শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করতে নৌকায় ভোট চাই: দোলন

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:৫৪ | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারেন সে জন্য নোকায় ভোট চেয়েছেন কৃষক লীগের অন্যতম সহসভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আরিফুর রহমান দোলন। আর এ জন্য তিনি সবাই মিলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর বাজারে আলফাডাঙ্গা আদর্শ নাবিক কল্যাণ বহুমুখী সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশী দোলন বলেন, ‘বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার স্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি এ দেশের অর্থনীতির মুক্তির স্লোগানদাতা। আর এর বাস্তবায়ন করেছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা।’

দোলন বলেন, ‘আমরা এখানে যারা আছি আর নাই, সবাই মিলে যেন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে পারি। জঙ্গিবাদ, বিএনপি-জামায়াত আর কখনো যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখে গেছেন, যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখেছিলেন সে স্বপ্ন যেন শেখ হাসিনা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারেন।’

শেখ হাসিনার জন্য, নৌকার জন্য ভোট চেয়ে এই তরুণ নেতা বলেন, ‘এ ভোট উন্নয়নের জন্য। এ ভোট জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এ ভোট মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য।’

এর আগে ফরিদপুরের সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান  দোলন  তাদের অঞ্চলের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান এবং এ অঞ্চলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একজনের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি হলেন কাঞ্চন মুন্সী।

তরুণ এ নেতা বলেন, ‘আমার অনেক ভালো লাগে, যখন মনে হয় আমি ওই পরিবারে জন্ম নিয়েছি।’

কাঞ্চন মুন্সী আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রথম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে এ অঞ্চলের শিক্ষার আলোর বাতি জ্বালিয়েছিলেন। কাঞ্চন মুন্সীর অনেক স্বপ্ন ছিল, এ অঞ্চলকে তিনি গোটা ফরিদপুর অঞ্চলের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যে, কর্মসংস্থানে আরো আনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

সভায় দুজন শ্রমিক নেতার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে দোলন বলেন, ‘আজকে নাবিকরা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন, দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন।  নৌ সেক্টরে যে নাবিকরা কাজ করেন, তাদের মধ্যে  ফরিদপুর অঞ্চলের দক্ষ ও ভালো নাবিকের সংখ্যা বেশি। এর পেছনে ফরিদপুরের কৃতী সন্তান কাঞ্চন মুন্সীর অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি।

দোলন বলেন, ‘এখন আমরা আছি, উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আছেন, এর বাইরেও যারা আছেন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এ অঞ্চলের অগ্রগতির জন্য, উন্নয়নের জন্য কাজ করব।’

নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা যেন কোনোভাবেই রেষারেষির পর্যায়ে না যায় সেই তাগিদ দিয়ে তরুণ এই সমাজসেবক বলেন,  ‘আমরা ভালো কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যেন কাজ করি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

এ সময় ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময়ের সম্পাদক সারা দেশের পাশাপাশি তাদের এলাকার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার সারা দেশে যে উন্নয়ন করছে তা আমরা গোপালপুর বাজারে, কামারগ্রামে দেখতে পাই। সড়কপথে আলফাডাঙ্গার কামারগ্রাম গেলে দেখা যাবে কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের পাশে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্মাণ হচ্ছে।’

এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান দোলন। তিনি বলেন, ‘তাদের ঐকান্তিক ইচ্ছা, প্রচেষ্টা না হলে এটি নির্মাণ সম্ভব ছিল না।’

দোলন সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ রকম একটি উন্নয়নের কাজ করতে পারে, তাহলে সারা দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কত কী করতে পারে তা আপনারা বুঝতে পারছেন।’

এমন উন্নয়নের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখছেন এবং ভবিষ্যতে রাখার কথা বলেন কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। তবে মনিব হিসেবে নয়। আপনাদের সেবক হিসেবে, ভৃত্য হিসেবে কাজ করতে চাই। যারা জনপ্রতিনিধি হতে চান, আমি মনে করি জনপ্রতিনিধিরা হচ্ছেন জনগণের চাকর।’

দোলন বলেন, ‘এখানে আপনারা যারা জনপ্রতিনিধিরা আছেন, আপনারা কেউ দয়া করে আমার কথায় বিব্রত হবেন না। আমি জনপ্রতিনিধিদের দুঃখ দিয়ে কষ্ট দিয়ে কথা বলতে চাই না। কিন্তু এ জনগণের সেবা করার জন্যই হচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা।

রাজনীতিকে সমাজবেসার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করে কৃষক লীগের অন্যতম সহসভাপতি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা হচ্ছেন সবচেয়ে বড় সমাজসেবক। এ কথাগুলো যখন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অন্তরে, আমাদের মগজে থাকবে তখনই বেশি করে মানুষের সেবা, জনগণের সেবা, দেশের সেবা করা সম্ভব।’

এলাকার জনগণের কাছে তার জন্য দোয়া চেয়ে ফরিদপুর-১ আসনে নৌকার মনোনয়ন-প্রত্যাশী দোলন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হব কি হব না তা আল্লাহ ঠিক করবেন। আপনারা ভোট দেবেন। কিন্তু আমি ঠিক করেছি, আমি আপনাদের সেবক হতে চাই। সংসদ সদস্য হই আর না হই, আমি আপনাদের পাশে থাকব।’

এ সময় তিনি বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার কথা জানান। বলেন, ‘এখানে আমার পিতৃতুল্য হলেন সিরাজ চাচা। চাচার উপদেশ সন্তান মেনে চলবে। তার আদেশ-নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে।’

দোলন বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব। এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমাদের এমপি হওয়ার যে প্রতিযোগিতা সেটি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আমি অন্তত আমার পক্ষ থেকে এই অঙ্গীকার করছি। আমার লক্ষ্য হলো এ অঞ্চলের উন্নয়ন।’

ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময়ের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ব্যক্তিগতভাবেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত সমাজসেবার পরিধি বড় পরিসরে বাড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয় না একজন মানুষের পক্ষে। ফলে বৃহত্তর পরিবেশে সমাজসেবার জন্য সরকারি সহায়তা ও  ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার দরকার। তার জন্য প্রয়োজন জনপ্রতিনিধি হওয়া।

দোলন বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধির, একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের যে ক্ষমতা আছে, জেলা পরিষদ সদস্যের যে ক্ষমতা আছে কিংবা একজন এমপির যে ক্ষমতা আছে, সাধারণ মানুষ ও আমাদের সে ক্ষমতা নেই। তারপরও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে দপ্তরে দৌড়ে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। আমি মনে করি, আমরা যদি আরো ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে সেসব কাজ আরো বেশি করে করা সম্ভব। আমাদের কর্ম আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।’

এ সময় তিনি সবার সব ভালো কাজে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

মো. আলমগির হোসেন মাস্টারের সভাপতিত্বে  সভায় আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা কৃষক লীগের সদস্যসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খান বেলায়েত হোসেন, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন জাতীয় শ্রমিক লীগ গোপালপুর ইউপি শাখার সভাপতি হাসমত আলী কাজল।

(ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/ইএস/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত