শিক্ষকের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত: প্রতিবাদে মানববন্ধন

মাগুরা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৪৬ | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৩৩

একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে রাজি না হওয়ায় বহিরাগত এক  প্রাইমারি শিক্ষক মাগুরা প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে  প্রশিক্ষণরত অপর এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার শহরের সরকারি ওই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের দুই শতাধিক প্রশিক্ষণরত শিক্ষক মানববন্ধন, মিছিলসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মতিন চাঁদ মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যরা জানান, বহিরাগত শিক্ষক আব্দুল মতিন চাঁদ মাগুরা পিটিআইয়ের শিক্ষকদের ত্রৈ-মাসিক ভাতা গ্রহণের জন্য সম্প্রতি একটি বেসরকারি  ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেন। শিক্ষকরা এই ভাতা তিন মাস অন্তর সুপারিনটেন্ডেন্টের কাছ থেকে নগদ গ্রহণ করে থাকেন। পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা কর্তনের নিয়ম থাকায় শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যরা এ ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার সকালে অভিযুক্ত মহম্মদপুরের ঘুল্লিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন চাঁদ মাগুরা পিটিআই ক্যাম্পাসে ঢুকে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রকাশ্যে মারপিট করেন। বিষয়টি শিক্ষকরা পিটিআই সুপারকে জানালে তিনি রবিবার বিকালের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সমাধান না হওয়ায় সোমবার সকালে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন প্রশিক্ষণরত শিক্ষকরা।

মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আমাকে দেয়া হয়েছে। আমি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তপূর্বক করণীয় বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষক প্রহৃত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, এর আগেও একজন স্কুল শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেছিলেন। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যে দুবার সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা এখনো কোন ব্যবস্থা নেননি। দ্রুত ব্যবস্থা গৃহীত হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকে না।

পিটিআই সুপারিনটেন্ডেন্ট বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিষয়টির দ্রুত মীমাংসার জন্য রবিবার সভা ডেকেছিলাম। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রতিনিধি না থাকায় মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। পরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মতিন চাঁদ বলেন, আমার সাথে কোন ব্যাংকের সম্পৃক্ততা নেই। কোন কারণ ছাড়াই পিটিআই প্রশিক্ষণার্থী আমাকে অভিযুক্ত করায় তার সাথে রবিবার সকালে আমার কিছুটা বাকবিতণ্ডা হয়। আমি তাকে কোন রকম মারধর করিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত