‘মিরাকল’ হয়নি, মারাই গেল মীম

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:৫৭ | প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১০:২৮

জন্মের আগেই মৃত ঘোষিত শিশুটির বাঁচিয়ে রাখার জন্য মিরাকল বা বিস্ময়কর কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন চিকিৎসকরা। না, সেটি আর হয়নি। ঢাকা মেডিকেলে মৃত ঘোষিত শিশুকে বাঁচিয়ে রাখতে ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে। ‘না ফেরার দেশ থেকে ফিরেও’ পৃথিবী দেখা হলো না তার।

গত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি। তাকে সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

সোমবার সকালে শিশুটির জন্মানোর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আজিমপুর করবস্থানে আর সেখানে জীবিত থাকার প্রমাণ পেয়ে শিশু হাসপাতালে নিতে যে সময় নষ্ট হয়েছে তাতে শিশুটির অবস্থা বেশি খারাপ হয়েছিল-জানিয়েছিলেন হাসপাতাল পরিচালক। স্বজন আর চিকিৎসকদের মধ্যে সে আক্ষেপ রয়েই যাবে।

মৃতঘোষিত মীমের হঠাৎ বেঁচে উঠা ছিল বিস্ময়কর। তার মা শারমীন আক্তার নানা জটিলতা নিয়ে গত শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রবিবার সেখানকার চিকিৎসকরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তার পেটের সাত মাস বয়সী শিশু মারা গেছে। এরপর সোমবার সকালে মেয়ে শিশুটিকে বের করে আনা হয়।

জন্মানোর পরও কোনো নড়াচড়া করছিল না শিশুটি। পরে তার মৃত্যুর সনদ দিলে শিশুটির মামা পুলিশ কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম শিশুটিকে সমাহিত করতে আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে তার নাম লেখা হয় মীম।

সেখানে গোসল করানোর সময় শিশুটি নড়ে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে শরিফুল তার ভাগ্নিকে নিয়ে আজিমপুর মেটারনিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে একজন চিকিৎসক জানান শিশুটি বেঁচে আছে, তবে তার অবস্থা সঙ্গীন।

এরপর শরিফুল তার ভাগ্নি মীমকে নিয়ে আসেন ঢাকা শিশু হাসপাতালে। সেখানে কার্ডিয়াক আইসিইউতে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে।

ভর্তির সময় মীমের হার্টবিট ছিল ৩০-৩৫। আইসিইউতে নেওয়ার পরে সেটা ৮০-৯০-তে উঠে। শিশুটিকে বাঁচানো কঠিন হবে আগের দিনই জানিয়েছিলেন হাসপাতালের পরিচালক আবদুল আজিজ ও উপপরিচালক আবু তায়েব। দুই জনই বলেন, ‘মিরাকল-এর অপেক্ষা করছি।’

তবে সেই মিরাকল আর ঘটেনি। শিশু হাসপাতালের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম ঢাকাটাইমসকে জানান, গত রাত দেড়টার দিকে আইসিইউতে মারা যায় মীম।

বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা হবে জানিয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাকিম বলেন, ‘লাশ এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।’

শিশুটির মা শারমীন আক্তার এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার জীবিত শিশুকে মৃত ঘোষণা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এ কে এম নাসির উদ্দিন ওই হাসপাতালের উপপরিচালক বিদ্যুৎকান্তি পালকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছিলেন।

অবশ্য নাসিরউদ্দিন এমনও বলেন যে, মীমই সেই শিশু কি না সেটা নিয়ে তার মনে যথেষ্ট সংশয় আছে। এ জন্য ডিএনএ পরীক্ষার কথাও বলেন তিনি। তবে এখন সব সংশয়ের উপরে চলে গেল ছোট্ট মীম।

ঢাকাটাইমস/২৪এপ্রিল/এসএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত