‘বাংলাদেশে ৫২ শতাংশ নারী বাল্যবিয়ের শিকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০২ | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:০০

বাংলাদেশে ৫২ শতাংশ নারী বাল্যবিয়ের শিকার। আর বিশ্বে বাল্যবিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। একথা জানিয়ে এটাকে উদ্বেগজনক বলেছেন এক সেমিনারে বক্তারা। তারা বলেছেন, টেকসই উন্নয়নে বাল্যবিয়ে অন্যতম বাধা।

বৃহস্পতিবার ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারের আয়োজন করে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে “অপ্রাপ্ত বয়স্ক” অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বছর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বছর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো নারী।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে শৈশব থেকেই ছেলে ও মেয়ে শিশুদের মধ্যে অযাচিত দূরত্ব সৃষ্টি করার একটা প্রবণতা রয়েছে, যা তাদের বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বিকাশে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি প্রণীত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান প্রসঙ্গে সভা-সেমিনার হলেও জোরালো কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি, যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান অতিথি বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সরকার থেকে শুরু করে মসজিদের ইমাম পর্যন্ত সকলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড.  কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশে টেকসই উন্নয়নে বাল্যবিয়ে অন্যতম অন্তরায়। বিশ্বে বাল্যবিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে, পিকেএসএফ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নাসরীন আহমাদ বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে বিশেষ ক্ষেত্রে নারীদের আঠারো বছর বয়সের নিচে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন এ আইনের বৈধতা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান প্রণয়নে নারীদের মতামত কতোটুকু গ্রহণ করা হয়েছে?

পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৫২ শতাংশ নারী বাল্যবিয়ের শিকার, যা সামাজিক বঞ্চণার নির্দেশক এবং উন্নয়নের অন্তরায়। পিকেএসএফ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করেত নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হলো নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণ।

অনুষ্ঠানে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক  হোসনে আরা বেগমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) গোলাম তৌহিদ, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সামাজিক ক্ষেত্রে নানা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি হলেও বাল্যবিয়ে রোধের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। তবে সরাকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ এক রিপোর্টে জানিয়েছে, বাংলাদেশের চেয়ে বাল্যবিয়ের হার বেশি তিনটি দেশের। আফ্রিকা মহাদেশের দেশ নাইজার, সেন্ট্রাল আফ্রিকা রিপাবলিক এবং চাঁদ প্রজাতন্ত্র।

(ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/জেআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত