তারেকের নির্বাসিত জীবন বিএনপির জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৫৫ | প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৫০
ফাইল ছবি

প্রায় চার বছর আগে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেয়ায় বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে এখন চলছে বেশ আলোচনা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের যুক্তরাজ্যে কী হিসেবে অবস্থান করছেন এমন আলোচনার মধ্যেই বিএনপির পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো জানানো হয়, পাঁচ বছর আগেই তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে বসবাস করছেন।

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি ফেরেননি। এর মধ্যে সাড়ে চার বছর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়। আর ২০১৪ সালের ২ জুন সেটি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জমা দেন তারেক রহমান।

এরপর থেকে তারেক রহমান কী হিসেবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, এ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু বিএনপি এ নিয়ে কিছু বলেনি এতদিন।

চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এতদিন বিএনপির পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও গত ২১ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার এমন বক্তব্যের পরই সরগরম হয় দেশের রাজনীতি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি তারেকের রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাজ্যে থাকার বিষয়টি জানান।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টি আগে প্রকাশ পেলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো কি না- দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানার কাছে প্রশ্ন করেছিল বিবিসি বাংলা। জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের থাকার বিষয়টি দলের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি মনে করি এটা ওনার জন্য নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। উনি অনেক তরুণ বয়সে রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। আমাদের দেশের বহু নামকরা পলিটিশিয়ান এক্সাইলে (নির্বাসনে) ছিলেন। পলিটিশিয়ানদের লাইফে এক্সাইলটা নাথিং নিউ (নির্বাসন নতুন কিছু নয়)।’

লন্ডনে অবস্থান করেই তারেক রহমান নানাভাবে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, এর দুটো দিক আছে। দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। এটি হচ্ছে প্রথম দিক। ভিন্ন আরেকটি দিক হচ্ছে তারেক রহমানের প্রতি তাঁর দলের সমর্থকদের সহানুভূতি আরো বাড়তে পারে।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটা সময় আমাদের দেশে বাম রাজনীতিতে দেখা যেত যে নেতারা পলাতক জীবন-যাপন করতেন। আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতেন। সেসব রাজনৈতিকদের নিয়ে নানা মিথ যেমন তৈরি হতো, আবার জন বিচ্ছিন্নতাও তৈরি হতো। ... আবার এটাও ঠিক যে এ দলের (বিএনপি) যারা সমর্থক তারা তাকে নেতা হিসেবেই দেখেন।’ তবে পাসপোর্ট বিতর্ক তারেক রহমানের জন্য নতুন কোনো ‘রাজনৈতিক ঝামেলা’ তৈরি করবে না বলে ধারণা করেন তিনি।

বিদেশে অর্থপাচারের এক মামলায় ২০১৬ সালে তারেক রহমানের সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়। আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া যে মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানার রায় পেয়েছেন, সেদিন তারেক রহমানের সমপরিমাণ জরিমানা এবং ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আবার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। চলতি বছরই এই মামলার রায় প্রকাশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা যাবে না বলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাকে নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। প্রতিনিয়ত তাকে ঘিরে নানা তর্ক-বিতর্ক কিংবা অভিযোগ তোলা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। সেটিকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা চলছে মূলধারার গণমাধ্যমে। তারেক রহমানের বক্তব্য বা বিবৃতি মূলধারার গণমাধ্যমে না এলেও সেটিকে তেমন কোনো সমস্যা মনে করছে না বিএনপি।

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ফেসবুকে কিন্তু তার ছোট্ট একটা বক্তব্যও মুহূর্তের মধ্যে কয়েক লক্ষ ভিউ হচ্ছে, শেয়ার হচ্ছে। এখানেই তার সাকসেস (সাফল্য)।’

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মনে করেন, সরকারের মধ্যে ‘তারেকভীতি’ কাজ করছে। সেজন্য তাকে ঘিরে ক্ষমতাসীনরা নানা ধরনের বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে বলে ধারণা তার।

ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত