খেয়া পারাপারই ওদের ভরসা

রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
 | প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১২:২৫

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়ায় ও কাশিল কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ঝিনাই নদীতে সেতু না থাকায় চার উপজেলার জনসাধারণের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাঞ্চনপুর ও কাশিলের ঝিনাই নদীতে সেতু না থাকায় বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর।

স্থানীয়রা জানান, কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়ায় ও কাশিল কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ঝিনাই নদীতে প্রতিদিন নৌকা করে পারাপার হয় মির্জাপুরের আদাবাড়ি গহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাসাইলের কাঞ্চনপুর এলাহিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিল কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয়, কাশিল আব্দুল কাদের আব্দুল খালেক দাখিল মাদ্রাসা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও মির্জাপুর, দেলদুয়ার, সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার জনসাধারণ। খেয়া পারাপারই ওদের নদী পার হওয়ার ভরসা।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া থেকে বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর সড়কের ঝিনাই নদীর ওপর ১৯৯৮ সালে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। পরে গত ২০১৫ সালের আগস্টে বালু বহনকারী একটি ট্রলারের ধাক্কায় ওই সেতুটির একটি পিলার ও ওপরের কিছু অংশ ভেঙে যায়। ফলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। একই সালে কাশিল ভায়া বল্লা-নাটিয়াপাড়া সড়কের ঝিনাই নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় চার বছর ব্যবহারের পর সেতুটির নিচের মাটি সরে গিয়ে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে যায়। ফলে এখানেও যাতায়াত বন্ধ হয়।

কাঞ্চনপুর ছনকাপাড়ার সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুর অভাবে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গবাদি পশু পারাপারের সময় তাদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

সরেজমিনে স্থানীয়রা জানায়, কাঞ্চনপুর ও কাশিলে কোমলমতি শিশু-কিশোররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা করে নদী পারাপার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে নৌকা পারাপারের কারণেও মাঝেমধ্যেই নৌকা ডুবে যায়। এছাড়াও এখানে নৌকা করে পারাপার হতে জনপ্রতি ৫ টাকা ও মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে লাগে ১০ টাকা। দুইটি নদীতে নৌকা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, কাশিল ও কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়ায় সেতুর জায়গা পরিমাপ করা হয়েছে। আশা করি অতিদ্রুতই সেতুগুলো অনুমোদন হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, কাঞ্চনপুর, কাশিল ও দাপনাজোর এলাকার ঝিনাই নদীর ওপর তিনটি সেতুর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই সেতুর কাজগুলো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তিনটি সেতুর কাজই একত্রে করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৪এপ্রিল/নিজস্ব প্রতিবেদক/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত