মীমই মৃত ঘোষিত শিশু, মানতে নারাজ ঢামেক পরিচালক!

আশিক আহমেদ ও সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:৫২ | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:০৫

মৃত ঘোষিত শিশু কবরস্থানে গিয়ে জেগে উঠার খবর পাওয়ার পর শিশু হাসপাতালে ভর্তি শিশুটিই মীম কি না, তা নিয়ে প্র্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এ কে এম নাসির উদ্দিন।

জীবিত শিশুকে মৃত ঘোষণা নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতালের পরিচালক বলেন, বেঁচে উঠা শিশুটিই সেই শিশু কি না, সেটা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা করা লাগবে।

সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেয় শিশুটি। পেটে থাকার সময়ই শিশুটি মারা গেছে এটা আগেই জানিয়েছিলেন সেখানকার  চিকিৎসকরা। আর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করে মৃত্যুর সনদও দেয়া হয়।

পরে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করতে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। তখন তাকে মীম নামে কবরস্থ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। মেয়েটিকে গোসল করানোর সময় সে বেঁচে আছে বলে ধারণা করে সেখান থেকে আজিমপুর মেটারনিটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শিশুটি বেঁচে আছে জানালে তাকে নেয়া হয় শিশু হাসপাতালে।

সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, মীম এখনও সংকটাপন্ন। তাকে সেখানকার নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

শিশুটির মামা পুলিশ কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, তার ভাগ্নি শিশু হাসপাতালে থাকলেও বোন শারমীন আক্তার এখনও ঢাকা মেডিকেলেই আছেন।

দিনভর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলার পর বিকালে ব্রিফিং করেন ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক। তিনি বলেন, ‘মীম মৃতই ভূমিষ্ঠ হয়েছে। কীভাবে যে জীবিত হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক বিদ্যুৎকান্তি পালকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক আরও বলেন, ‘এই বাচ্চাটা শারমীনের না, এটা আমার সন্দেহ।’

একজন গণমাধ্যমকর্মী তখন জানতে চান, কিন্তু তারা তো বলছে শিশু হাসপাতালে ভর্তি শিশু তাদের বাচ্চা। তারা যদি চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে আপনি কী করবেন?- এমন প্রশ্নে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক বলেন, ‘প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করব।’

শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা বলছে

ঢাকা মেডিকেলে মৃত ঘোষিত শিশুটির শারীরিক অবস্থা সংবাদ সম্মেলন করেছে শিশু হাসপাতালও। এর পরিচালক আবদুল আজিজ জানান, মীমের শারীরিক অবস্থা এখনও ভালো না। বাঁচার আশা খুবই কম।

‘তবে আমরা শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব। বর্তমানে তাকে কার্ডিয়াক আইসিইতে রাখা হয়েছে। এখন কোনও অঘটন বা মিরাকল-এর অপেক্ষা করছি।’

‘শিশুটির আগের থেকে এখন ভালো আছে, তবে এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। শিশুটির ওজনও খুবই কম। নয়শ গ্র্রাম থেকে এক কেজির মতো হতে পারে। সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছে না। সে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শ্বাস নিচ্ছে। তার শরীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকছে না। এগুলো ঠিক রাখার জন্য তাকে ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’

‘শিশুটির রক্তশূন্যতা আছে। নাভিতে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, তা বন্ধ করা হয়েছে। তাকে বাঁচানোর জন্য আমাদেও চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। আমাদের সব বিভাগের ডাক্তাররা তাকে দেখছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা কীভাবে এই শিশুকে মৃত ঘোষণা করল-এমন প্রশ্নে শিশু হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘নয় মাস সাত দিনের পর একটা পরিপূর্ণ বাচ্চা প্রসব হয়; কিন্তু এই বাচ্চাটি মাত্র সাত মাসে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তবে নবজাতকের মামার কাছে জানতে পেরেছি পেটের মধ্যে বাচ্চার মুভমেন্ট না থাকায় তারা বিভিন্ন চেকআপ করার পর জানানো হয় তাদের পেটের বাচ্চা মৃত। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চা বের করে তার বোনকে বাঁচাতে হবে।’

‘এসব ক্ষেত্রে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে কি না সেটা বোঝা কষ্টকর হয়। হয়ত এমন কোন কারণেই বোঝা যায়নি নব্য জন্ম নেওয়া শিশুটি জীবিত না মৃত। ওই সময় যেসব ডাক্তার ছিল তারাই ভালো বলতে পারবে। আমাদের এখন কিছু বলা কষ্টকর।’

‘তবে ঢাকা মেডিকেল থেকে আজিমপুর করবস্থানে আবার ঢাকা শিশু হাসপাতালে আনতে যে সময় নষ্ট হয়েছে তাতে তার শরীরের অবস্থা আসলেই বেশি খারাপ হয়ে গেছে। আমরা সকলকে সাথে নিয়ে বাচ্চাকে দ্রুত সুস্থ করতে চাই।’

হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবু তায়েব বলেন, ‘এখানে আনার পরপরই প্রথমে শিশুটিকে চিকিৎসকরা কাপড়ে মুড়িয়ে নেন। তারপর আমরা তাকে কার্ডিয়াক আইসিইউতে ভর্তি করি।’

‘শিশুটিকে যখন ভর্তি করানো হয়, তখন তার হার্টবিট ছিল ৩০-৩৫। আইসিইউতে নেওয়ার পরে তার হার্টবিট ৮০-৯০-তে উঠেছে। শিশুটি এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। আমরা তাকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা কোনও মিরাকলের অপেক্ষা করেছি।’

মীমের মা যা বলছেন

মীমের মা শারমিন আক্তার ঢাকাটাইমসকে বলেনন, ‘শনিবার রাতে ঘাড়ে, মাথায় ব্যাথা ও খিচুঁনিতে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে আসি। আজ সকালে আমার একটি মেয়ে হয়। পরে জানতে পারি যে মৃত মেয়ে হয়েছে।’ 

শারমিন জানান, তিনি দুই দিন আগে হাসপাতালে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেছিলেন, ‘শিশুটি মায়ের গর্ভেই মারা গেছে।’

মীমের মামা যা বললেন

নবজাতক শিশুটির মামা শরিফুল ইসলাম জানান, ১৯ এপ্রিল তার বোনের বুকে ব্যাথার চিকিৎসা ও পেটের বাচ্চার শারীরিক অবস্থা জানতে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। কয়েকটি হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা পাওয়ায় গত শনিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আনা হয়।

‘গতকাল (রবিবার) দিনের বেলা জানতে পারি পেটের বাচ্চা মৃত। তাই আজ সকাল আটটার দিকে তাকে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চাকে বের করা হয়। তারা হয়ত জানে বাচ্চা মৃত, তাই তার আর কোন কিছু না করে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়।’

‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে যে, ‘আপনারা গাছ চান, নাকি ফল চান?’ তখন আমরা বলেছি, গাছ বেঁচে থাকলে ফল এমনিতেই পাওয়া যাবে।’

‘পরে আমরা বাচ্চাটির দাফন করার জন্য সকাল সাড়ে নয়টার পর আজিমপুর করবস্থানে নিয়ে যাই। সেখানে গোসল করানোর সময় হঠাৎ বাচ্চাটি কাঁপুনি দেয়। তখন বাচ্চাটিকে নিয়ে আমি লালবাগ মোড়ের মেটার্নিটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/এসএস/এএ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত