রাজশাহীতে শিশুর মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ২২:০১

রাজশাহী নগরীতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। চিকিৎসকের অভিযোগ, বাচ্চা মারা যাওয়ার পরে রোগীর স্বজনেরা তার দপ্তরের গিয়ে হামলা চালিয়েছেন।

আর রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, তারা বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। তাদের ছেলে ‘হত্যার’ বিচার চাওয়ার অপরাধে ছেলের মা-সহ তাদের পরিবারের ছয়জনকে মারধর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রাফি। বয়স ১০ মাস। বাড়ি নগরের দড়িখরবোনা এলাকায়। বিকাল পাঁচটার দিকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শিশুটি মারা যায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. সানাউল্লাহ শিশুটির চিকিৎসা দিয়েছিলেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার শিশুটিকে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আনা হয়েছিল। তিনি শিশুটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ভর্তি করাননি। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে আবার নিয়ে আসে। তখন শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। হাসপাতালে যাওয়ার পরে শিশুটি মারা গেছে। এখন তারা হাসপাতাল থেকে এসে তার চেম্বারে হামলা চালায়। এতে তিনি খানিকটা আহত হয়েছেন। অন্যান্য রোগীর স্বজনেরা এসে তাদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করেন।

পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির চাচা রনি ইসলাম, বাবা রানা, দাদা দুলাল, দাদি শরীফা বেগম, ফুপা সাজু, মা রোজিনা খাতুন রোগ নির্ণয় কেন্দ্রটির তৃতীয় তলায় সভাকক্ষে রয়েছেন। মৃত বাচ্চাটিকে একটি টেবিলের ওপরে শুইয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সবাই শিশুটিকে নিয়ে আহাজারি করছেন।

শিশুটির মা ও বাবা দুজনেই বলেন, বাচ্চা এখানে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক বাচ্চার মুখে গ্যাস দেন। তখনই বাচ্চা মারা যায়। তারপর চিকিৎসক বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলেন, বাচ্চা মারা গেছেন। চাচা রনি ইসলাম বলেন, হাসপাতাল থেকে এসে তারা চিকিৎসকের বিচার চাইতে গেলে তাদের পরিবারের সবাইকেই এই রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের লোকজন ব্যাপক মারধর করেছে। শিশুটির বাবা, চাচা ও দাদার গায়ের জামাকাপড় ছেঁড়া ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পুলিশ তখন তাদের ঘিরে রেখেছিল।

এ সময় রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসে। চিকিৎসক সানাউল্লাহ আবার রোগী দেখতে শুরু করেছেন। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক শামীম হোসেন জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে বসার  চেষ্টা করছেন। পরে কথা বলবেন।

রাত সোয়া আটটার দিকে শিশুটির চাচা রনি ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এতক্ষণ তারা রোগ নির্ণয় কেন্দ্রেই ছিলেন। এখন পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে তারা বাইরে এসেছেন। মামলা করার জন্য থানায় যাচ্ছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/আরআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত