বগুড়ায় সরকারি চাল সার বীজ জব্দ

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ২০:০৯

বগুড়ায় পৃথক অভিযানে ভিজিডির ৬১ বস্তা চাল এবং কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা ধানের বীজ ও সার জব্দ করা হয়েছে। এ দুই ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

ভুয়া তালিকা করে ইউপি চেয়ারম্যান এবং কৃষি কর্মকর্তারা এসব সরকারি চাল, সার বীজ বিতরণ করেছে বলে অভিযোগ আছে।

জানা গেছে,  দুস্থ মহিলাদের জন্য খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম ভিজিডি এবং কৃষি অধিদপ্তরের কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ ও সার বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যেসব ব্যক্তির নামে তালিকা করা হয়েছিল তাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রকৃত কৃষক অথবা দুস্থ নয়। সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই এসব সরকারি পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। ফলে বিতরণের পরপরেই এক শ্রেণির অসাদু ব্যবসায়ীদের কাছে রাতারাতি এসব পণ্য কম মূল্যে বিক্রি করে দেয়। কাদের কাছে এসব সরকারি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তার খোঁজ করছে না কৃষি অফিস।

সারিয়াকান্দি উপজেলার একজন কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে বললেন, তারা গড়ে ১০ শতাংশ গ্রাহককে যাচাইবাছাই করে থাকে। বাকি ৯০ শতাংশ তাদের যাচাই করার সুযোগ থাকে না অথবা করেন না।

একটি সূত্র জানায়, ১০ শতাংশ গ্রাহককে যাচাই-বাছাই করা হয় তারাই প্রকৃত কৃষক। বাকি ৯০ ভাগ সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। 

আমাদের নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি জানান, দুস্থ মহিলাদের জন্য খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম ভিজিডির ৬১ বস্তা চাল জব্দ করেছে কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ। ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখসহ ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকালে শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল বাজার এলাকা থেকে ভিজিডির চালগুলো চারটি ভ্যানে করে নন্দীগ্রামে আনা হচ্ছিল। খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার সিংজানী তিনমাথা মোড় থেকে চালবোঝাই চারটি ভ্যান থেকে ৩০ কেজি ওজনের ৬১ বস্তা চাল জব্দ করে হাইওয়ে পুলিশ। বস্তাগুলোয় খাদ্য অধিদপ্তরের সিল রয়েছে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় চালের ক্রেতা আব্দুর রশিদকে আসামি করা হয়েছে এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। চার ভ্যানচালক মামলার সাক্ষী হয়েছেন।

থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ৬১ বস্তা ভিজিডির চাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অপর ঘটনায় বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কালো বাজার থেকে কৃষক সহায়তার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। ওই সব মালামাল বিতরণ করার ১২ ঘণ্টা অতিবাহিত না হতেই কালো বাজারিদের হাতে চলে যায়। কৃষি অধিদপ্তরের বিতরণকৃত এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে, ৬০ বস্তা সার ও ৬৫ বস্তা ক্রয় নিষিদ্ধ ধানের বীজ।

২৩ এপ্রিল বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় গোপন সংবাদে সারিয়াকান্দি পুলিশ পৌর বাজারের আশরাফ আলীর ভাড়া করা গুদামে অভিযান চালায়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল কাদেরের উপস্থিতিতে গুদামটি খোলা হয়। সেখানে কৃষি অধিদপ্তরের বিতরণকৃত ৬০ বস্তা সার ও ৬৫ বস্তা ক্রয় নিষিদ্ধ ধানের বীজ পাওয়া যায়। অবৈধ মাল ক্রয় করার অপরাধে সারিয়াকান্দি বাজারের সার ব্যাবসায়ী আশরাফ আলীকে আটক করেছে পুলিশ।

এছাড়াও আশরাফ আলীর পুত্র উজ্জল হোসেন এবং সোনাতলা উপজেলার কুশেহাটা গ্রামের সাবিনুর ইসলাম এই ঘটনার সাথে জড়িত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত জামান বলেন, আমরা সুষ্ঠুভাবে কৃষকদের মাঝে মাল বিতরণ করেছি। বাইরে গিয়ে কেউ যদি এই মাল ক্রয়-বিক্রয় করে আমাদের করার কিছু থাকে না। তবে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন, যারা এসব ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৪এপ্রিল/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত