বিএনপির তিন দাবি নাকচ

এসপি হারুনকে প্রত্যাহারে যুক্তি পাচ্ছে না ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৩৫

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগে জেলার পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদকে প্রত্যাহারে বিএনপির দাবি পূরণে কোনো কারণ দেখছে না নির্বাচন কমিশন।

একইভাবে ভোটের সাত দিন আগে সেনা মোতায়েন এবং ভোটগ্রহণে ইলেকট্রিনক ভোটিং মেশিন তথা ইভিএম ব্যবহার না করার দাবিও মানেনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা মহানগরে ভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন।

গত ১৭ এপ্রিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বেশ কিছু দাবি জানিয়ে আসেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সেনা মোতায়েন, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে প্রত্যাহার।

গাজীপুরের এসপি হারুনুর রশীদের বিষয়ে বিএনপির আপত্তি পুরনো। ২০১১ সালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সে সময়ের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুককে পিটুনির ঘটনায় হারুন সেখানে ছিলেন। সে সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী উপকমিশনার ছিলেন।

ওই ঘটনার কিছুদিন পর হারুনের পদোন্নতি হয় এবং পরে তিনি গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পান। কোনো জেলায় এসপি হিসেবে এত বছর থাকা নিয়ে প্রশ্ন আছে বিএনপির।

দুই বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা অভিযোগের পর হারুনকে ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল প্রত্যাহার করে নির্বাচন কমিশন। পরে তাকে পুনর্বহাল করা হয়।

এসপি হারুনকে পক্ষপাতদুষ্ট মনে করে বিএনপি। তাদের ধারণা, তিনি দায়িত্বে থাকলে ভোটের আগে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করবেন। এ কারণে তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবি তুলছেন তারা।

ইভিএম নিয়ে বিএনপির আপত্তির কারণ সুদূরপ্রসারী। নির্বাচন কমিশন গত ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও পরীক্ষামূলকভাবে একটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করেছিল। আর গাজীপুর ও খুলনায় আরও বেশি কেন্দ্রে তারা এই যন্ত্র ব্যবহার করে ভোট নিতে চায়। কমিশন এই ইভিএমের ব্যবহারকে পরীক্ষামূলক হিসেবে দেখছে। বলছে, সিটি নির্বাচনে পরীক্ষা সফল হলে জাতীয় নির্বাচনেও তারা যন্ত্রটির ব্যবহার করবে।

কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি আছে বিএনপির। তাদের ধারণা, এই যন্ত্র ব্যবহার করে ভোটে কারচুপি করা সম্ভব। গত বছর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে এই বিষয়টি তুলে ধরে তারা।

আর ভোটের আগে সেনা মোতায়েন বিএনপির নিয়মিত দাবি। জাতীয় থেকে শুরু করে যত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিটিতেই বিএনপি এই দাবি জানিয়ে আসছে।

বিএনপির দুই দাবি সেনা মোতায়েন এবং ইভিএম ব্যবহার না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সেদিনই ‘না’ সূচক বক্তব্য জানিয়েছিল। আজকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিল তারা।

বেলা ১১ টা থেকে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবি-র্যা বের মহাপরিচালকসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা-গাজীপুরের প্রশাসন-পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানান সচিব হেলালুদ্দীন। গাজীপুরের এসপি হেলালুদ্দীনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসতে হবে। সেখানে তিনি (এসপি) অসহযোগিতা করছে কি না দেখতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা বা কেউ কোনো অসহযোগিতা করার রিপোর্ট আসেনি।

বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে কোনোভাবেই সেনা মোতায়েন করা হবে না-এ সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের।’

আর ইভিএম ব্যবহার না করার দাবির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘সল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।’

বিএনপির এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে দলটির আস্থা থাকবে কি না, এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, সেনা মোতায়েনের বিষয়ে বিএনপির দাবি অগ্রাহ্য করলে দলটির আস্থা থাকবে কি না-এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘কমিশনের প্রতি তাদের (বিএনপি) আস্থা রয়েছে বলেই সিটি নির্বাচনের ভোটে অংশ নিচ্ছে। আস্থা না থাকলে তারা তো এই নির্বাচনে আসত না।’

ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/জেআর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত