আরও নানা ইস্যু আসবে সামনে

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৫৪

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে কথা বলার চূড়ান্ত সময় এখনো আসেনি। অস্থিরতা আস্তে আস্তে ঘনিয়ে আসছে। সামনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে তত নানা ইস্যু সামনে আসবে। আসছেও। পাসপোর্ট  ইস্যুটা যেমন এল।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির ‘পাসপোর্ট কাহন’ শিরোনামের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল।

পারমিতা হিমের উপস্থাপনায় সংবাদপত্র পর্যালোচনা বিষয়ক এই টকশো সম্পাদকীয়তে এদিনের আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএফইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান তার পাসপোর্ট ব্রিটেনের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুল আলোচনা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, ‘তিনি (শাহরিয়ার) কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি যখন একটি তথ্য দেন তখন তার ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। সেদিক থেকে আমি ধারণা করছি, তারেক রহমান তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন হাইকমিশনে এবং তার পরিবারের কেউ কেউ।’

‘এখন বিষয়টা হলো তিনি কী জন্য জমা দিয়েছেন। নানা জনেরই পাসপোর্ট হাইকমিশিনে জমা দেয়ার বিষয়টা আসতে পারে। এখন কী জন্য দিয়েছেন সেটা হলো প্রশ্ন। হাইকমিশন যেন সংরক্ষণ করে, সে জন্য তিনি এটা দিয়েছেন। এখন হাইকমিশনে রাখার জন্য এই কথাটার মানে কী হতে পারে।’

মেজবাহ কামাল বলেন, ‘কয়েকটা সম্ভাব্য বিষয় বলা যেতে পারে। একটা বিষয় আমার কাছে মনে হয়, কেউ যদি দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন তাহলে তিনি পাসপোর্ট ত্যাগ করতে পারেন, প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।’

বিএনপিতে তারেক রহমানের শীর্ষস্থানে অবস্থানের কথা উল্লেখ করে  ঢাবির এই শিক্ষক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ পাচ্ছি, তিনি দেশে ফিরে আসতে চাচ্ছেন। তার পেছনে কী হেতু আছে তা আমাদের জানা নেই। এই মুহূর্তে মামলার যে পরিস্থিতি এবং তার বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলা আছে, এসব বিবেচনায় তার পক্ষে দেশে ফিরে আসা কঠিন। ব্রিটেনে তিনি তো রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। সেই অবস্থায় দেশের পরিস্থিতি তার অনুকূলে উন্নতি না হলে ফিরে আসার বোধগম্য কোনো কারণ নেই।’

তারেক রহমান লন্ডনে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপির রাজনীতি। মেজবাহ কামাল বলেন, ‘কাজেই সেখান থেকে দেশে এসে কী বা করতে পারবেন তিনি। কারাবাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেই অবস্থায় তিনি তার নাগরিকত্ব পরিত্যাগ কেন করবেন আমি এটার কোনো কারণ খুঁজে পাই না। আমার কাছে মনে হয়, এদিক থেকে অনেক কিছুই পরস্পরের বিরুদ্ধে।’

জনমত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে অনেক ইস্যু আসবে বলে মনে করেন মেজবাহ কামাল। সে রকম একটি বিষয় এখানে (তারেকের পাসপোর্ট ইস্যু) হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করবেন এটা আমার মনে হয় না। কিন্তু তিনি বিদেশে বসে সক্রিয় রাজনীতি করছেন।  বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে কখনো কখনো পরিচালিত করতে চাইছেন। পৃথিবীর অনেক দেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বিভিন্ন দেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া একজন ব্যক্তি সেখানে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতে পারেন কি না সেটা কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের তলিয়ে দেখার ব্যাপার আছে।’

এ পর‌্যায়ে আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ। তারেকের পাসপোর্ট ইস্যুতে তিনি তার ব্যারিস্টার মেয়ে ও বিভিন্ন জনের মতামত ও নিজের ধারণার কথা তুলে ধরেন আলোচনায়। পাসপোর্টের সঙ্গে নাগরিকত্ব থাকা-না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।

এম এ আজিজ বলেন, ‘ধরুন এই মুহূর্তে আমার পাসপোর্টের মেয়াদ অতিক্রম হয়ে গেছে। তার মানে কি আমি নাগরিক নই। জন্মগতভাবে যে নাগরিক, তার নাগরিকত্ব যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় কি না সন্দেহ আছে।’

দেশে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনাই ছিল মুখ্য আলোচনা এ কথা উল্লেখ করে এম এ আজিজ বলেন, ‘কিন্তু প্রতিমন্ত্রী সাহেব এই কথাটা (পাসপোর্ট) বলে ফেলেছেন। বলার পরে বিতর্কটা আসছে। প্রতিমন্ত্রী যে ডকুমেন্টটা দেখিয়েছেন সেটা ২০১৪ সালের জুন মাসের। তারেক রহমান যেহেতু প্যারোলে গিয়েছেন, এ জন্য উনি পাসপোর্ট ওই দেশের হোম মিনিস্ট্রিতে জমা দিয়েছেন। হোম মিনিস্ট্রি বাংলাদেশের হাইকমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছে এটা সংরক্ষণ করার জন্য। কারণ পাসপোর্টটা এক্সপাইয়ার হয়ে গিয়েছিল।’

এম এ আজিজ বলেন, ‘উনি (তারেক) জানতেন পাসপোর্ট রিনিউ করা হবে না। যেহেতু এক্সপাইয়ার হয়ে গেছে, এর তো আর কোনো কার্যকারিতা নেই। পাসপোর্ট হলো ট্রাভেল ডকুমেন্ট, অন্য দেশে গেলে আমি কোন দেশের নাগরিক তার একটা দলিল।’

আমাদের সময় পত্রিকার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে তারেক রহমান ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। এম এ আজিজ বলেন, ‘কিন্তু তারেক রহমান সেখানে কীভাবে আছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়নি, বিএনপির পক্ষ থেকেও এটি পরিষ্কার করা হয়নি। যেহেতু উনি ওই দেশে আছেন, তিনি রাজনীতিবিদ, একটি বড় দলেরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন, নিশ্চয় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। পাকিস্তানের নওয়াজ শরীফও এভাবে ছিলেন।’

‘প্রশ্ন হলো ওনাকে (তারেক) যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়, ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ করাতে যে পদক্ষেপ নেয়া উচিত, সরকার কিন্তু এ পর্যন্ত সে রকম কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু মুখে বলে যাচ্ছে যেকোনোভাবে তারেক রহমানকে ফেরত আনবে। বাস্তবতা হলো ব্রিটেন সরকারের কোনো সুযোগ নেই তারেক রহমানকে দেশে ফেরত পাঠানো। সেটা পারে শুধু সে দেশের কোর্ট।

‘তবে তার জন্য কতগুলো শর্ত আছে।’ বলেন এম এ আজিজ, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে অথবা তার সাজার রায়ের কপি দিতে হবে। সরকারকে একটি অঙ্গীকারনামা দিতে হবে যে নতুন করে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়া যাবে না। তার কোনো ফাঁসির আদেশ দেয়া যাবে না। তাকে সর্বোচ্চ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এই ডকুমেন্টগুলো দিয়ে আবেদন করলে ওখানকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা কোর্টে রেফার করবে।

‘কোর্টে ফয়সালার পর যাবে হাইকোর্টে, তারপর সুপ্রিম কোর্টে, এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালতে যাবে। তারপর এটার শেষ। সরকার যদি এই পদক্ষেপে যায় তাহলে তারেক রহমান ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালতে আপিল করতে পারবেন।  

এম এ আজিজ বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডন যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই আমরা শুনতে পাচ্ছি সরকার বলছে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু এখানে দরখাস্ত করতে হয়। আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটা তার কাজ না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই দেশে আবেদন করবে। কিন্তু তারা আবেদনই করেনি, অথচ পলিটিক্যালি বক্তব্য চলছে। উভয় পক্ষ এই ইস্যুকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে।’

ইতিপূর্বে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড অ্যালার্টের বিষয়েও কথা বলেন সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ। ওই রেড অ্যালার্ট পরে তুলে নেয় আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। তিনি বলেন, ‘এটা হলো বিজ্ঞাপনের মতো। কাউকে গ্রেপ্তার করে আনা ইন্টারপোলের কাজ না। খামাখা একটা রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। আসলে ইন্টারপোলের কিছু করার নেই এ ব্যাপারে।’

তারেকের পাসপোর্ট ইস্যুতে এম এ আজিজ বলেন, ‘পাসপোর্টের সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু উনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি, আমাদের সরকার তাকে আনতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার জন্য যে প্রসেসে যেতে হয তারা সেদিকে এখনো যায়নি।’

 (ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/এমএবি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত