালের জুন মাসে‘নাট্যম’ নামে ‘তব নৃত্যের প্রাণ বেদনায় বিশ্ব জাগে চেতনায়’ স্লোগান নিয়ে এর আনুষ্ঠানিক পথচলা। এ যাত্রায় তখন সদস্য ১০ জন। তাদের আগ্রহ দেখে আমরা ‘ধ্রুপদী ডান্স থিয়েটার’ নামে একটি নৃত্য স্কুলও শুরু করি। বর্তমানে সেই স্কুলে শিক্ষার্থীসংখ্যা অর্ধশতাধিক। এখন পর‌্যন্ত শতাধিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনা করে আমাদের শিল্পীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা আমাদের নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা ভারতেও পরিবেশনা করি আমাদের নৃত্য।

আমরা প্রযোজনা হিসেবে প্রথম মঞ্চে আনি ‘বিজয়ের উল্লাস’। এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি নৃত্যনাট্য। তারপর আমার নির্দেশনায় মঞ্চে আসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য ‘চন্ডালিকা’। বর্তমানে আমাদের ৫০ জন সদস্য নিয়ে চলছে ময়মনসিংহ গীতিকার ‘মহুয়া সুন্দরীর পালা’ নৃত্যনাট্যের কাজ। এটির নির্দেশনায়ও রয়েছি আমি।

সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মো. রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছি আমি নিজে।

আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাই।

আকাশ: ভবিষ্যতে নৃত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার ইচ্ছা আছে। বর্তমান নাচের পাশাপাশি কাজ করছি থিয়েটারে। কাজ করেছি বেশ কিছু মঞ্চনাটকেও। নাচ নিয়ে সব সময়ই চলেছে যুদ্ধ। নাচের যুদ্ধ জয় করার জন্যই নাচ নিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চাই। বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় আঙ্গিকের নৃত্য নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা। নাচে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে নাচের একটি ইনস্টিটিউটও করতে চাই। পড়াশোনার পাশাপাশি বর্তমানে আমার পুরোটা সময়ই নাচকে ঘিরে।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আকাশ: ঢাকাটাইমসকে ও আপনাকে ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/২২এপ্রিল/এসএস/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত