আ.লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকলে ‘খুশি’ ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:২১ | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৩৬
ফাইল ছবি

জনগণের ভোটে জিতে আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খুশি হবেন বলে জানিয়েছেন।

‘বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে আজীবন ক্ষমতায় রাখবে’ বলে দলের নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেছেন।

হানিফ তার আশাবাদের কথা তোলার পরদিন বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সভায় বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সভার আয়োজন করে ‘সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ।

এ সময় ফখরুল আগের দিন রাজধানীতে ছাত্রলীগের এক আয়োজনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল হানিফের একটি বক্তব্য নিয়ে কথা বলেন ফখরুল।

গুলিস্তানে কাজী বশির মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন বক্তব্যে হানিফ সেদিন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দুর্নীতি-হত্যার রাজনীতি এ দেশের জনগণ আর চায় না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে, জননেত্রী শেখ হাসিনা ততদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।’ 

এই বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আজীবন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক, আমরাও খুশি হব। কিন্তু জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসুন।’

‘জনগণকে নিয়ে আপনারা ক্ষমতায় আসুন, জনগণ ভোট দিক আপনাদেরকে। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনারা ক্ষমতায় আসুন, আমাদের কারও আপত্তি নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। আজকের এই সরকার বিনাভোটের সরকার। মানুষ তাদের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। বিচার বিভাগকে তারা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

কেন, কী কারণে খালেদা জিয়া এখন কারাগারে তা জানেন না ফখরুল। বলেন, ‘দেশনেত্রীকে আটকে রেখেছেন। কী অপরাধ তার? একটা মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়েছেন।’

বর্তমান সরকারকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরাজিত করার কথাও জানান ফখরুল।

তারেকের নাগরিকত্ব বিতর্ক ডেড ইস্যু

তারেক রহমানের নাগরিকত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নেরও জবাব দেন ফখরুল।

চার বছর আগে তারেক রহমানের বাংলাদেশের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে জমা দেয়ার ঘটনা ফাঁস হয়েছে সম্প্রতি। গত ২১ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যুক্তরাজ্যে বিষয়টি জানালে দুদিন পর সংবাদ সম্মেলন করে সেটি অস্বীকার করে বিএনপি।

তবে ২৩ এপ্রিল দেশে ফিরে শাহরিয়ার আলম তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেয়ার নথিপত্র দেখিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারই এই পাসপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে।

পরদিন মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলন করে প্রথমবারের মতো তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, তাদের নেতা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের জন্য এই কাজ করেছেন।

২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা তারেক রহমান যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন, সেটি এতদিন বিএনপি স্বীকার করেনি। তবে তারা এখন বিতর্কটা অন্য দিকে নিয়ে যেতে চাইছে।

প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রাখতে চাননি বলেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।

আর বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল এই ব্যাখ্যাকে অদ্ভুত, যুক্তিহীন ও বেআইনি’ বলেছেন।

এর মধ্যে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ রেজওয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পাসপোর্টের সঙ্গে নাগরিকত্বের সম্পর্ক নেই।

তবে তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দেয়ার ক্ষেত্রে কী কারণ দেখিয়েছেন, সেখানে নাগরিকত্ব ত্যাগের কোনো বিষয় আছে কি না- এসব প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, বিষয়গুলো তার জানা নেই।

মাসুদ রেজওয়ানের এই বক্তব্যের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘আমার তো কিছু বলার দরকার নেই, (পাসপোর্ট অধিদপ্তরের) ডিজিই তো সব বলে দিয়েছেন। আপনারা বারবার কেন এই বিষয়টি নিয়ে আসছেন আমি বুঝতে পারছি না।’

‘ইট ইজ অ্যা ডেড ইস্যু (এটি বিষয়টি শেষ)। এটা একটা ডেড ইস্যু এটা নিয়ে এখন আর কথা বলার কিছু নেই। সুতরাং এটা নিয়ে কথা বলে গণমাধ্যমের সময় নষ্ট করার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।’

(ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত