সিদ্ধেশ্বরী বালক স্কুল অ্যান্ড কলেজ

শিক্ষকদের মারধর ও পর্ষদ চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ২২:০৬ | প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৪৯

অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা। সন্ত্রাসীদের তৎপরতার প্রতিবাদ করায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্যাতন এমনকি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কবল থেকে বিদ্যালয়টি উদ্ধার ও শিক্ষক অভিভাবকদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ শেখ ফরিদুজ্জামান। আরও বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সামসুদ্দিন ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুন্সি কামরুজ্জামান কাজল।

স্থানীয় গোলাম মোস্তফা শিমুল, দেওয়ান আলীমউদ্দিন শিশির ও মাসুদ রানা নামের তিনজনকে স্থানীয় সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা সম্রাট হিসেবে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা তাদের সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত করেছে। তারা শিক্ষকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিদ্যালয়ের মাঠ ও ক্লাসরুমগুলো টর্চারসেল হিসাবে ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা কোনো কথা বলতে পারেন না।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২২ এপ্রিল দুপুরে শিমুলসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী বিদ্যালয়ের অফিস রুমে ঢুকে শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন ও রুহুল আমিনকে বেধড়ক মারধর করেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ বাদী হয়ে ২৩ এপ্রিল রমনা থানায় একটি মামলা করেন।

হামলা ও মারধরের ভয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসতে চান না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বিদ্যালয়টি আমাদের কিন্তু সেখানে কর্তৃপক্ষের কোনো কর্তৃত্ব নেই। সন্ত্রাসীরা পুরো বিদ্যালয় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে রেখে আলাদা কন্ট্রোল রুমে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে। স্কুল ছুটি শেষে তাদের মনমতো রুম খুলে রাখতে হয়।’ সন্ধ্যার পর নারী ও মাদকসহ বাইরের লোকদের নিয়ে তারা ক্লাসরুমে আখড়া বসায় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠটি চোরাই গাড়ি, মোটরসাইকেল রাখার নিরাপদ স্থান হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর কাজল বলেন, এসব ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করায় গত ২৩ এপ্রিল সন্ত্রাসীরা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে তিনি রমনা থানায় একটি জিডি করেন।

কাজল বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের অত্যাচার সইতে সইতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিবাদে বের হয়েছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মইনুল ইসলাম সাংবাদিকদের মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় তাদের একজন আলীম উদ্দিন শিশির। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না সেটিও তিনি জানেন না।

(ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/এএ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত