শরীয়তপুরে হত্যা মামলার বাদীকে হত্যার চেষ্টা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২৮

শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর গ্রামের কালু ফকিরের কন্যা ফাহিমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করার মামলার বাদী কালু ফকির মামলা তুলে না নেয়ার কারণে তাকে মারপিট করে হত্যা করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত কালু ফকিরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

পালং মডেল থানা ও আহত কালু ফকিরের ছেলে শহিদুল ফকির জানান, ২০০৪ সালের ২৬ জুন শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর গ্রামের কালু ফকিরের কন্যা রুদ্রকর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ফাহিমা আক্তার তাদের বাড়ির পাশে মজিবর বেপারীর বাড়িতে গরুর দুধ দিতে যায়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। পরদিন বালার বাজারে একটি ধনচে ক্ষেতে হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় ফাহিমার লাশ পাওয়া যায়। ঘাতকরা ফাহিমাকে ধরে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার একটি চোখ উৎপাটন করে ফেলে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। 

ডাক্তারি পরীক্ষায় ফাহিমাকে ধর্ষণের পরে হত্যা করার আলামত মেলে। এ ঘটনায় ফাহিমা আকতারের বাবা কালু ফকির বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তকালে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে একই এলাকার  জুয়েল ঢালি, মোতালেব মৃধা, জাকির মুন্সি, রহিম সরদারসহ আটজন জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়। বর্তমানে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

২২ এপ্রিল ছিল মামলার ধার্য তারিখ। ইতোমধ্যে মামলার আসামি জুয়েল ঢালি ও তার পরিবারের লোকজন বাদী নিহত ফাহিমা আকতারের বাবা কালু ফকির ও তার পরিবারের লোকজনদেরকে বারবার মামলাটি তুলে নিতে চাপ দেয়। বাদী কোন চাপের মুখে নতি স্বীকার না করায় তাকে জীবননাশের হুমকি দেয় তারা। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালু ফকির মনোহর বাজার যাওয়ার পথে বালার বাজারে সকাল ৭টার দিকে জুয়েল ঢালি ও তার স্বজনেরা তার গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে জুয়েল ঢালি কালু ফকিরকে এলোপাথারি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কিলঘুসি, লাথি মেরে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় কালু ফকিরের ছেলে শহিদ আলম ফকির বাদী হয়ে  সোমবার দুপুরে পালং মডেল থানায় জুয়েল ঢালি ও তার স্বজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

মামলার বাদী শহিদ আলম ফকির বলেন, আমার বোন ফাহিমার ধর্ষণ মামলার আসামি  জুয়েল ঢালি। সে  মামলা তুলে নেয়ার জন্য বারবার আমাদের হুমুকি দিয়ে আসছে। আমরা মামলা তুলে না নেয়ার কারণে সোমবার সকালে আমার বাবা কালু ফকিরকে জুয়েল ঢালি ও তার লোকজন পিটিয়ে জখম করে। আমার বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আহত কালু ফকির বলেন, আমার ছোট মেয়ে ফাহিমাকে ধর্ষণ করে জুয়েল ঢালি ও তার লোকজন হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করেছি। মামলাটি জেলা ও দায়রা জজকোর্টে বিচারাধীন আছে। এ মামলাটি তুলে নিতে বারবার আসামিরা আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি মামলা তুলে না নেয়ায় সোমবার সকালে আমাকে হত্য করার জন্য বেদম মারপিট করেছে। আমি এর বিচার চাই।

পালং মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত