বাসে যৌন হয়রানি: পুলিশের কাছে আরও হয়রানি

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৪৫ | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৫২

রাজধানীতে আবার বাসে এক চাকরিজীবী নারীর যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি লালবাগ থানায় বিচার চাইতে গেলে সেখানে গিয়েও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এমনকি তাকে থানা থেকে বের করে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, যে যুবক তাকে লাঞ্ছিত করেছেন, পুলিশ তাকে বাঁচাতে মরিয়া ছিল। এর কোনো কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। এমনকি একজন পুলিশ সদস্য তাকে এমনও বলেন, নারীদের এগুলো মেনে নিয়েই চলতে হবে।

ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকাটাইমসকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে তিনি ও তার এক নারী সহকর্মী মোহাম্মদপুরের আসাদ গেট থেকে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। সামনের দিকে আসন ফাঁকা না থাকায় তারা দুজন পেছনের আসনে বসেছিলেন।

হঠাৎ পেছনে থেকে কয়েকজন যুবক তাদের উদ্দেশ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছুড়ে দেন। এ সময় প্রতিবাদ জানান দুই নারী। তখন বাসের পুরুষ যাত্রীরাও ওই যুবকদের পক্ষ নেয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন।

আজিমপুর পৌঁছলে বাস থেকে নেমে পুলিশকে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী এক নারী। এরপর লালবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মাজিদ বাস থেকে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে আজিমপুরের একটি দোকানের সামনে নিয়ে যান।

ওই নারী বলেন, তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশের কনস্টেবল বিশ্বনাথ বলেন, ‘নারীরা তো ইভটিজিংয়ের শিকার হবেই।’ এ সময় অভিযুক্ত ওই যুবক এএসআই মাজিদের সঙ্গে পাশে গিয়ে একান্তে কথা বলেন।

পরে এই পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে বলেন, ‘আপা, এটা নিয়ে আর বেশি দূর না যাওয়াই ভালো। আপনি মহিলা মানুষ, মামলা হলে সেটা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কষ্ট হবে।’

এরপর ওই যুবককে ‘সরি’ বলতে বলেন এএসআই মাজিদ। এরপর অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেন তিনি।

‘এরপর আমি ও আমার মা লালবাগ থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রুমে গিয়ে বিষয়টি বললে তিনি এএসআই মাজিদকে ডেকে পাঠান। পরে আসছি বলে আর ওসির রুমে না এলে আমরা ওসিকে বলি, আপনি থানার বড় কর্মকর্তা। আমাদেরও অনেক আত্মীয় আছে পুলিশে।’ ঢাকাটাইমসকে বলেন ভুক্তভোগী নারী।

“এই কথা বলতেই ওসি আমাদের ওপর ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘আপনাদের বড় অফিসার আছে সেখানে যান’, বলে তার রুম থেকে বের করে দেন।”

কোন কর্তৃত্ববলে অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়া ‘হয়রানিতে’ জড়িত যুবককে ছেড়ে দিয়েছেন- জানতে চাইলে এএসআই আব্দুল মাজিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি ও আমার ফোর্স সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করি। পরে স্থানীয়রা ও বাসের অন্য যাত্রীরা ওই নারীকে বলল, এটা নিয়ে আর বেশি দূর না গিয়ে যুবককে মাফ চাইতে। পরে ওই যুবক মাফ চাইলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

ওই নারী থানায় অভিযোগ দিতে চাইলেও কেন তা আমলে নেওয়া হলো না জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ চন্দ্র পাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঘটনার পর আমার অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে তারা থানায় এসেছিল। তবে তাদের ব্যবহার বা আচরণগত সমস্যা ছিল। স্থানীয় অনেকে বসে ছিলেন, তাদের কাছেও শুনতে পারেন।’ এসব বলে নিজের ও এএসআই মাজিদের পক্ষে সাফাই করেন ওসি সুভাষ।

ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/এসএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত