যৌন হয়রানি: তুরাগ পরিবহন আটকানো ছাত্রদের ছয় দাবি

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:৪২ | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ২০:২৯

রাজধানীর বাড্ডায় তুরাগ পরিবহনের বাসে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্রীর যৌন হয়রানির ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্তে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দিয়েছে প্রতিবাদকারী ছাত্ররা। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের হয়রানি রোধে তারা সব মিলিয়ে ছয়টি দাবি তুলে ধরেছে।

এর মধ্যে বিষয়টির সুরাহা না হলে আটক করা তুরাগ পরিবহনের বাসগুলোর কোনো ক্ষতি হলে এর দায়ভার ছাত্ররা নেবে না বলেও জানিয়ে দেয়া হয়।

সোমবার বিকালে উত্তরা ৬নং সেক্টরের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে শিক্ষার্থীরা। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র পারভেজ হোসেন আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য তুলে করেন।

গত শনিবার রাজধানীর বাড্ডা থেকে উত্তরা আসার পথে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হন। বাসে চালকের সহকারী এবং ভাড়া তোলায় নিয়োজিত শ্রমিক মিলে একে একে সব যাত্রীকে নামিয়ে মেয়েটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি কৌশলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চলন্ত বাস থেকে নেমে পড়েন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদের সব খুলে বলেন।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে উত্তরার আজমপুর এবং হাউজ বিল্ডিংয়ের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান নিয়ে রাত সাড়ে ১১টা অবধি তুরাগ পরিবহনের ৫০টিরও বেশি বাস আটক করে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা।  

আন্দোলনে নামা ছাত্ররা সোমবার বিকালের মধ্যেই এর একটি সুরাহা করার দাবি জানিয়েছিলেন। এদিকে রবিবার বিকালে রাজধানীর গুলশান থানায় অজ্ঞাত তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই তরুণীর স্বামী।

ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে সোমবার সকাল থেকে তুরাগ পরিবহনের দুইশরও বেশি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর সকালে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী, র‌্যাব-১ এর এএসপি মো. সালাউদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ফায়েজ এম সিরাজুল হক, রেজিস্ট্রার কাজী মহিউদ্দিন, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষদের চেয়ারম্যানরা।

এ সময় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে  আন্দোলনে একাত্মতা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ  আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও আমাদের কথা দিয়েছে তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ করে যাবে।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘এখন সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস হয় বিকালে। নারী শিক্ষার্থী ক্লাস শেষে রাতে গণপরিবহনে যাতায়াত করে। তাই আমাদের দাবি, বাসে চলাচল নিরাপদ করতে হবে। প্রতিবেশি দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। আমাদের দেশেও কঠোর একটি আইন করা দরকার।’

পরিবহন খাতে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে বাসে যৌন হয়রানি বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক নজরুল।

পরে ছাত্রদের করা সংবাদ সম্মেলনে তাদের মুখপাত্র পারভেজ হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানানো হয়েছে, যে গাড়িতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে সেটি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে নম্বর প্লেট অস্পষ্ট হওয়ায় এখনো ওই গাড়ি আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসন চাইলে অসম্ভব বলে কিছু নাই।’

পারভেজ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে দুপুর একটা থেকে আমাদের কর্মসূচি যথারীতি শুরু করা হবে। কর্মসূচি অহিংস হবে জানালেও মঙ্গলবার দুপুর একটার পর আটক বাসের কোনো ক্ষতি হলে এর দায়ভার উত্তরা ইউনিভার্সিটির কোনো শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না।’

পারভেজ বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলে বাসগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা চেষ্টা করছি। তবে এর আগ পর্যন্ত আমরা বাসগুলোর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।’

ছয় দাবি

# মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে

# শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

# প্রশাসনের কাছে মালিকপক্ষের কাছে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্র থাকতে হবে, যাতে করে যে কোনা অপরাধে তাদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়

# মাদকের সাথে জড়িত কোন মালিক, চালক, চালকের সহকারী, কর্মকর্তা, কর্মচারী যেন পরিবহন পরিবহন সমিতির কোন কাজে যুক্ত না থাকতে পারে সেদিকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে

# পরবর্তীতে যেন এই রকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটবে না, সেই নিশ্চয়তা প্রশাসনকেই দিতে হবে এবং যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তার দায়ভার মালিকপক্ষকে নিতে হবে

# ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির লাইসেন্স, ফিটনেসহীন কোনো গাড়ি যেন রাস্তায় চলাচল করতে না পারে তা বিআরটিএকে নিশ্চিত করতে হবে

সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসে একা চলাচলকারী নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে একটি বাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন রূপা নামে এক তরুণী। আর এই অপরাধে গত ১২ ফেব্রুয়ারি চার জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে টাঙ্গাইলের একটি আদালত। সেই সঙ্গে বাসটি রূপার পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বাসে চলাচলকারী নারীদের ৯৪ শতাংশ যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/আইআর/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত